বিজ্ঞাপন
default-image

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের বিচার এবং তাঁর মুক্তির দাবিতে আজ বিকেলে সাড়ে চারটায় মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রথম আলোর সাংবাদিক, বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মীরা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনের নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ আগে থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজেই সহকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। তাঁদের হাতে ‘বিপন্ন সাংবাদিকতা, কাঁদছে দেশ’, ‘রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাই’, ‘স্বাধীন দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম চাই’, ‘সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ কী’, ‘সাংবাদিকতা অপরাধ নয়’, ‘সাংবাদিকতাসংশ্লিষ্ট কালো আইন বাতিল চাই’, ‘বাকস্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা পোস্টার ছিল।

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, রোজিনা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করছেন। তাঁর সুনাম দেশে ও দেশের বাইরে। সাংবাদিকতার জন্য বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সাংবাদিকতার মূল শক্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। তিনি অনেক কিছু উন্মোচন করেছেন এবং তাঁর প্রতিবেদন ধরে সরকার সংশোধনমূলক পদক্ষেপও নিয়েছে।

সাজ্জাদ শরিফ আরও বলেন, করোনার কারণে জনস্বাস্থ্য খাত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে রিপোর্ট করছিলেন। এসব রিপোর্টের কারণে যারা বিক্ষুব্ধ হয়েছে, তাদের আক্রোশের শিকার হয়েছেন রোজিনা ইসলাম। তাঁকে যেভাবে সচিবালয়ে আটকে রাখা হয়েছে, সেটার কোনো কারণ ছিল না।

default-image

রোজিনা ইসলামের বিষয়টি আইনের পথেই মোকাবিলা করা হবে বলে জানান সাজ্জাদ শরিফ। তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতের প্রতি আস্থাশীল যে আমরা ন্যায়বিচার পাব। রোজিনা ইসলাম একজন সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কোনো অন্যায় করতে যাননি। তাঁর সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে মানুষ উপকৃত হয়েছে, সাংবাদিকতা উপকৃত হয়েছে, দেশ উপকৃত হয়েছে।’

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘দেশের সংবিধানে বাকস্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল অ্যাক্টসহ যেসব আইন হয়েছে, সেগুলো রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যে বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জন করেছি, তার সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক। এগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করেছে।’

default-image

রোজিনা ইসলামের নামে করা মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানান প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘এটি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরেও হতে পারে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও হতে পারে। আজ রিমান্ডের আবেদন না করলে আমরা রোজিনার জামিনও পেতে পারতাম। একজন নাগরিক হিসেবে আমরা মনে করি, রোজিনার বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা মামলা। রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চাই, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চাই এবং তাঁকে অপদস্থকারীদের তদন্ত ও দায়ীদের বিচার চাই।’

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীরা সারা বিশ্বের সামনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘যারা রোজিনাকে হেনস্তা করেছে, আটকে রেখেছ, তারা সরকারের ভালো করেনি। তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেনি। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সারা বিশ্ব দেখছে, এই দেশটি সাংবাদিক নিপীড়নকারী দেশ এবং গণমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে এমন একটি দেশ। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা চাই, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রাষ্ট্রের জন্য, সরকারের জন্য এবং সুশাসনের জন্য দরকার।’

আনিসুল হক বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সবাই রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাচ্ছেন। জনগণের মনের কথা সরকারের পড়তে পারা উচিত। রোজিনা ইসলামের মুক্তির বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ চাই।’

মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও অংশ নেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী মানববন্ধনে বলেন, রোজিনা ইসলামের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে থামাতে পরিকল্পিতভাবে সাজানো নাটক করা হয়েছে। রোজিনা ইসলামের এই ঘটনা সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা কি না, সেটি তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন