বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১১ সালের পর দেশে আর কোনো আদমশুমারি হয়নি। ওই শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশে তখন মোট জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ২৫ লাখের কিছু বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ৭ কোটি ৬৪ লাখ আর নারী ৭ কোটি ৬২ লাখ। আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২০ সালের জরিপে দেখা গেছে, দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৮২ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৪২ লাখ। নারী ৮ কোটি ৪০ লাখ। অর্থাৎ দেশে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ জন। নারী ভোটার ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ২৭ জন। এ হিসাবে এখন দেশে মোট ভোটারের ৫০ দশমিক ৯২ শতাংশ পুরুষ আর নারী ৪৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। গত এক বছরে (১৯ জানুয়ারি, ২০২২ পর্যন্ত) নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ১৪ লাখের কিছু বেশি। এর ৬৯ শতাংশই পুরুষ, নারী মাত্র ৩১ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। এটি না হলে শতভাগ ভোটার অন্তর্ভুক্তি হয় না। সাধারণত যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরাই এ সময়ে ভোটার হয়েছেন। তিনি বলেন, ২০ মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করবে ইসি। নারী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। যাঁরা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের একটি বড় অংশ থাকবেন নারী।

গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হলো ভোটার হওয়ার যোগ্য সবাইকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু ভোটার হওয়ার যোগ্য অনেক নারী বাদ পড়ে যাচ্ছেন বা বঞ্চিত হচ্ছেন। এর কারণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে যথাযথভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয় না। এই ভোটার তালিকা অনির্ভরযোগ্য হয়ে যাচ্ছে।
বদিউল আলম মজুমদার, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক

ভোটার তালিকা নিয়ে একসময় বড় ধরনের প্রশ্ন ছিল। এম এ আজিজ কমিশনের সময় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করার অভিযোগ ছিল। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি ছবিসহ ভোটার তালিকা করার উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রও দেওয়া শুরু হয়।

ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে নারী ভোটার ছিল মোট ভোটারের ৫০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর পুরুষ ভোটার ছিল ৪৯ দশমিক ১১ শতাংশ। ওই সময় অবশ্য দেশের বাইরে থাকায় অনেকে ভোটার হতে পারেননি। তখন প্রবাসী শ্রমিকদের প্রায় সবাই ছিলেন পুরুষ। পরবর্তী সময়ে অনেকে দেশে এসে ভোটার হয়েছেন। এখনো অবশ্য অনেক প্রবাসী ভোটার নন।

২০০৮ সালের পর থেকে ক্রমে নারী ভোটার কমতে দেখা যাচ্ছে। ইসি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটার বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর নারী ভোটার কমে হয় মোট ভোটারের ৪৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটার ছিলেন মোট ভোটারের ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ; নারী ভোটার ৪৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর তিন বছরের মাথায় নারী ভোটার আরও কমে গেছে। এখন মোট ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ৪৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এখন জাতীয়ভাবে দেশে নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটার প্রায় ২ শতাংশ বেশি। কিন্তু জেলাওয়ারি হিসাবে দেশের ১৫টি জেলায় নারী ও পুরুষ ভোটারের ফারাক ৩ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলায় নারীর তুলনায় পুরুষ ভোটার ৫ শতাংশ বেশি। চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ভোলায় নারীর চেয়ে পুরুষ ভোটার ৪ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, মুন্সিগঞ্জ, সিলেট ও বান্দরবানে পুরুষ ভোটার ৩ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে শেরপুর, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলায় পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার সামান্য বেশি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হলো ভোটার হওয়ার যোগ্য সবাইকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু ভোটার হওয়ার যোগ্য অনেক নারী বাদ পড়ে যাচ্ছেন বা বঞ্চিত হচ্ছেন। এর কারণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে যথাযথভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয় না। এই ভোটার তালিকা অনির্ভরযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। ভোটার তালিকায় নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যার ফারাকের কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন