বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় সুলতানা কামাল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসচেতনতার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ডেঙ্গু থেকে বাঁচা দুঃসাধ্য। দেশের পরিবেশ ঠিক না থাকার কারণে আজ বিভিন্ন রোগবালাই বেড়েই চলেছে। গভর্নেন্স না থাকলে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হয় না। দায়িত্ব ও অধিকারবোধের মধ্যে সমন্বয় আজ জরুরি। এটির অভাব দেখা দিলে সমাজে এ ধরনের রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। পরিবেশবাদীদের কথা সরকারের নিকট নিষ্ফল লম্ফঝম্ফ মনে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দেশের স্বার্থে, সাধারণ জনগণের স্বার্থে পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কথা বলি।’

সরকারের গ্রহণ করা আগের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা এখন আর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, এখন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রকল্প নির্ভর এবং একটি খাসলতে পরিণত হয়েছে। নগরায়ণ করতে গিয়ে প্রকৃতিকে কতটা সমুন্নত রাখা হচ্ছে সেটি লক্ষণীয়। সাধারণ মানুষকে দেশের কল্যাণের কাজে বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।

বাপার সভাপতি বলেন, ‘সিভিল সোসাইটি বলতে এখন আর কিছুই নেই। কারণ, কথা বলতে গেলেই বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। যাঁরা এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্ম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাঁদের নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ওয়ার্ড কমিশনারদের নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে মেয়রদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কারণ, মূল দায়িত্ব নীতিনির্ধারকদের। সে দায়িত্ব তাঁরা কখনো এড়িয়ে যেতে পারেন না।’

এ সময় বাপার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মাদ জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেঙ্গুকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। একটি সাধারণ এবং অন্যটি মারাত্মক ডেঙ্গু। মারাত্মক ডেঙ্গু হলে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যাওয়াসহ আরও অনেক জটিল উপসর্গ দেখা দেয়। সাধারণত ডেঙ্গু হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। এর ফলে রক্তনালি থেকে আরও বেশি তরল বের হয়ে যাবে।

চিকিৎসক এবং সেবিকাদের ডেঙ্গু বিষয়ে ভালো প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার ২০-এর বেশি থেকে একের নিচে নামান সম্ভব বলে জানান ড. আবু মোহাম্মাদ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, যাদের ডেঙ্গু হয়নি এমন লোককে টিকা দিলে এর ফল খারাপ হয়। সে জন্য যাদের একবার ডেঙ্গু হয়েছে তাদের ডেঙ্গুর টিকা দেওয়া ভালো।

মোহাম্মাদ জাকির হোসেন আরও বলেন, বিশ্বে বর্তমানে ১০০টির মতো দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৭০ সালে এটি নয়টি দেশে ছিল। পৃথিবীর ৭০ শতাংশ ডেঙ্গু সংক্রমণ এশিয়ায় দেখা যায়। কোনোভাবে একবার যদি ভাইরাসটি একটি মশার মধ্যে প্রবেশ করে তাহলে তা মশাটির মধ্যে সারা জীবনের জন্য থাকে। এডিস মশা ডিম পাড়ার আগে অনেকবার মানুষকে কামড়ায়, অথচ অন্য মশা শুধু একবার কামড়ায়। এডিস যে ডিম পাড়ে সে ডিমও ডেঙ্গুর ভাইরাস বহন করে যা সবচেয়ে মারাত্মক।

আলোচনা সভায় বাপার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির সদস্যসচিব বিধান চন্দ্র পাল বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পাশাপাশি ডেঙ্গুর সংক্রমণও সারা দেশের মানুষের জন্য নতুন ভীতি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। করোনাভাইরাসের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগের উপসর্গ মিলে যাওয়ায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে ধরে নিচ্ছে। ফলে জটিলতা আর বাড়ছে।

কোন এলাকা থেকে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালগুলোতে আসছে—তা নিয়ে নিয়মিতভাবে গবেষণা হওয়া জরুরি বলে মনে করেন বিধান চন্দ্র পাল। সে অনুসারে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি

শনিবারের আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাপার নির্বাহী সহসভাপতি ডা.মো. আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, নির্বাহী সদস্য তোফাজ্জল আলী, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির, নদী ও জলাশয়বিষয়ক কমিটির সদস্য সচিব ড.হালিমদাদ খান প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন