সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ড

দীপঙ্করকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর: পুলিশ

বিজ্ঞাপন
default-image

সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। আজ মঙ্গলবার বগুড়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে দীপঙ্কর হত্যাকাণ্ডে জাহাঙ্গীরের জড়িত থাকার বিষয়ে এই তথ্য দেন পুলিশ সুপার মো. আসদুজ্জামান।

দীপঙ্কর চক্রবর্তীর পরিবারের পক্ষ থেকে জবানবন্দি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, এই রাজীব গান্ধী গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।

২০০৪ সালের ৩ অক্টোবর বগুড়ার দৈনিক দুর্জয় বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িতে ফেরার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে পার্থ সারথি চক্রবর্তী বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা করেন। এরপর চার দফা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্য সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বগুড়ার জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে পুনঃ তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

হলি আর্টিজানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী সম্প্রতি টাঙ্গাইলে গ্রেপ্তার হন। এরপর বগুড়ার পুলিশ তাঁকে দুটি জঙ্গি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেন। চার দফা ২৮ দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এর মধ্যে ৬ মার্চ বগুড়ার বিচারিক হাকিম আদালত (শেরপুর) আহসান হাবীবের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশের ভাষ্য, জবানবন্দিতে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, জেএমবির তৎকালীন সুরা সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা আবদুল আউয়ালের নির্দেশেই দীপঙ্করকে খুনের পরিকল্পনা করে জেমএবি। বাংলা ভাই ও জেমএবি তৎপরতা সম্পর্কে দীপঙ্কর চক্রবর্তীর পত্রিকায় লেখালেখির বিষয়টি তাঁর খুনের কারণ। লেখালেখিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলা ভাইয়ের নির্দেশে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় জেএমবি।

জাহাঙ্গীর তাঁর স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, ২০০১ সালে তিনি জেএমবিতে যোগ দেন। ২০০৪ সালে তিনি জেএমবির সদস্য সায়োরার জাহান মানিকের (আশুলিয়ায় নিহত) নির্দেশে হিজরত করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে সিরাজগঞ্জ যান। তাঁকে একটি মেসে রাখা হয়। সেখানে তিনি অন্য জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন। দুই মাসের মাথায় তাঁর বগুড়ায় অপারেশনের ডাক পড়ে। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বগুড়া শহরের সরকারি আজিজুল হক কলেজের পেছন দিকে এক আস্তানায় আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে নুরুল্লাহ, সানাউল্লাহসহ ১০-১২ জন জঙ্গির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরদিন সেখানে জেএমবির অপারেশন কমান্ডার আবদুল আউয়াল আসেন। তাঁর নেতৃত্বে দীপঙ্কর হত্যাসংক্রান্ত বৈঠক হয়। সে মোতাবেক দিনের বেলা শেরপুর রেকি করা হয়। তিনি মানুষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দীপঙ্করের ওপর হামলার পর তাঁরা আবার জঙ্গি আস্তানায় ফেরত যান।

দীপঙ্কর চক্রবর্তীর আরেক ছেলে অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড ঘটার পর থেকে তদন্তে একটা দায়সারা ভাব দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার এত বছর পরও সুষ্ঠু তদন্ত করেনি। বিভিন্ন সময় তারা ঘটনাটি জঙ্গিরা ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তাই এ জবানবন্দি কতটুকু সঠিক, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। পুলিশের আগের অনুমানকে সঠিক প্রমাণের জন্য এটি করা হলো কি না, সে জিজ্ঞাসা আছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন