নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২৫

বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গতকাল পোশাকশ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাঁদের  লাঠিপেটা করে ষ ছবি: প্রথম আলো
বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গতকাল পোশাকশ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা করে ষ ছবি: প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানিমুখী একটি সোয়েটার কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারাসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট চাষাঢ়ার রপ্তানিমুখী ফুজি নিটওয়্যার সোয়েটার কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কারখানাটি চালুর দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করে আসছেন। গতকাল বেলা একটার দিকে চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি গোলচত্বরে এসে বঙ্গবন্ধু সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি তাঁরা। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংঘর্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশিদ, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণের কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল আকাশ, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা অজয় চৌধুরী, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম, ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন ও সহসভাপতি রাসেল হোসেনসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে সংঘর্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ আহত হওয়ার কথা শোনা গেলেও বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তা অস্বীকার করা হয়। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সমেঞ্চলনে শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাটি খোলার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সমেঞ্চলনে মন্টু ঘোষ, অঞ্জন দাস, তাসলিমা আক্তার প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল সুজন অভিযোগ করেন, বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমানের নির্দেশে পুলিশ বিনা উসকানিতে তাঁদের লাঠিপেটা করেছে। কারখানার মালিকপক্ষ অযৌক্তিকভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সমেঞ্চলন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
তবে ফুজি নিটওয়্যারের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁরা শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। বহিরাগত শ্রমিক নেতারা অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে আন্দোলন করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ মৃদু লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।