দেশের নির্মাণশিল্পের সমস্যা ও প্রতিকার

২১ মে ২০১৬, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘দেশের নির্মাণশিল্পের সমস্যা ও প্রতিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশ হলো।

.
.


আলোচনা 

আব্দুল কাইয়ুম: নির্মাণশিল্পের সমস্যা ও সমাধানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভবনগুলো ভূমিকম্প–সহনীয় কি না? ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং অন্যান্য অবকাঠামো মানুষের জীবন ও সম্পদ ধ্বংস করতে পারে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রড, সিমেন্ট, ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী মানসম্মত কি না, সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে নির্মাণকাজে প্রকৌশলী ও স্থপতিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ি নির্মাণ করার সময় রাজউকের বিধিবিধান সঠিকভাবে মানা হয় না। নির্মাণশিল্পের এসব সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে ভূমিকম্পে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই যায়। এসবই আজকের আলোচনার বিষয়। এখন আলোচনা করবেন নজরুল ইসলাম

নজরুল ইসলাম
নজরুল ইসলাম

নজরুল ইসলাম: নির্মাণ নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও দুশ্চিন্তা—দুটোই আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। শহরের ৭০ শতাংশ বাড়িই আধা পাকা ও কাঁচা। মাত্র ৩০ শতাংশ পাকা বাড়ি। এটা নিয়েই আমরা চিন্তিত।
সরকারের দিক থেকে ভবন নির্মাণের বিধিবিধান, নীতি, আইন—সবই আছে। এগুলো মানলে আর কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। মূল বিষয় হচ্ছে কতটুকু মানা হচ্ছে? নিয়মকানুন মানার ব্যাপারে ভয়াবহ ঘাটতি আছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যতটুকু জায়গা উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন, প্রায় কেউই সেটা রাখছেন না। আবার রাজউকও এসব ঠিকভাবে তদারক করতে পারছে না। এসব বিষয় দেখা দরকার।
জনবহুল নগের উঁচু ভবন হতেই পারে। দেশে বোধ হয় সর্বোচ্চ ৩৮ তলা ভবন আছে। ৪০ তলা এখনো হয়নি। দুই সিটি করপোরেশনে লোকসংখ্যা হয়তো এক কোটি হবে। আগে আয়তন ছিল ১৪০ বর্গকিলোমিটার, এখন আরও ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হলে আয়তন হবে ৩০০ বর্গকিলোমিটার। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩৩ হাজারের বেশি।
ব্যাংকক, হংকং ইত্যাদি জনবহুল শহরে ৪০ থেকে ৫০ তলা ভবন আছে। আমাদেরও হয়তো উঁচু ভবন তৈরির প্রয়োজন হবে। সব ক্ষেত্রেই নির্মাণ বিধিমালা সঠিকভাবে প্রয়োগ ও নির্মাণসামগ্রীর মানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব বিষয় নিয়ে অবশ্যই গবেষণা হওয়া উচিত।
উঁচু ভবন হয়তো আমাদের করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে এর সামাজিক ও প্রযুক্তিগত—দুই ধরনের গবেষণার প্রয়োজন।

