চট্টগ্রামে এক নবজাতকের মৃত্যুর পর স্বজনেরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত সদরঘাটের মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে হট্টগোল হয়। বিষয়টির তদন্তে কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলে লোকজন শান্ত হন। গত শনিবার বিকেলে নবজাতক মারা যায়।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, নগরের কামাল গেট এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রোকেয়া বেগম গত শনিবার সকালে মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে ভর্তি হন। দুপুরে অস্ত্রোপচারের পর তিনি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। প্রসূতি এখনো ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অস্ত্রোপচার করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রীতি বড়ুয়া।
জানতে চাইলে প্রীতি বড়ুয়া বলেন, জন্মের পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ওই প্রসূতিকে ২৮ জানুয়ারি ভর্তি হতে বলা হয়েছিল। তিনি সেদিন ভর্তি হননি। প্রসবের সময় চলে যাওয়ার কারণে বাচ্চাটি মুমূর্ষু হয়ে পড়ে।
তবে প্রসূতি রোকেয়ার স্বামী রিয়াজ উদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী আল আমীন সরকার বলেন, মেডিকেলে নেওয়ার পথেই নবজাতক মারা যায়। ওখানে ভর্তি করাতে হয়নি। তিনি বলেন, ‘মেমন হাসপাতালে যে ইনকিউবেটর (শিশুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চিকিৎসা সরঞ্জাম) নেই, সেটা আমাদের আগে থেকে বলা হয়নি।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকালে প্রসূতির রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁদের কেউ কেউ মারমুখী হয়ে পড়েন। তাঁরা চিকিৎসার অবহেলা এনে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করতে থাকেন। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা গিয়ে তাঁদের শান্ত করেন। এ সময় সদরঘাট থানার পুলিশও সেখানে হাজির হয়।
সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রোগীর লোকজনকে বুঝিয়ে বলেছি। কার কারণে এ রকম হয়েছে, তা তদন্তে আজই কমিটি গঠন করা হবে। তাঁরা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদরঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সালেহ বলেন, হাসপাতালে কোনো ভাঙচুর কিংবা অন্য কিছু ঘটেনি। রোগীর লোকজন হইচই করেছেন কেবল। পরে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাসে তাঁরা শান্ত হন।