নিউ ইস্কাটন-মগবাজার ওয়্যারলেস পর্যন্ত উড়ালসড়ক উদ্বোধন

খুলে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস পর্যন্ত এক কিলোমিটার উড়ালসড়ক। একই সঙ্গে খুলে দেওয়া হয়েছে উড়ালসড়কটির বেগুনবাড়ি থেকে ওয়্যারলেস পর্যন্ত লিংক রোডও। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিউ ইস্কাটনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন উড়ালসড়কটির ওই অংশ উদ্বোধন করেন।
উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি অংশে রয়েছে সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত সড়ক, আরেকটি অংশে রয়েছে শান্তিনগর-মালিবাগ-রাজারবাগ পর্যন্ত সড়ক, অন্য অংশটি নিউ ইস্কাটন-মগবাজার ওয়্যারলেস পর্যন্ত সড়ক। এ ছাড়া উড়ালসড়কের কয়েকটি লিংক রোডেরও কাজ চলছে। গত ৩০ মার্চ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত অংশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আজ অংশটি নিউ ইস্কাটন-মগবাজার ওয়্যারলেস পর্যন্ত উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
ইস্কাটন-মগবাজার ওয়্যারলেস অংশের উদ্বোধনের পর খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করে দিয়েছেন। আমরা এর সাইডগুলো উদ্বোধন করছি। আমি যে অংশটার ‍উদ্বোধন করলাম, সেটার দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার।’ অন্য অংশটি আগামী বছরের বছর জুন-জুলাইয়ের মধ্যে উদ্বোধনের আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়ে গেলে তা যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক, প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়ক নির্মাণকাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে তীব্র যানজট ও রাস্তা জল-কাদায় মাখামাখি হয়ে থাকার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীদের। আজ বৃহস্পতিবার উড়ালসড়কের উদ্বোধনের পর এর ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রাইভেট কার-আরোহী আহসান উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘উড়ালসড়কের কাজ শেষ হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে। কিন্তু শহরের প্রধান সমস্যা যানজটের চেয়ে ভাঙাচোরা রাস্তা।’
মগবাজার ওয়্যারলেস অংশে কথা হয় রিকশাচালক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ওপর দিয়ে যাইব ওপরতলার মানুষ। আমাগো নিচের তলার মানুষের জন্য রাস্তাডা সরকারকে একটু মেরামত করতে কন।’
তবে উড়ালসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আনন্দিত দেখা গেল চাকরিজীবী শাহদাত হোসেনকে। তিনি বলেন, উড়ালসড়কের কাজ শেষ হলে ঢাকা শহরের চেহারাই পাল্টে যাবে। যানজটের নগর ঢাকার বদনাম ঘুচবে।