বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনাদের তৈরি গেমগুলোর ধরন কেমন?

জামিলুর রশিদ: আমরা কাজ করি ভারতের মুনফ্রগ ল্যাবসের সঙ্গে। মুনফ্রগের সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনটি গেম হলো লুডু ক্লাব, তিন পাত্তি গোল্ড ও আড্ডা। আড্ডা পুরোটাই আমাদের দেশে তৈরি। উল্কা গেমসের কথা বললে আড্ডার সঙ্গে ২৯ কার্ড গেমও অত্যন্ত জনপ্রিয়।

আপনি গেম নিয়ে কাজ করছেন প্রায় আট বছর ধরে। এ পর্যন্ত আপনার বা উল্কা গেমসের পরিবর্তন কেমন?

জামিলুর রশিদ: ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এক রকম অভিজ্ঞতা ছিল। তখন কেবল দেশের গেমের বাজার মাথায় ছিল। ২০১৮ সালে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যখন যুক্ত হলাম, তখন জানলাম, একটা গেম থেকে কীভাবে মাসে পাঁচ থেকে ছয় লাখ ডলার আয় করা সম্ভব। আর স্টিলফ্রন্টের কোনো কোনো গেম থেকে মাসে ৩০, ৪০ বা ৫০ লাখ ডলারও আয় হয়। বড় একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ২২টি গেম স্টুডিওর ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় কীভাবে করছে, গেমের পোর্টফোলিওর মধ্যে ভারসাম্য আনছে, ওই অভিজ্ঞতার কিছুটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশের গেমস খাতের বতর্মান অবস্থা কি এখন ভালো বলা যায়?

জামিলুর রশিদ: ভালো তো বলতেই হবে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত গোটা দুয়েক প্রতিষ্ঠান বা গেম বৈশ্বিক বাজারে ভালো করেছে। ২০১৫ সালে এসে মাশা মুস্তাকিমদের ‘হিরোজ অব ৭১’ ছিল তৃতীয় বড় মাইলফলক। চতুর্থ মাইলফলক, আমাদের তৈরি ‘ডাবল কিউব’। ২০১৭ সালে ‘মুক্তি ক্যাম্প’ জনপ্রিয়তা পায়। সে সময় মাশা মুস্তাকিমদের দলের সঙ্গে আমার গেম স্টুডিও (গেম ওভার) এক হয়ে গেমটি ছাড়ে। ২০১৮ সালে হাম্বা গেমসের কিছু গেম টপচার্টে ছিল। এরপর উল্কা গেমস থেকে ভালো কাজ করা হয়েছে। এখন কিন্তু অনেকেই কাজ করছেন, অনেক গেম ভালো করছে। কোনো কারণে আমাদের গেমস শিল্পের মানুষজন কিছুটা প্রচারবিমুখ। খুঁজলে সফলতার গল্পও পাওয়া যাবে অনেক। তবে আগামী দেড় থেকে দুই বছরে চোখে পড়ার মতো বড় পরিবর্তন আসবে।

কেন মনে হচ্ছে?

জামিলুর রশিদ: এখন তো সাত-আটটা গেম স্টুডিও কাজ করছে দেশে। এটা যখন ২০ ছাড়িয়ে যাবে তখন পরিবর্তন চোখে পড়বে।

কিছুদিন আগে পাবজি, ফ্রি-ফায়ারসহ কিছু গেমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কীভাবে দেখছেন?

জামিলুর রশিদ: যে উদ্দেশ্যে কাজটা করা হয়েছে, সেখানে আমি একমত। তবে যেভাবে বন্ধ করা হয়েছে, সেটা আরেকটু চিন্তাভাবনা করে, আরও কিছুটা সময় নিয়ে করা যেত কি না, তা ভেবে দেখা যেত। সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। ভ্যাট-ট্যাক্সের ব্যাপার, সেটা তো সরকারের পাওয়াই উচিত। আরেকটা ব্যাপার শিশু-কিশোরদের গেমে আসক্তি। আমাদের দেশে দুটো বিষয় নিশ্চিত করলে ভালো হয়। এক. যেকোনো ধরনের পর্দার সামনে বেশিক্ষণ কাটানো যাবে না। আরেকটা বিয়ষ—যে গেম যে বয়সের জন্য উপযুক্ত, সে বয়সের আগে যেন গেমটি খেলার সুযোগ না পায়।

এই দুটো জায়গায় উল্কা গেমসের অবস্থান কী?

জামিলুর রশিদ: আমরা ভ্যাট-ট্যাক্সের ব্যাপার সব সময় শতভাগ পরিষ্কার রেখেছি। আর আমাদের গেম আসক্তি তৈরি করছে কি না, কিংবা কমবয়সীদের ক্ষতি করছে কি না, সেটা আমি বললে তো হবে না। এ ক্ষেত্রে একটা বিশেষজ্ঞ প্যানেল থাকতে পারে। যারা নির্ধারণ করবে কোন গেম কাদের জন্য ক্ষতিকারক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন