default-image

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে দুই দেশের পতাকার মিল ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা।
 
পতাকার নকশায় সামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘আমি শুনেছি যে বাংলাদেশের পতাকার নকশায় জাপানের পতাকার সঙ্গে মিল থাকার ব্যাপারটি বঙ্গবন্ধুর আইডিয়া ছিল। আর আমরা যে ভ্রাতৃপ্রতিম, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনপর্বে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ অনুষ্ঠানে সরাসরি যোগ দেন।


জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হবে ২০২২ সালে। বিশেষ বছরটি সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, জাপান সফরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশটির প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। সে বিষয়টি তাঁকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ভূমিকা রাখেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদাতা দেশগুলোর মধ্যে জাপান যে প্রথম কাতারে ছিল, তা উল্লেখ করেন সুগা। সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জাপানের সহায়তার কথা বলেন তিনি।
ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপানের ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করেছে জানিয়ে সুগা আশা প্রকাশ করেন, সামনের বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।


স্বাধীনতার পরপর সোনারগাঁও হোটেল নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং বর্তমানে ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন, বে অব বেঙ্গল ইকোনমিক গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগসহ নানা সহায়তার কথা আসে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।


বিপরীতে জাপানে ১০ বছর আগে ভূমিকম্পের সময় বাংলাদেশের তরফ থেকে সহায়তার কথাও স্মরণ করেন সুগা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক তাতে আরও জোরদার হয়। ভবিষ্যতে ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করার কথাও তিনি বলেন। কোভিড-১৯ মহামারি একযোগে মোকাবিলার কথাও স্থান পায় তাঁর বক্তব্যে।
বাংলায় ‘ধন্যবাদ’ শব্দটি উচ্চারণ করে বক্তব্য শেষ করেন সুগা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন