default-image

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের কথা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি সতর্ক ছিলেন। তিনি জানতেন, বাঙালি জাতিকে একত্র করা ছাড়া মুক্তির পথ নেই। তিনি ইতিহাস পড়েছিলেন। এ দেশের মানুষকে একত্র করতে পাকিস্তানের নাকের ডগায় বসে স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর সে ডাকে সাড়া দিয়েই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলার মানুষ।’ কথাগুলো বলছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক)। আজ রোববার ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে আয়োজিত একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি।

একাডেমির শামসুর রহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদ আলী জহির। গত জানুয়ারি মাসে ভারতের মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’-তে ভূষিত হন তিনি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ আলী জহির ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে কাকুল সামরিক একাডেমিতে সিনিয়র ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আগস্টের শেষে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে ভারতে এসে যুদ্ধে যোগ দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে আর্টিলারি ব্যাটারি পরিচালনায় দক্ষতার জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, ‘আমি ইতিহাসের কথা বলছি। একাত্তর সালের জানুয়ারিতে লারকানায় জুলফিকার আলী ভুট্টোর বাড়িতে পাখি শিকারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই পূর্ব পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। পাখি শিকারের আড়ালে পাকিস্তানিরা বাঙালি গণহত্যার ষড়যন্ত্র করে। ইয়াহিয়া-ভুট্টোর মধ্যে যে আঁতাত, তা জানতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর কাছে দুটি পথ খোলা ছিল। একটি হলো আত্মসমর্পণ করা, আরেকটি স্বাধীনতা ঘোষণা করা। বঙ্গবন্ধু ষড়যন্ত্রের বিষয়টি টের পেয়েছিলেন।’

সাজ্জাদ আলী জহির তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, তিনি সে সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে থাকার কারণেই ষড়যন্ত্রের কথাটি জানতে পেরেছিলেন। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে ওই ষড়যন্ত্রের বিষয় জানতে পেরেছিলেন। পরে ১৯৭২ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুকে ষড়যন্ত্রের কথাটি আগে জানতে পেরেছিলেন কি না, তা জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু হেসে বলেছিলেন, নেতা হিসেবে তাঁর তা অজ্ঞাত ছিল না।

এ বীর মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে একত্র করতেই মনস্থির করেন। ডাক দেন গেরিলা যুদ্ধের। তাঁর ভাষণেই তা স্পষ্ট। তিনি পাকিস্তানের নাকের ডগায় বসে স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি জানতেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে আইএসআইসহ পাকিস্তানের সেনারা হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবু তিনি বাঙালির সাহসিকতার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তিনি জানতেন বাঙালি বীরের জাতি।

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবার ৭ মার্চেরও সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এ দিনটিও ছিল রোববার। আজও রোববার দিবসটি পালিত হচ্ছে। ৭ মার্চের সেই ভাষণ আমি উপস্থিত থেকে শুনেছিলাম। সেই ভাষণ বঙ্গবন্ধুর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক ভাষণ ছিল।’

শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘আজ ৭ মার্চ একটি অসাধারণ দিন। জাতির ইতিহাসে এ দিনটি সচরাচর আসে না। বিশ্বে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যাঁরা সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আর কোনো জাতির এ গৌরব নেই। বঙ্গবন্ধু ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে হেঁটে এ রকম একটি দিনকে বাস্তবায়ন করেছিলেন। খুশির খবর হচ্ছে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ পাঁচটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন