default-image

২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর। সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তখন এর নাম ছিল ‘কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম’। পরে ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগ এসে স্টেডিয়ামটির নামকরণ করে ‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়াম’। এরই মধ্যে আট বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু মাঠে গড়ায়নি একটি খেলাও।
ক্রীড়া সংগঠক শুভ আল মাহমুদ বলেন, অভিভাবক ছাড়া যেমন সংসার চলে না, তেমনি ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্ব ছাড়া জেলার সার্বিক ক্রীড়াঙ্গন সচল থাকতে পারে না। তাঁর মতে, ২০১১ সালের ২১ জুলাই থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত কমিটি নেই। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক আহ্বায়ক পদটি আগলে আছেন। এ কারণে ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের নেতৃত্বশূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে নতুন স্টেডিয়ামেও কোনো খেলা নেই।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জে ফুটবল ও ক্রিকেট ক্লাবের সংখ্যা ৬৮টি। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত জেলার প্রথম স্টেডিয়ামটি ঘিরে ক্লাবগুলো গড়ে ওঠে। এক যুগ আগেও ক্লাবগুলোতে প্রাণ ছিল। বছরে ক্লাবভিত্তিক একাধিক লিগ বা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় সারা বছর ক্রীড়াঙ্গন সরগরম থাকত। কিন্তু পুরোনো স্টেডিয়ামটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। একই সঙ্গে সংস্কারের অভাবে ক্রমাগত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ক্লাবগুলো দিন দিন খেলাবিমুখ হয়ে পড়ে। এ রকম বাস্তবতায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ শহরের আলোর মেলা মহল্লায় সাত একর জায়গা নিয়ে নতুন করে আরও একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করে। কিন্তু উদ্বোধনের পর এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের আয়োজন না হওয়ায় এখনো স্থানীয় লোকজন আধুনিক স্টেডিয়ামের সুবিধা নিতে পারেননি। তবে এ ক্ষেত্রে ক্রীড়া সংগঠকেরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। আবার সংস্থাটির নেতারা দায়ী করছেন এক যুগ ধরে ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত কমিটি না থাকাকে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক মারুফ আহমেদ বলেন, ‘ভেবেছিলাম নতুন স্টেডিয়ামটিকে ঘিরে ফুটবল আর ক্রিকেট প্রাণ ফিরে পাবে। আয়োজন আর আয়োজক না থাকলে কোথায় পাবে প্রাণ।’ তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে কিশোরগঞ্জবাসী শুধু নামকরণের পরিবর্তন ছাড়া স্টেডিয়ামটি থেকে আর কিছুই পাননি।
২ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের প্রবেশপথটি এখনো পাকা করা হয়নি। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, বৃষ্টি হলে কাঁচা সড়কটিতে পানি জমে ডুবে যায়। তখন সড়কটি আর ব্যবহার করা যায় না। ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, দুই পাশে গ্যালারি, প্রেসবক্স থেকে শুরু করে সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। গ্যালারিতে শেওলা জন্মেছে। কোথাও কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। মাঠের ঘাস বড় হয়ে যাওয়ায় দেখতে ধানখেতের মতো মনে হয়। স্টেডিয়াম দেখাশোনার জন্য এখনো তত্ত্বাবধায়কের পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন গ্যালারিতে বসে আড্ডা দিতে আসা তরুণদের একটি অংশ মাদক সেবন করছে।
জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন হলেও মাঠটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়নি। মাটি ফেলে মাঠ প্রস্তুত করতে হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। স্যার আট লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যে মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে সমস্যা ছিল। নতুন করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। কাজটি শেষ হলে নির্বাচন দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন