বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু কতটা যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে?

আইনুন নিশাত: আমি মনে করি, আমাদের চারটি প্রধান সেতুর সংযোগ তৈরি করার মাধ্যমে পুরো দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু, লালন শাহ সেতু ও ভৈরব সেতু আগেই নির্মিত হয়েছে। এর বাইরেও মাঝারি আকারের অনেক সেতু যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে সমৃদ্ধ করেছে। পদ্মা সেতু চালু হলে সারা দেশের মধ্যে একটা সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা কমে আসবে। এর মাধ্যমে দেশকে একটি অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এখন মোংলা বন্দরের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ ভালো না। কাজেই পদ্মা সেতু বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনাসহ ওই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য অনেক সুবিধা বয়ে আনবে। সময় কম লাগবে। তবে মূল উপকার হবে মালামাল পরিবহনে। চট্টগ্রাম বন্দর মোংলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। মোংলা থেকে মালামাল দেশের যেকোনো স্থানে ট্রেনের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া যাবে। রেললাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করার কারণে দেশের যেকোনো জায়গায় মানুষ কিংবা মালামাল সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

ফেরি হচ্ছে অনিশ্চিত মাধ্যম। আর সেতু হচ্ছে নিশ্চিত ব্যবস্থা। সেতু অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দেবে। খুলনা-যশোর অঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়ন হবে। পদ্মা সেতু চালু হলে কুয়াকাটা ও সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন বিস্তার লাভ করবে। সবচেয়ে বড় কথা আগে মানুষে যেভাবে ফেরিঘাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসে থাকত, সেই অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। জীবন সহজ হবে। প্ল্যান দেখেছি বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাওয়া হবে। এটা দ্রুত করতে হবে। রেল যোগাযোগও দেশের সব বিভাগকে সম্পৃক্ত করবে।

এই সেতুর মাধ্যমে যাতায়াতের বাইরে আরও বেশি সুবিধা পেতে হলে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন? মোংলা বন্দর দীর্ঘদিন সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে পারেনি। পদ্মা সেতু এই বন্দরের সক্ষমতার পুরো ব্যবহারে কতটুকু ভূমিকা পালন করবে?

আইনুন নিশাত: দেশে একটা বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ হলে এর সুবিধা বিভিন্ন ধাপে অর্জন করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের সময় সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেতুটিকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের সমীক্ষা করা হয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে। এর মূল বিষয় ছিল দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতি কীভাবে করা যেতে পারে। সে প্রতিবেদন এখন পর্যালোচনা করা দরকার। ওই অঞ্চলের শিল্পায়ন, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে। মোংলা বন্দরকে কীভাবে চাঙা করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। মোংলা বন্দরটি এখন যে স্থানে আছে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নেই। এই বন্দরটিকে কিছুটা ভাটিতে নিতে হবে। বর্তমান অবস্থানে মোংলা ও পায়রা বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ আছে বলে আমি মনে করি না।

পদ্মা সেতু প্রকল্প অবকাঠামোগত ও রাজনৈতিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশকে কোন অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন?

আইনুন নিশাত: পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বের জন্য একটা বড় রাজনৈতিক মেসেজ। বিশ্বব্যাংক যখন ঋণ দিতে আপত্তি করল, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ওপর বিশ্বাস রেখে কাজটি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন যে বিশ্বব্যাংক জড়িত থাকলে যে কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা হতো, আমাদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজে গুণগত মানের ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করা না হয়। তাই অর্জিত হয়েছে।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আইনুন নিশাত: আপনাকেও ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন