default-image

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থেকে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি বাদ যাচ্ছে। আইনে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটির বদলে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করার সুপারিশ করেছে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধনী এনে গত ১৩ অক্টোবর অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারির পর সংসদের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয়। এরপর এটিকে আইনে পরিণত করতে হয়।

৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিলের সংশোধনী সংসদে তোলা হয়েছিল। তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। আজ সংসদে এই বিলের ওপর প্রতিবেদন দেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ। তাতে মূল আইনের ৯ (২) ধারাসহ কয়েক জায়গায় ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দটি বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটি যে সংশোধনী আনে, তা সাধারণত গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, আইনে ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি থাকলেও নারী আন্দোলনের কর্মীরা শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁরা ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলে আসছেন। প্রথম আলোর নারীবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ী, ছাপা কাগজে ও অনলাইন সংস্করণে ‘ধর্ষিতা’ শব্দের পরিবর্তে ‘ধর্ষণের শিকার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) উপধারায় বলা হয়, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। সংশোধিত আইনের খসড়ায় ৯ (১) উপধারায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’–এর পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী সাধারণ জখমের ক্ষেত্রে অপরাধ আপসযোগ্য হবে।

২০০০ সালের আইনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষা করার কথা বলা ছিল। এখন অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও মেডিকেল পরীক্ষা করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ও অপরাধের শিকার সবারই ডি–অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২–এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিএনএ আইনের বিধান অনুযায়ী তাঁর ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।’

মন্তব্য পড়ুন 0