বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ক্ষুদ্রঋণের নামে প্রতারণা করা র‍্যাপিড ক্যাশ, টাকলা, ক্যাশম্যান, আমার ক্যাশ, ক্যাশ ক্যাশসহ ১০টি অ্যাপ চিহ্নিত করেছে ডিবি। কত মানুষ ফাঁদে পড়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

র‍্যাপিড ক্যাশ, টাকলা, ক্যাশম্যান, কুইক অনলাইন ই-লোন অ্যাপ, আমার ক্যাশ, ক্যাশ ক্যাশ, ফাস্ট লোনসহ অন্তত ১০টি অ্যাপ চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসব অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন চক্র সুদের কারবার করছে।

গত এক বছরে টাকলা অ্যাপ প্রায় ১ লাখবার, র‌্যাপিড ক্যাশ ১০ লাখবার, ক্যাশমান ৫ লাখবার এবং ক্যাশ ক্যাশ ৫০ হাজারের বেশিবার বিভিন্ন মুঠোফোনে ডাউনলোড করা হয়েছে বলে জানান ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার আশরাফ উল্লাহ। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এসব অ্যাপের সার্ভার চীনে থাকায় কোন অ্যাপের গ্রাহকের প্রকৃত সংখ্যা কত এবং কত টাকা তারা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছে, তা জানা যায়নি। যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

গুগল প্লে স্টোর থেকে ঋণ দেওয়া কোনো অ্যাপ প্রথমে ডাউনলোড করতে হয়। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ঋণের জন্য আবেদন করা যায়। আবেদনের সময় শতাধিক তথ্য দিতে হয়। পুলিশ বলছে, ঋণ দেওয়া কোনো অ্যাপ কেউ ব্যবহার (ইনস্টলের পর) শুরু করলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মুঠোফোনের সব নম্বর ও ছবির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পায় ওই অ্যাপ কোম্পানি।

গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ অ্যাপে ২ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে সাত দিনে সুদ মাত্র ৫ টাকা। তবে দেখা যায় শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের মুঠোফোনের হিসাবে (মোবাইল ব্যাংকিং) জমা হয় ১ হাজার ৬৮৫ টাকা। সাত দিনের মধ্যে ১ হাজার ৬৮৫ টাকার বিপরীতে জমা দিতে হবে ২ হাজার ৫ টাকা। না দিতে পারলে সুদ প্রতিদিন ১০০ টাকা। আর ঋণ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে ১৬তম দিন থেকে প্রতিদিনের সুদ অ্যাপ ভেদে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।

ক্যাশম্যান অ্যাপের গ্রাহক ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী প্রতীক হাসান বলেন, ৩ হাজার টাকা ঋণের জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। পেয়েছেন ২ হাজার ২০০ টাকা। বাকি টাকা ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় হিসেবে কেটে রাখা হয়। সাত দিনে ৩ হাজার ১০ টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল তাঁর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে না পারায় পরে ৩০ দিনে তাঁকে প্রায় ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।

গত জুন মাসে ‘র‍্যাপিড ক্যাশ’ অ্যাপ থেকে ২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সৈয়দ তানভীর হাসান। টাকা ফেরত দিতে দেরি করায় তাঁকে এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয় ওই অ্যাপের লোকজন। এ ঘটনায় গত ২১ জুন গুলশান থানায় তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করেন, অ্যাপ কোম্পানি একপর্যায়ে তাঁর শ্বশুরকে ফোন করে ৭৮ হাজার টাকা দাবি করে। সবশেষ তাঁর স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

এক বছর আগে বারিধারার ডিওএইচএসের ৪ নম্বর রোডের ৩০১ নম্বর বাসার ৫ তলা ভাড়া নেন দুই চীনা নাগরিক হি মিংশি ও ইয়াং সিকি। ভাড়া নেওয়ার সময় বাসার মালিককে তাঁরা বলেছিলেন, চীন থেকে ফসলের বীজ এনে এ দেশে বিক্রি করবেন। বারিধারার ডিওএইচএসের ৪ নম্বর রোডের ৩১২ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলাও তিন মাস আগে ভাড়া নেন ওই দুই চীনা নাগরিক। ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা আইটি ফার্মের অফিস করার কথা বলেছিলেন। ওই বাসার মালিক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তাঁর ছোট ভাই মো. সাজু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ভুয়া তথ্য দিয়ে চীনের দুই নাগরিক বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন