দখল হয়ে যাচ্ছে কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি

রক্তরাগ, হাসনাহেনা, সাহারা, বুলবুলিস্তান, বিশ্বনবী, বনি আদমসহ অসংখ্য কাব্যগ্রন্থের স্রষ্টা, কবি গোলাম মোস্তফার বসতবাড়ির ২৪ শতাংশ জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ ইতিমধ্যে ওই জমিতে সীমানা-পিলার পুঁতে দিয়েছেন দখলদারের লোকজন। এই ২৪ শতাংশ জমির মধ্যে কবির থাকার ঘরের একাংশও পড়েছে৷
কবি গোলাম মোস্তফা ১৮৯৭ সালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবির চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বর্তমানে এক ছেলে ও এক মেয়ে বেঁচে আছেন। ছেলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা মনোয়ার ও মেয়ে রাশিদা হক বেঁচে আছেন। রাশিদা হক জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশাকার সৈয়দ মাইনুল হোসেনের মা।
মনোহরপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন জানান, কবি গোলাম মোস্তফা শুধু নন, তাঁর সন্তানেরাও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য ছিলেন। তাঁদের সবার জন্মস্থান আজ দখল করে নিচ্ছে এলাকার কয়েকজন দখলদার।
ওই গ্রামে প্রতিষ্ঠিত কবি গোলাম মোস্তফা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংগীতশিল্পী ফিরোজ খান নুন জানান, কবি গোলাম মোস্তফা ভারতের বালিগঞ্জ হাইস্কুল ও বাঁকুড়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় ১৯৫০ সালে অবসর নেন৷ কবির তৈরি এই বাড়িতেই ১৯৬৪ সালে মারা যান তিনি।
কবির মেয়ে রাশিদা হক বলেন, ‘সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ীও ওই ২৪ শতাংশ জমি আমাদের৷ এই বাড়িতে আমার পিতার অনেক স্মৃতি রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, তাঁদের পরিবার চেয়েছিল বাড়িটি কবির স্মৃতি হিসেবে টিকে থাক। কিন্তু হঠাৎ করে বাড়ির জায়গা দখল শুরু হয়েছে। যাঁরা এখন ওই জমি তাঁদের বলে দাবি করছেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা কখনো ওই জমি তাঁদের দাবি করেননি৷
সদর উদ্দিনের ছেলে জিহাদ মিয়া দাবি করেন, তাঁরা রেকর্ডে দেখছেন জমি তাঁদের৷ তাই দখল নিচ্ছেন৷
ইউএনও মোহাম্মদ আলী জানান, দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দখলদারদের সীমানা-পিলার পুঁতে রাখার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নেবেন৷