রায়হানুল ফেরদৌস
রায়হানুল ফেরদৌস

রায়হানুল ফেরদৌস: রাজউক প্রধান তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করে—পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরিকল্পনা ঠিক করি। হাতিরঝিল প্রকল্পের উন্নয়ন করেছে রাজউক। বর্তমানে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে ৬ হাজার ৬৩৬িট ফ্ল্যাট তৈরি করছি।
রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বেশি আলোচিত হয়। অনেকেই এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলে থাকেন। এ কথা সত্যি যে আমরা শতভাগ সফল হতে পারিনি। এর কারণ মাঠপর্যায়ে আমাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই।
মানুষের মানসিকতা এমন যে প্রায় সবাই আইনকানুনের ব্যত্যয় ঘটাতে চায়। আমরা হাতিরঝিলে একটা ম্যানেজমেন্ট ইউনিট ভবন করব। স্কুলের শিক্ষার্থীদের এটা দেখানো হবে। এটা দেখে তারা যেন বাবা-মাকে প্রশ্ন করতে পারে, কোথায় তাদের অভিভাবকেরা অনিয়ম করেছেন।
রাজউকের জনবলের সমস্যা কিন্তু পুরোনো। সবাই এটা জানার পরও এর কোনো সমাধান হচ্ছে না। আইন প্রয়োগের যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি মানুষের একটা সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রয়োজন আছে।
কোনো পরিদর্শক দেখবেন কি দেখবেন না, এটা বড় কথা নয়। মূল বিষয় হলো, একজন মানুষ তার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যেভাবে প্ল্যান পাস করা হয়েছে, কাজটি সেভাবে করবে।
রাজউকের পরিদর্শন শুধু ভবনের প্ল্যান অনুযায়ী খোলা জায়গা রাখা হয়েছে কি না, সেটাই দেখে। নির্মাণসামগ্রী ও নির্মাণের প্রযুক্তিগত দিকগুলো দেখে না। এটা দেখার মতো দক্ষতা পরিদর্শকদের থাকে না। সবাইকে নিজ থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

মেহেদি হাসান আনসারি
মেহেদি হাসান আনসারি

মেহেদি হাসান আনসারি: ভবন নির্মাণের বিভিন্ন দিক তদারকের সক্ষমতা রাজউকের নেই। আর এটা আসলে তাদের মানবসম্পদ বাড়িয়েও হবে না। রানা প্লাজা ধসের পর জামিলুর রেজা চৌধুরীেক প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছিল। এ কমিটির সিদ্ধান্ত হলো রাজউক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তদারকের কাজ করবে।
এ ব্যাপারে রাজউক তিনবার বিজ্ঞাপন দিয়েছে। গত মাসে আমরা একটা সভা করে এর চূড়ান্ত রূপ দিয়েছি। রানা প্লাজার পর এনবিএল টাওয়ারের ভূমিধস হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা ঠিক করেছি নকশা, নির্মাণ ও তদারক—প্রতিষ্ঠান তিনটি এ কাজ করবে।
নকশা অনুযায়ী নির্মাণপ্রতিষ্ঠান কাজ করছে কি না, তদারক প্রতিষ্ঠান সেটা প্রতি ধাপে তদারক করবে। তদারক বিভাগের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকতে হবে। যেমন নির্মাণে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের মান যাচাইয়ের সক্ষমতা, জিও টেকনিক্যাল জ্ঞান, নির্মাণ জ্ঞান ইত্যাদি।
সবকিছু যাচাই–বাছাই করে তারা সনদ দেবে। এ কাজটি হবে শুধু ১০ তলা ভবনের ক্ষেত্রে। আমাদের অসংখ্য আইন আছে। কিন্তু আইনের কি বাস্তবায়ন আছে? ঢাকা মহানগরের ১ হাজার ৫৩০ বর্গকিলোমিটার রাজউকের আওতাধীন। এখানে ১২ লাখ হাউজিং ইউনিট আছে। রাজউক প্রতিবছর চার হাজার হাউজিং ইউনিটের ছাড়পত্র দেয়।
ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করা আছে। প্রতি জোনের জন্য তদারক বিভাগ থাকবে। রানা প্লাজা ধসের পর ৩ হাজার ৫০০ ভবন পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
কোনো ভবনের প্রধান উপাদান সাধারণত খোয়া, বালু, সিমেন্ট, রড। খোয়া দুই প্রকার। একটি পাথরের, আরেকটি ইটের। দুই ধরনের খোয়ারই ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ পিএসআই থাকার কথা। কিন্তু আমরা পাথরের খোয়ার সর্বোচ্চ পিএসআই ২ হাজার ৩০০ এবং ইটের খোয়ার ক্ষেত্রে ২ হাজারের বেশি পিএসআই পাইনি।
এমন আরও বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এ ভবনগুলোকে রেড, অরেঞ্জ, ইয়েলো ও গ্রিন—এই চার ভাগে ভাগ করে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেড বিল্ডিংগুলো কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে না। এসব থেকে বোঝা যায় যে সম্পূর্ণ নিয়মকানুন মেনেই ভবন নির্মাণ করতে হবে।

এ মজিদ চৌধুরী
এ মজিদ চৌধুরী

এ মজিদ চৌধুরী: যেকোনো স্থাপনার গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে নির্মাণ উপকরণ, বিশেষ করে ইট, পাথর, সিমেন্ট ও রডের গুণগত মানের ওপর। এর মধ্যে সিমেন্ট একটি সংবেদনশীল উপাদান। ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার, কংক্রিট—সব জায়গায় সিমেন্টের প্রয়োজন।
দেশে প্রায় ৩৮টি সিমেন্টের কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় আন্তর্জাতিক মানের সিমেন্ট তৈরি হয়। দেশের চাহিদা পূরণ করে সিমেন্ট এখন বিদেশেও রপ্তানি হয়। আমাদের রয়েছে আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা।
প্রায় সব স্থাপনায় কংক্রিট একটি বিরাট অংশ। দেশে তৈরি সিমেন্টের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কংক্রিট তৈরিতে ব্যবহার হয়। কংক্রিটের শক্তি নির্ভর করে মিক্স ডিজাইন, সিমেন্ট, পাথর ও বালির গুণগত মানের ওপর।
ঢাকার স্থাপনা তৈরি করতে সাধারণত রেডিমিক্স কংক্রিট ব্যবহৃত হয়। এই কংক্রিট তৈরি থেকে সাইটে ব্যবহার করার আগ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ঢাকার যানজটের কারণে এ সময়টি ঠিক রাখা যায় না। তাই ঢাকায় কংক্রিট মিক্স ডিজাইনের সময় এ বিষয়টি যথাযথভাবে মনে রাখতে হবে।
সরকারের বড় বড় প্রকল্প পেশাদার প্রকৌশলী দিয়ে তদারক করা হয়। কিন্তু ঢাকার বাইরে সাধারণত ছোট স্থাপনার ক্ষেত্রে প্রকৌশলী থাকেন না। তাই ঢাকার বাইরের সমস্যা ঢাকা থেকে আলাদা।
সিমেন্ট ব্যবহারের পর বেশ কিছুদিন এর কিউরিং ও অন্যান্য কিছু বিধি মেনে চলতে হয়। এটা ঠিকভাবে না হলে কংক্রিটের শক্তি অনেক কমে যায়। তাই ক্রাউন সিমেন্ট ঢাকার বাইরে নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বছরব্যাপী কর্মশালা করছে।
সিমেন্ট পরিবহন একটি বিশেষ সমস্যা। বর্তমান সরকার ব্যাপকভাবে উন্নয়নকাজ করছে। তাই ভবিষ্যতে পরিবহনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যার কথা ভেবে আমরা নদীপথে সিমেন্ট পরিবহনের জন্য একটি প্রকল্পের ওপর কাজ করছি। আশা করি খুব শিগগিরই নদীপথে একটি আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।
সিমেন্টের ব্যাগে সিমেন্ট ব্র্যান্ড, সিমেন্টের ধরন ও উৎপাদনের সময় উল্লেখ থাকে। সিমেন্ট ক্রয়ের আগে এসব বিষয়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
সুষ্ঠু পরিবহন, সঠিক সংরক্ষণ, ব্যবহারকারীর সচেতনতা স্থাপনা তৈরির সমস্যা অনেকাংশে লাঘব করবে বলে আশা করি।

মো. নুরুল্লাহ
মো. নুরুল্লাহ

মো. নুরুল্লাহ: সবকিছুর মূলে রয়েছে পরিকল্পনা। কাগজে-কলমে আমাদের পরিকল্পনা ঠিক থাকে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগের অভাব রয়েছে।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিশ্লেষণে এসেছে, ডিএমডিপির ২৩টি নীতিমালা প্রয়োগই হয়নি। আটটির আংশিক হয়েছে। এই যে নীতিমালাগুলো প্রয়োগ হলো না, কাদের জন্য হলো না, এটা নিয়ে কাজ করা হয়নি।
রাজউকের ২০০৮ সালের নীতিমালায় কতটুকু জায়গা উন্মুক্ত রাখবে, এ বিষয়ে বিশদ বলা আছে। কিন্তু যিনি নির্মাণ করবেন, তিনি কীভাবে নির্মাণ করবেন, নির্মাণসামগ্রীর মান কী হবে, ভবনের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তেমন উল্লেখ নেই।
ঢাকা শহরে যাঁরা বাড়ি বানান, তাঁরা রাজমিস্ত্রির ওপর নির্ভর করেন। তাঁরা জানেন না, কোন কোন উপকরণ কোথায় পরীক্ষা করবেন। রাজউকের সংশোধিত নীতিমালায় এ বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।
সরকারের ভালো ভালো কৌশলগত পরিকল্পনা আছে। নীতিমালা করে মন্ত্রণালয়। নীতিমালা প্রয়োগ করে বিভিন্ন এজেন্সি। এ জায়গাগুলোতে অনেক ফাঁকফোকর আছে। আমাদের এলজিইডিতে (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ) নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষার জন্য গবেষণাগার আছে। আমাদের গাইডলাইন অনুসারে টেকনিশিয়ান, রাজমিস্ত্রি, কন্ট্রাক্টর—সবার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে।
দেশে ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩২৪টি পৌরসভা আছে। এসব জায়গায় নির্মাণকাজের মাননিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রতিটি কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই।

ইশরাত ইসলাম
ইশরাত ইসলাম

ইশরাত ইসলাম: নির্মাণশিল্পের বিষয়টি শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, গ্রামে প্রচুর রেমিট্যান্সের অর্থ আসছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্মাণ গ্রামেও হচ্ছে। ফলে নির্মাণশিল্প এবং এর উপকরণের বিষয়টি সারা দেশের আলোকে ভাবতে হবে।
আমরা সবই জানি, নীতিমালা ও আইনের চরম ব্যত্যয় ঘটে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সক্ষমতা ও জনবলের কথা বলা হয়। সক্ষমতা ও জনবলের থেকে প্রধান বিষয় হলো সততা। সক্ষমতার বিষয় যদি ১০ ভাগ থাকে, সততার অভাব থাকে ৯০ ভাগ।
শুরুতেই অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ডোবা ও নিচু এলাকায় বাড়ি করে। এটা কীভাবে সম্ভব? একজন মানুষ শুরুই করল ঝুঁকি নিয়ে, ফলে এই ঝুঁকি কখেনা শেষ হবে না।
আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তারা যদি অসৎ হই, অক্ষম হই, তাহলে এ দায়িত্ব এড়াতে পারব না। যেসব প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্বে আছে, তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং এর জন্য যা যা প্রয়োজন, সেসব করতে হবে।
উত্তরায় তৃতীয় ধাপে রাজউক যেভাবে জলাভূমি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেছে, এ দায়িত্ব তারা এড়াতে পারবে না। কোনো একটা সাইটে যখন নির্মাণকাজ হয়, তখন নিরাপত্তার একটা ইস্যু থাকে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় এসব তেমনভাবে নেই। সারা বিশ্বে নির্মাণশিল্পের নিরাপত্তার বিষয়টি যেভাবে দেখা হয়, আমরা সেভাবে দেখি না। আমাদের দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্যসামগ্রী ব্যবহার করা উচিত। শীতপ্রধান দেশের মতো আমাদের এখানে থাই গ্লাসের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। থাই গ্লাসে অর্ধেক জানালা খোলা যায়। পর্যাপ্ত আলো–বাতাস পাওয়া যায় না। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সবশেষে বলতে চাই, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা জরুরি।

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম
মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম: নিরাপত্তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—ভবন নির্মাণকালে নিরাপত্তা ও ভবনের নিরাপত্তা। নির্মাণশ্রমিকেরা এমন পরিবেশ ও এমন কিছু উপকরণ ব্যবহার করেন, যাতে এ ক্ষেত্রে তাঁদের নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়।
নির্মাণশ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য যে পোশাক, হেলমেট, জুতা দেওয়া হয়, তাঁরা সেটা ব্যবহার করতে চান না। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বাধ্য করতে হয়। এটা একটা সমস্যা। পথচারী ও অন্যান্য বিষয়ের নিরাপত্তার জন্য নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশে নেট দেওয়া প্রয়োজন।
স্থাপত্যের নকশা ঠিকমতো অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটা দেখা হয়। কিন্তু স্ট্রাকচারাল নকশা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেটা দেখা হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান এটা তাদের নিজ দায়িত্বে করে থাকে।
উপকরণের মান, নিয়মকানুন অনুসরণ করে ভবন তৈরি করলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তখন আবার ফ্ল্যাটের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন আসে। আসলে ভালো মানসম্মত ভবন তৈরি করতে গেলে ফ্ল্যাটের দাম বাড়বেই।
এ জন্য অনেকে পণ্যের মান ঠিকমতো অনুসরণ করেন না। আবার ব্যক্তিমালিকানায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পণ্যের মান ভালো হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা প্রফেশনালদের রাখেন না। এসব ক্ষেত্রে ভবনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
আজকাল যে কেউ লাইসেন্স নিয়ে ভবন নির্মাণ শুরু করছেন। দক্ষতা ও যোগ্যতা বিচার করে সনদ দেওয়া উচিত। এর মধ্যে আবার শ্রেণিবিভাগ থাকা উচিত, কারা উঁচু ভবন করবেন, কারা সাধারণ ভবন করবেন।
বাংলাদেশে ফ্ল্যাটের দাম কমানো সম্ভব বলে মনে হয় না। কারণ, জমি থেকে শুরু করে কোনো কিছুই ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের নিজের নয়। কোনো পণ্যের মূল্যের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তার ওপর ঋণের সুদ বেশি। রেজিস্ট্রেশন খরচ বেশি—এমন অনেক সমস্যা রয়েছে। সবকিছুর জন্য দরকার একটা সমন্বিত উদ্যোগ।

মো. আলী আকবর মল্লিক
মো. আলী আকবর মল্লিক

মো. আলী আকবর মল্লিক: একটি স্থাপনা নির্মাণে তিনটি পক্ষ থাকে। ক্লায়েন্ট, কন্ট্রাক্টর ও কনসালট্যান্ট। কনসালট্যান্টের কাজ হলো স্থাপনাটির সম্পূর্ণ নকশা ও নির্মাণ তদারক করা।
বাংলাদেশে বড় প্রকল্প যেমন সেতু, এলিভেটেড ওয়ে, উড়ালসড়ক ইত্যাদি বিদেশি অর্থায়নে নির্মিত স্থাপনার ক্ষেত্রে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হলেও ভবন নির্মাণে করা হয় না।
ভবন নির্মাণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রিেয়ল এস্টেট ডেভেলপার দ্বারা হচ্ছে; যারা নকশা, নির্মাণ ও তদারকের কাজ নিজেরাই করছে।
ভবনকে দুই ভাগে ভাগ করতে চাই; যা ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে আছে এবং যা ভবিষ্যতে তৈরি হবে। তৈরি হওয়া আবাসিক ভবনে অন্যতম ত্রুটি হয়ে আছে কার পার্কিং তলাটির দুর্বলতা, যাকে প্রকৌশলের ভাষায় সফট স্টোরি বলা হয়।
এ তলাটি সর্বনিম্ন হওয়াতে ভূমিকম্পের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি পার্শ্বশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে একটি কলামের সঙ্গে আরেকটি কলাম যুক্ত থাকা প্রয়োজন। এ জন্য আরসিসি ঢালাই বা শেয়ার ওয়ালের মাধ্যমে কলামগুলো যুক্ত থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু কার পার্কিংয়ের তলায় এটা একেবারেই দেখা যায় যায় না। এখন তৈরি হওয়া ভবনে কারপার্কিং তলার সমস্যা কতটুকু, সেটা নিরূপণ করা প্রয়োজন। এর ভিত্তিতে এ তলাটিকে শক্তিশালী করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কলাম জ্যাকেটিং, আরসিসি উইং ওয়াল, শেয়ার ওয়াল ইত্যাদি নির্মাণ করা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনায় সফট স্টোরি সমস্যা, ফ্ল্যাটপ্লেট সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তারপর এমন একজন কাঠামো প্রকৌশলী ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকবেন, যাঁর বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও ডিজাইন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকবে।
স্থপতি ও কাঠামো প্রকৌশলী যা করলেন, রাজউকের মাধ্যমে তার কাউন্টার চেক করা প্রয়োজন। কিন্তু লোকবলের সংকটের জন্য রাজউক এটা করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে ঢাকা শহরকে ছোট ছোট কয়েকটি জোনে ভাগ করে টেন্ডারের মাধ্যমে রাজউক জোনভিত্তিক কনসালট্যান্ট নিয়োগ করতে পারে।
তবে কনসালট্যান্টদের যোগ্য স্থপতি ও প্রকৌশলী থাকতে হবে। সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বর্তমানে একটি ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুট যে দামে বিক্রি হয় এর সঙ্গে খুব সামান্য কিছু টাকা যোগ করে একটি ভূমিকম্প–সহনীয় নিরাপদ ভবন নির্মাণ করা যায়।

আকতার মাহমুদ
আকতার মাহমুদ

আকতার মাহমুদ: আমরা চাই ঝুঁকিমুক্ত নগর ও পরিবেশ। প্রতিটি নগরের একটি চরিত্র ও বাস্তবতা আছে। এখন বাংলাদেশের ছোট ও মাঝারি শহর, এমনকি গ্রাম পর্যন্ত নগরের রূপ ধারণ করছে।
বর্তমানে ২৮ শতাংশ মানুষ নগরে বাস করে। এ সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকবে। এ ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের বিধিবিধান অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভূতাত্ত্বিক জরিপের ফলাফল বিবেচনায় নিতে দেখি না। ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনার মধ্যে এটা আনা উচিত।
আমাদের ঝুঁকি–সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং এর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সবাই জানি, ঢাকা শহরের চারপাশের নদী-জলাশয় ভরাট হওয়ায় এই নগেরর ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
ঢাকার বাইরের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নদী-জলাশয়, ডোবা ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে অন্য কেউ না কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে এগুলো আমাদের সবার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
আজকের আলোচনায় তদারকের বিষয় এসেছে। তদারক কে করবে? দেশে ৪টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩২৪টি পৌরসভা আছে। এরাই তো শেষ পর্যন্ত তদারক করবে। কিন্তু এদের তদারক করার সক্ষমতা এত কম যে চিন্তাও করা যায় না।
এখন যে প্রশাসনিক কাঠামো আছে, সেখানে দক্ষ জনবলের ব্যাপক অভাব রয়েছে। আমাদের আইন, বিধি, কোড—সবই আছে, থাকবে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন কখনো হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না এর দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
ভবনের উন্মুক্ত জায়গা রাখা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। এটা অবশ্যই সংশোধন করা প্রয়োজন। কারণ, এটা আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়িয়ে তুলছে।
২০১১ সালের হিসাব থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে গড়ে প্রতি ওয়ার্ডে, প্রতি একরে ৬০০ জনের বেশি বাস করে। অথচ জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রতি একরে ৩০০ জনের বেশি হলে এটাকে বসবাসের অনুপযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এটা প্রতিনিয়ত পরিবেেশর ক্ষতি করতে থাকবে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে না ভাবলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া
লিয়াকত আলী ভূঁইয়া

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া: আমরা সরাসরি আবাসনের কাজ করি। ২৬৯টি প্রতিষ্ঠান আবাসনশিল্পের সঙ্গে জড়িত। আবাসনশিল্প বাঁচলে এ প্রতিষ্ঠানগুলো বাঁচবে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আবাসনশিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। মূলত আবাসনশিল্পের মন্দার জন্য বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা হয়েছিল।
আবাসনশিল্পের এমনিতে মন্দা অবস্থা চলছে। রিহ্যাব এখন ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অন্যান্য শহরেও আবাসন হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ সহজ শর্তে ঋণ না পেলে তারা কখনো ফ্ল্যাট কিনতে পারবে না।
বিশ্বের প্রায় সব দেশে সহজ শর্তে এদের ঋণ দেওয়া হয়। ইদানীং বাংলাদেশ ব্যাংক ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণের একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এখানেও কিছু সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলোকে ভূমিকা নিতে হবে।
এখন অন্যান্য দেশে শহরের বাইরে স্যাটেলাইট শহর গড়ে উঠছে। এমনকি কলকাতাতেই শহরের বাইরে স্যাটেলাইট শহর গড়ে উঠছে। শত শত মানুষ সকালে কাজে বেরিয়ে যাচ্ছে, কাজ শেষে ঘরে ফিরছে।
ঢাকার আশপাশে যদি স্যাটেলাইট শহর গড়ে ওঠে, তাহলে মূল শহরের ওপর চাপ কম পড়বে। শুধু স্যাটেলাইট শহর বললেই হবে না স্কুল, কলেজ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। এখানে জমির দাম কম হওয়ায় ফ্ল্যাটের মূল্য কমে আসবে।
ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অনেক কথা হয়। রেজিস্ট্রেশন খরচ বেশি হওয়ায় অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করছে না। তাই অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন খরচ কমিয়ে আনা জরুরি। আরও অনেক বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে আবাসনশিল্পে মন্দা অবস্থা কাটবে না।

মোহাম্মদ আবু সাদেক
মোহাম্মদ আবু সাদেক

মোহাম্মদ আবু সাদেক: আমাদের নির্মাণ নীতিমালা রয়েছে। এক হিসাবে দেখা যায়, প্রতিবছর আমরা ১ শতাংশ কৃষিজমি হারাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় খাদ্যসংকটে পড়ে যাব।
সারা পৃথিবীতে নির্মাণ প্রযুক্তি ও উপকরণ নিয়ে বিতর্ক আছে। বিশ্বে প্রতিবছর ৪০ বিলিয়ন টন কার্বন নির্গত হয়। বাংলাদেশে হয় ৪০ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন টন অর্থাৎ ২৫ শতাংশ কার্বন নির্গত হয় ইটের ভাটা থেকে।
দেশে এখন ৪০ হাজারের বেশি ইটের ভাটা আছে। এর একটি অংশ আবার সীমান্ত এলাকায়। বছরে আমাদের ৮০০ কোটি ইটের প্রয়োজন হয়। কিন্তু উৎপাদন হয় প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি। বাড়তি ইট কোথায় যায় এটি একটি প্রশ্ন।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ২০ শতাংশ কার্বন কমাতে হবে। এর ১৫ শতাংশ যদি বাইরে থেকে অর্থ পাওয়া যায়, তাহলে কমাতে হবে। তবে ৫ শতাংশ আমাদের নিজেদের উদ্যোগে কমাতে হবে।
এ ক্ষেত্রে শুধু পোড়া ইটের ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প ইটের ব্যবহার করলে দেশের ২৫ শতাংশ কার্বন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের ক্যাম্পাসে তিনটি ভবন নির্মাণ করেছি। এখানে একটিও পোড়া ইটের ব্যবহার করিনি। দেখাতে চাই পোড়া ইটের ব্যবহার ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা যায়।
হাউজ বিল্ডিং গবেষণা ইনস্টিটিউটের যে প্রযুক্তি আছে, সেগুলো ব্যবহার করে ৩০ শতাংশ কম খরচে ভূমিকম্পসহ সব ধরনের ঝুঁকিমুক্ত ভবন নির্মাণ করা সম্ভব।
বর্তমানে ভবন নির্মাণে যে পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হয়, এটা দিয়ে দ্বিগুণ নির্মাণকাজ করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে, ২০২০ সালের মধ্যে পোড়ামাটির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। নদীখননের মাটি দিয়ে ইট তৈরি কতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

নজরুল ইসলাম: হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট পোড়া ইটের পরিবর্তে যে বিকল্প ইট তৈরি করেছে, এটা যদি মানসম্মত হয় তাহলে আজ থেকেই সরকারি সব ভবনে ব্যবহার করা হোক। পরে অন্যরা ব্যবহার করবে।
সাদেক সাহেবকে বলব, আপনি প্রয়োজনে বুয়েট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিয়ে জোরেশোরে কাজ চালিয়ে যান। উদ্যোগটা ভালো, আমরা আপনার সঙ্গে থাকব।
কখনোই চাই না নির্মাণশিল্প গ্রামে যাক। তাতে হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা গ্রামের সৌন্দর্য ধ্বংস হবে। কীভাবে আমাদের গ্রামের এত সুন্দর বিন্যাস ও জনপদ গড়ে উঠেছে, খুব সহজে এটা বোঝা যাবে না।
নির্মাণের সময় পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। শিশুদের খেলার মাঠ হারিয়ে যাচ্ছে। খবরের কাগজে দেখি, পার্ক ও মাঠ দখল করে অন্য কিছু করা হয়।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের মধ্যে আরও ১৬টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থ ও জনবল এখনো বাড়েনি। এই ইউনিয়নগুলোকে এখন থেকেই পরিকল্পনামতো গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাস্তা, পার্ক, জলাশয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে তোলা দরকার।
আলোচনায় তদারকের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কমিউনিটি, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও অন্যদের সহযোগিতায় তদারকের কাজটা শেষ পর্যন্ত রাজউককেই করতে হবে। শেষে বলব, সবার সম্মিলিত উদ্যোগে নির্মাণশিল্পের সমস্যা দূর হবে।

আব্দুল কাইয়ুম: িনির্মত ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যেকোনো সময় আমাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। ভবন নির্মাণের সময় নির্মাণবিধি মেনে চলা খুবই জরুরি। সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

আয়োজনে

২০১৪–১৫ 
অর্থবছরে নির্মাণশিল্পের প্রবৃদ্ধি ছিল 
৮.৬৩ %
২০১৪–১৫ 
অর্থবছরে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৬৬ %
রিয়েল এস্টেট সেক্টরে কর্মরত আছে প্রায় ১ লাখ মানুষ
রিয়েল এস্টেট খাতে ১১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে
সূত্র : ডেইলি স্টার ১৭ সেেপ্টম্বর ২০১৫
আলোচনায় সুপারিশ
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যতটুকু জায়গা উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন, প্রায় কেউ সেটা রাখছেন না। আবার রাজউকও এসব ঠিকভাবে তদারক করতে পারছে না। এসব দেখা প্রয়োজন
 ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করা আছে। প্রতি জোনের জন্য তদারক বিভাগ থাকা প্রয়োজন
 শহর ও গ্রামে ব্যক্তিগত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রায় নিয়মকানুন একেবারেই মানা হয় না। এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন
 ভবনগুলোর কার পার্কিংয়ের তলাটি ভূমিকম্প–সহনীয় কি না, সেটা জরুরি ভিত্তিতে নিরূপণ করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন 
 ভবন নির্মাণের বিধিবিধান বাস্তবায়ন করতে হলে দক্ষ জনবল প্রয়োজন


যাঁরা অংশ নিলেন
নজরুল ইসলাম : সভাপতি, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ
মেহেদি হাসান আনসারি : অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট
এ মজিদ চৌধুরী : প্রকৌশলী ও উপদেষ্টা, ক্রাউন সিমেন্ট
রায়হানুল ফেরদৌস : প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন), রাজউক
মো. নুরুল্লাহ : প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
মোহাম্মদ আবু সাদেক : পরিচালক, হাউিজং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট
ইশরাত ইসলাম : অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বুয়েট
আকতার মাহমুদ : অধ্যাপক, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
মো. আলী আকবর মল্লিক : ইঞ্জিনিয়ার ও আর্থকোয়াক সোসাইটির সাবেক সভাপতি
লিয়াকত আলী ভূঁইয়া : সহসভাপতি, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)
মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম : অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, রিসার্চ অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, শেল্টেক্ (প্রা.) লিমিটেড
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো