নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন মেয়র আনিসুল হক

মেয়র আনিসুল হক
মেয়র আনিসুল হক

রাজধানীর সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা চিকুনগুনিয়া জ্বরের বিস্তার এবং এর প্রতিকার হিসেবে মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের দায় অস্বীকার করে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।

গতকাল শনিবার গুলশানে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত এক শোভাযাত্রা শুরুর আগে মেয়র আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তাঁর ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন।

শুক্রবার চিকুনগুনিয়ার ভাইরাসবাহী এডিস মশা নিধনে ডিএনসিসির নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিএনসিসি। ওই সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘আপনার ঘরের ভেতরে গিয়ে আমি মশারি খাটাতে পারব না। আপনার ছাদের ওপরের চৌবাচ্চায় আমি ওষুধ লাগাতে পারব না। আপনার ঘরের ভেতরে যে সামান্য স্বচ্ছ পানিতে মশা জন্মেছে, সেটা আমি মারতে পারব না।’

একই সংবাদ সম্মেলনে চিকুনগুনিয়া ‘মহামারি’ আকারে বিস্তারের জন্য ডিএনডিসির দায় অস্বীকার করেছিলেন মেয়র। এর জন্য বাইরের চেয়ে ঘরের ভেতরের মশাকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মশা মারা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়।

আনিসুল হকের এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ
গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে এই বক্তব্যকে করদাতা নাগরিকের প্রতি জনপ্রতিনিধির তাচ্ছিল্য ও অবহেলা হিসেবে বর্ণনা করেন। কেউ আবার মেয়রের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এক দিন পর গতকাল মেয়র ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে আমরা মশারি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করছি কি না? তখন আমি মশারির ছবিটা (সচেতনতামূলক পোস্টারে) দেখিয়ে ওটা (মশারি টানানো প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য) বলেছিলাম। কিন্তু যেভাবে বলেছি হতে পারে সেটা ঠিকভাবে বলতে পারিনি। কিন্তু আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি।’

মেয়র বলেন, ‘আমরা বলতে চেয়েছি যে বাড়ির ভেতরে ঢোকার অধিকার আমাদের সেভাবে নেই। এ জন্য কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা তার জন্য দুঃখিত।’ এ পর্যায়ে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের অনুরোধও জানান তিনি, ‘আপনারা এটা লিখবেন।’

এ সময় আনিসুল হক চিকুনগুনিয়ার বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ ঘোষণা করে এটি প্রতিরোধে ডিএনসিসির নেওয়া কয়েকটি নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। মেয়র বলেন, ‘সমস্ত শক্তি দিয়ে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা হবে। সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবের জন্য যা করা প্রয়োজন করব। বিভিন্ন এলাকায় হ্যান্ডবিল বিলি ও মাইকিং করার পাশাপাশি কমিশনারদের দায়িত্বে রাস্তাঘাটের তালিকা করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকার মসজিদের ইমাম ও এলাকার নেতাদের নিয়ে টিম করে কাজ করা হবে।’

সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে মশার ওষুধ ছিটানোর কাজে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের গাফিলতির অভিযোগ করা হলে এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘অবহেলা হলে আমরা সব সময়ই ব্যবস্থা নিই। গত দুই বছরে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৯ জনের চাকরি গেছে অবহেলার জন্য, যা গত ১৫ বছরে ঘটেনি।’

মেয়রের বক্তব্যের পর চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে শোভাযাত্রায় গুলশান ইয়ুথ ক্রিকেট একাডেমি, বনানী বিদ্যানিকেতন ও গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি র‍্যালিতে আরও অংশ নেন ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহসহ দলের অন্য নেতা-কর্মীরা।