বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্ট্রোক দুই ধরনের। এক, রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দুই, রক্তনালি ফেটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। স্ট্রোকের লক্ষণগুলো হলো শরীরের ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ করে চোখে কম দেখা, মাথা ঘোরানো, অচেতন হয়ে পড়া, শরীরের এক দিক অবশ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বে বছরে দেড় কোটি মানুষ স্ট্রোকজনিত সমস্যায় ভোগে। এর মধ্যে স্ট্রোকে মৃত্যু হয় প্রায় ৫০ লাখের। বাকিদের স্ট্রোকের কারণে পক্ষাঘাতজনিত সমস্যা বরণ করে নিতে হয়। এই রোগীরা পরিবারের বোঝা হয়ে যান। চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে শিশুদেরও স্ট্রোক হতে পারে।

দেশে স্ট্রোকের রোগী বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক মো. বদরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। বয়স বাড়লে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। সে হিসেবে মৃত্যুও বাড়বে। এ ছাড়া ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বেশি থাকা, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। দেশে এসব গ্রহণের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের প্রবণতা। করোনার সময়ে অনেকেই দুশ্চিন্তা ও নানা মানসিক চাপে ছিল। স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির এটিও একটি কারণ। সে কারণেও ২০২০ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল ২০১৮ সালে স্ট্রোক নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। দেশের ৬৪টি জেলার ২৫ হাজার ২৮৭ মানুষের ওপর করা ওই জরিপের ফলাফলে বলা হয়, দেশে এখন প্রতি হাজারে ১১ দশমিক ৩৯ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী আছে। ৬০ বছরের বেশি মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৭ গুণ বেশি। নারীর চেয়ে পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। স্ট্রোকের প্রকোপ শহরের চেয়ে গ্রামে কিছুটা বেশি।

ময়মনসিংহে স্ট্রোকের রোগী বেশি

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের গবেষণায় বলা হয়, অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ময়মনসিংহ বিভাগে স্ট্রোকের রোগী বেশি। এ বিভাগে প্রতি হাজারে ১৪ দশমিক ৭১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত। সবচেয়ে কম রাজশাহী বিভাগে, ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন এখানে ২০ থেকে ২৫ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। এ হাসপাতালে মাসে ৬০০ জনের বেশি স্ট্রোকের রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ বিভাগে রোগী বেশি থাকার বিষয়ে অধ্যাপক মো. বদরুল আলম বলেন, গবেষণায় এই কারণ খোঁজা হয়নি। তবে ধারণা করা হয়, এই অঞ্চলে গ্রামের মানুষের মধ্যে তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়েও সচেতন নন।

সচেতনতার অভাব ও ধূমপানের কারণের কথা বললেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও। এ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। দারিদ্র্যের হারও বেশি। এদিকে শিক্ষার হার তুলনামূলক কম। ফলে সচেতনতার অভাব রয়েছে। স্ট্রোক হওয়ার পর রোগী জানতে পারেন যে আগে থেকেই তিনি ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। এ ছাড়া ধূমপানও একটি কারণ।

হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান হারুন উর রশিদ বলেন, ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই প্রবীণ। তাঁদের অনেকেই শারীরিক সমস্যা অনুভব করলেও নিয়মিত চিকিৎসা নেন না। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন না।

[প্রতিবেদনটিতে সহায়তা করেছেন জগলুল পাশা, ময়মনসিংহ]

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন