দেশের পূর্বাঞ্চলে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের হার বেশি
জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পূর্বাঞ্চলের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগকেন্দ্রিক। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা বেশি হওয়ার কারণে এই অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের ভিড় বেশি।
এদিকে নগরায়ণে পরিকল্পনার অভাব এবং উন্নয়নের গতি ধীর হওয়ার কারণে পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে অভিবাসনের হার কম। দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই বৈষম্য দূর করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশে নগরায়ণ ও অভিবাসন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে নগরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ৩৪ শতাংশের বাস পূর্বাঞ্চলে। বিপরীতে পশ্চিমাঞ্চলে এই হার ১৭ শতাংশ। সব জেলার মধ্যে ১৬টি জেলায় অভিবাসী মানুষেরা বেশি ভিড় করে। অন্য জেলা থেকে এসব জেলায় মানুষ বেশি আসে, যায় কম। পূর্বাঞ্চলে এমন জেলার সংখ্যা ১১টি। এগুলো হচ্ছে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী। মোট অভিবাসীদের ৬৯ শতাংশই এসব জেলায় আসেন। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে এমন জেলার সংখ্যা মাত্র পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, খুলনা ও রাজবাড়ী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের অভাবে পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে পূর্বের জেলাগুলোতে অভিবাসী মানুষের চাপ বৃদ্ধির কারণে প্রাণ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে হলেও নগরায়ণ ঘটছে। এসব কিছুই জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।
এ বৈষম্য নিরসনে প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, বস্ত্র ও খনিজ সম্পদভিত্তিক কারখানা স্থাপন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ট্রানজিটব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্থানীয় সরকারব্যবস্থার উন্নতি ইত্যাদি।
ইউএনএফপিএর এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা মাতাভেল পিচিন। প্রতিবেদনটির ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম নাজেম ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম), বাংলাদেশ-এর জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুস সাত্তার ইসোয়েভ। প্রতিবেদন তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গেভিন জোনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. ইজাজুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য নকিব বিন মাহবুব।