১২ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ৭ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, খুলনা, জামালপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পিরোজপুর—এ আট জেলায় জরিপ করা হয়। মোট ৩ হাজার ৬৪৭ জন এ জরিপে অংশ নেন। শহর, গ্রাম ও বস্তি থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করা হয়। মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও টিকা–সম্পর্কিত ভাবনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপের ফলাফল বলছে, একটি কার্যকর ও নিরাপদ টিকা নিতে আগ্রহী ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। ৭ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা টিকা নিতে একেবারেই ইচ্ছুক নন। আর ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা টিকা নেওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৬ শতাংশ পুরুষ ও ৭৩ শতাংশ নারী টিকা নিতে ইচ্ছুক।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ দেশের মানুষ সব সময় টিকার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। জরিপে এর প্রতিফলন ঘটেছে।’

জরিপে দেখা গেছে, দিনমজুরদের মধ্যে টিকার গ্রহণযোগ্যতা অন্য পেশাজীবীদের তুলনায় কম। রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা, ঠেলাগাড়িচালকদেরও দিনমজুর হিসেবে এ গবেষণায় বিবেচনা করা হয়েছে। ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ দিনমজুর টিকা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসক ও নার্সদের ৮১ শতাংশ টিকা নিতে আগ্রহী।

বসবাসের স্থানের সঙ্গে টিকা বিষয়ে আগ্রহের তারতম্য দেখা গেছে। গ্রামের ৬৪ শতাংশ মানুষ টিকা নিতে তাঁদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। শহরে এ হার ৮১ শতাংশ। আর শহরের বস্তিতে এ হার ৫৩ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, নিম্ন আয় ও গ্রামের মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার ক্ষেত্রেও আগ্রহ কম দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে টিকা নিয়ে এ অনাগ্রহ অস্বাভাবিক বলে মনে হয় না।

জরিপের ফলাফল বলছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৬১ শতাংশ মানুষ টিকা নিতে চান। ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ হার ৭৪ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার যথাক্রমে ৭৩ ও ৭৮ শতাংশ।

জরিপ পরিচালনাকারী আরেক প্রতিষ্ঠান রংপুর হাইপারটেনশন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, টিকা নিয়ে এ দেশের মানুষের ইতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে এ জরিপে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন