বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রানা আইয়ুব

ভারতের পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক রানা আইয়ুব ওয়াশিংটন পোস্ট-এর কলাম লেখক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করায় তিনি উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের ভয়াবহ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হন। গত জানুয়ারিতে তিনি এক টুইটে ইয়েমেনের সাধারণ নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলেন। এতে সৌদি আরব সমর্থকদেরও ব্যাপক ট্রলের শিকার হন তিনি। রানা আইয়ুব ও তাঁর পরিবারকে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দিয়ে এক দিনে ২৬ হাজার টুইট করা হয়। অনলাইনে হয়রানি এখানেই শেষ নয়। তাঁর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোভিড-১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য গড়ে তোলা তহবিল নয়ছয় করার অভিযোগে আনা হয়। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রানা আইয়ুব তাঁর অবস্থানে অটল থাকেন।

রানাকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর পাশে থাকার ঘোষণা দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। সাংবাদিকেরাসহ বিভিন্ন মিডিয়া গ্রুপ একজন সাংবাদিককে তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য নিপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেয়।

রোজিনা ইসলাম

আইএফইএক্স বলেছে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও মহামারি মোকাবিলার অব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিবেদন করেছেন রোজিনা ইসলাম। ২০২১ সালের ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তাঁকে আটক করা হয়। সেখানে তাঁকে ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনে মামলা দেওয়া হয়। তাঁকে সাত দিন কারাগারে আটকে রাখা হয়।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ওই মামলা এখনো চলছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও জোট রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এসব বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অফিশিয়াল সিক্রেটস আইন ঔপনিবেশিক আমলের। এটি বর্তমান যুগের উপযোগী নয়। রোজিনা ইসলামের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোজিনা ইসলামের মামলাটি বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকা দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ২০২১ সালে অন্তত ৮০ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন, আহত বা নিহত হয়েছেন। যাঁরা সরকারের অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করছেন বা সরকারের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করছেন, বিশেষ করে তাঁরাই ঝুঁকিতে রয়েছেন।’

বাংলাদেশি অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ‘সেরা অদম্য সাহসী’ হিসেবে ২০২১ সালের ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক সংস্থা ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড তাঁকে এ পুরস্কার দিয়েছে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে রোজিনা ইসলাম এ পুরস্কার পান।

শিনচা দিমারা

পাপুয়া নিউগিনির রাষ্ট্রায়ত্ত ইএমটিভির হেড অব নিউজ শিনচা দিমারা। ৩৩ বছরের পেশাজীবন তাঁর। অথচ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় প্যাসিফিক মিডিয়া গ্রুপের অধীন ইএমটিভিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করায়। শিনচা দিমারার পক্ষে রাস্তায় নামেন গ্রুপটির অন্য সাংবাদিকেরা। তাঁরা কর্তৃপক্ষের অন্যায্য এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন এবং অবিলম্বে শিনচা দিমারাকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।

এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবাধ্যতার অভিযোগে শিনচা দিমারাকে ২১ দিন বরখাস্ত করে রাখা হয়েছিল। তাঁর ‘অপরাধ’, তিনি একটি ঘটনায় একজন মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা এবং সে বিষয়ে পুলিশের কর্মপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ-সংক্রান্ত সম্পাদকীয় নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। শিনচা দিমারার পক্ষে যেসব সহকর্মী ছিলেন, তাঁদেরও প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়।

অম্বিকা সাতকুনানাথন

শ্রীলঙ্কার খ্যাতনামা আইনজীবী অম্বিকা সাতকুনানাথন। তিনি দেশটির মানবাধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনার। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক সাব–কমিটিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে সরকারের অধীনে দেশটিতে সাধারণ জনগণের কথা বলার অধিকার সংকুচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। শ্রীলঙ্কার সরকার তাঁর বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে দাবি করে। সরকারের এ-সংক্রান্ত বিবৃতি ‘সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকারীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অম্বিকা।

একই সঙ্গে অম্বিকা অভিযোগ করেন, সরকার তাঁর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে অম্বিকা সাতকুনানাথন জোর দিয়ে বলেন, যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁদের স্খলন নিয়ে কথা বলার অধিকার তাঁর রয়েছে। নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল অম্বিকার পক্ষে অবস্থান নেয়। সরকারের আচরণের কঠোর সমালোচনাসহ উদ্বেগ জানান তাঁরা।

পেং শুয়াই

চীনের টেনিস চ্যাম্পিয়ন পেং শুয়াই গত বছর ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এর পরপরই তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। তাঁর অনলাইন অ্যাকাউন্টও মুছে দেওয়া হয়। এ ঘটনা তাঁর সমর্থক ও বিশ্বজুড়ে ক্রীড়ামোদীদের শঙ্কিত করে তোলে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের একটি দৈনিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার ছাপা হয় পেং শুয়াইয়ের। তখন শীতকালীন অলিম্পিক চলছিল। তবে এরপরও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে ভক্তদের উদ্বেগ দূর হয়নি। গত নভেম্বরে তিনি একটি বিবৃতি দেন, তবে পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে অল্পস্বল্প ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও তিনি স্বাধীনভাবে কথা বলা ও চলাফেরা করার অধিকার রাখেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাসহ ওমেন’স প্রফেশনাল টেনিস ট্যুর (ডব্লিউটিএ) এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।

নিঘাত দাদ

পাকিস্তানি আইনজীবী ও আইএফইএক্সের সদস্য ডিজিটাল রাইটস ফাউন্ডেশনের (ডিআরএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নিঘাত দাদের কর্মক্ষেত্র ডিজিটাল রাইটস বা ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের অধিকার নিয়ে তিনি বেশি সরব। এ ছাড়া সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিয়ে লড়াইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে নিঘাত দাদের। তবে এ জন্য তিনিসহ তাঁর দলকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, অনেক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়।

ধর্মঘটে কম্বোডিয়ান নারীরা

২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর কম্বোডিয়ার নাগা ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনোর ১ হাজার ৩০০-এর বেশি নারী কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। এর প্রতিবাদে সরব হন তাঁরা। ক্ষতিপূরণ ও কাজ ফিরে পাওয়ার দাবিতে ধর্মঘটে নামেন তাঁরা। এরপর থেকে নানাভাবে কর্তৃপক্ষের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন এই নারীরা। তাঁদের নানা ধরনের হুমকিধমকি দেওয়া হচ্ছে। কিছু নারী পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। বিভিন্ন নাগরিক সমাজের তরফে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট ভন্ডুল করতে সরকার অন্যায্যভাবে বারবার নারীদের টার্গেট করছে। তবে এত কিছুর পরও তাঁরা দমে যাননি। তাঁরা তাঁদের অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

হিজাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের কিছু সরকারি কলেজে হিজাব নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গত ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রীরা বিক্ষোভ করেন। জননিরাপত্তার কথা তুলে হিজাব নিষিদ্ধের পেছনে যুক্তি দেয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, মুসলিমদের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার প্রশ্নে সরকারি কর্মকাণ্ডের সর্বশেষ উদাহরণ ছিল এটি। বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন