উসকানি দেওয়ার অভিযোগ

দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচারবন্ধ

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

গত রোববার রাত আড়াইটা থেকে ইসলামিক টিভি এবং গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে চারটা থেকে দিগন্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, দিগন্ত টেলিভিশনসহ দু-একটি টেলিভিশন দায়িত্বশীলতার বদলে ঘটনাকে উসকে দিয়েছে। এসব চ্যানেল বিদ্বেষ ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে চরম অপরাধ করেছে। তাই তথ্য মন্ত্রণালয় বাধ্য হয়ে প্রচলিত আইনে এ ধরনের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইনু আরও বলেন, এটি সাময়িক ব্যবস্থা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একই বিষয়ে বিটিআরসির স্পেকট্রাম পরিচালক কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে সাময়িকভাবে দুটি বেসরকারি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে। চ্যানেল দুটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে টেলিযোগাযোগ আইনের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই দুই চ্যানেলের বিরুদ্ধে প্রচারণা অনাপত্তি পত্রের শর্ত নম্বর ৬ ও ৯, সংবাদ প্রচারের শর্ত নম্বর ৩ ও ৪, সেনসর বিধির দুই নম্বর অনুচ্ছেদের গ, ঙ, চ, ঞ এবং ট এর বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে দিগন্ত টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক জিয়াউল কবির সুমন প্রথম আলোকে বলেন, ভোর সোয়া চারটায় বিটিআরসির পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জনের গোয়েন্দা পুলিশের দল এসে ‘সরকারি উচ্চপর্যায়ের’ বরাত দিয়ে টিভির সম্প্রচার সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেন। তাঁরা দিগন্তের সম্প্রচার যন্ত্র জব্দসহ প্রডাকশন কন্ট্রোল রুম, মাস্টার কন্ট্রোল রুম সিলগালা করে দেয়।

দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দিগন্ত টেলিভিশন। এর চেয়ারম্যান যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াতের নেতা মীর কাসেম আলী।

ইসলামিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক এ বি এম সাদ বিন রাবি অভিযোগ করেন, রোববার দিবাগত রাত পৌনে দুইটায় প্রায় ৭০ জন পুলিশ ও অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় ৯০ জন সরকারদলীয় কর্মী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাঁদের হাতে গেট ভাঙার সরঞ্জামও ছিল। তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করে বেশ কিছু দামি সম্প্রচার যন্ত্র ও হার্ডডিস্ক ভাঙচুর করেন। এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ক্যামেরাম্যান ও নিউজ প্রেজেন্টাররা ভয়ে পেছনের দরজা দিয়ে চলে যান। রাত আড়াইটা থেকে ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে।

ইসলামিক টেলিভিশনের মূল মালিক হচ্ছেন বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ এস্কান্দার। এখন তাঁর ছেলে শামস এস্কান্দার প্রতিষ্ঠানটি দেখাশোনা করছেন।

জামায়াত-বিএনপি জোটসংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত এই দুই বেসরকারি টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদকেরা প্রথম আলোকে জানান, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাতটা) বিটিআরসির পক্ষ থেকে সম্প্রচার বন্ধসংক্রান্ত কোনো ধরনের নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক চিঠি তাঁরা হাতে পাননি।

এরশাদের প্রতিবাদ: দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

উদ্বেগ প্রকাশ করে এরশাদ বলেন, এ দুটি চ্যানেল যদি আইন পরিপন্থী কাজ করে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আক্রোশের বশে কোনো মিডিয়া বন্ধ করা গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য হতে পারে না।

বিবৃতিতে এরশাদ হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচির সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন