default-image

ঝিনাইদহের মহেশপুরে কপোতাক্ষ নদ ভরাট করতে এত দিন বর্জ্য ফেলে আসছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এবার তারা সেই বর্জ্যের ওপর মাটি ফেলছে। গত তিন দিন ট্রলিতে করে মাটি এনে ফেলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকটা জায়গা ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এভাবে নদের জায়গা ভরাট করে সেখানে মাছের হাট বসাবে। শহরের ভেতরে থাকা বর্তমান মাছের বাজারটি এখানে স্থানান্তর করা হবে। এভাবে নদ দখলের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। তবু কারও টনক নড়েনি। এখন মাটি ভরাট করে ফেলায় আর নদ রক্ষার সুযোগ থাকছে না। অবশ্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের ভেতরে থাকা মাছবাজারটি স্থানান্তরের কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে এই স্থানে তারা মাছবাজার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।  

জানতে চাইলে মহেশপুর পৌরসভার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পৌরসভা যে স্থানে মাটি ফেলছে, সেখানে পাইকারি মাছবাজার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কারণ, বর্তমানে যেখানে মাছবাজার রয়েছে, সেখানে জায়গার বড় সংকট। স্থানসংকুলান না হওয়ার কারণেই বাজারটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তবে যেখানে ভরাট করা হচ্ছে, সেটি নদের জায়গা নয় দাবি করে প্রকৌশলী বলেন, যেখানে মাছবাজার করা হচ্ছে, সেটা হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি।

মূলত যশোর জেলার নদ কপোতাক্ষ। নদটির কিছু অংশ ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। এটি মহেশপুরের পুরন্দপুর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খালিশপুর বাজার পার করে মহেশপুর শহরে প্রবেশ করেছে। মহেশপুর শহর পেরিয়ে বৈচিতলা হয়ে আবার শহরের আরেক পাশ দিয়ে বয়ে আজমপুর হয়ে কোটচাঁদপুরে প্রবেশ করেছে। সেখান থেকে যশোরের চৌগাছা হয়ে কেশবপুরে মিলেছে।

নদের মহেশপুর শহর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া অংশ ঘেঁষে উত্তরে মহেশপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ আর দক্ষিণে মহেশপুর পৌরসভা ভবন রয়েছে। ওই ভবনের অদূরে কপোতাক্ষ নদের ধার ঘেঁষে প্রায় এক বছর ধরে ফেলা হয়েছে পৌরসভার সংগ্রহ করা বর্জ্য। প্রতিদিন সকালে পৌর এলাকার সব বর্জ্য গাড়িতে করে এনে এখানে ফেলা হয়েছে। অথচ এই স্থানেই এর আগে বসার জন্য বেঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। একসময় বেঞ্চে বসে স্থানীয় লোকজন সময় কাটাতেন; অনেকে মাছ ধরতেন। দিন দিন স্থানটি বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়। সেই বর্জ্যের ওপরে এখন মাটি ফেলায় পুরো জায়গাটি ভরাট হয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। 

কপোতাক্ষ নদের ধার ঘেঁষে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এত দিন নদটির দক্ষিণ পাড়ে ফেলা হয়েছে পৌরসভার বর্জ্য আর মাটি। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন দিন হলো সেখানে মাটি ফেলছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা এই নদে মাছ ধরতেন। নদের পাড়ে বাড়ি হওয়ায় পরিবারের সবাই এখানে গোসলও করতেন। এই ময়লার কারণে নদের পানিও দূষিত হয়ে হচ্ছে। পানি দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় এখন আর কেউ গোসল করতে নামেন না। 

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন সরকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।  

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0