default-image

মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি নগরের বহদ্দারহাটে। তিনি পরিবার নিয়ে বাড়ির দোতলা ভবনের ওপরের তলায় থাকেন। নিচের তলায় সচরাচর ঘরোয়া বৈঠক সারেন এবং আলাপ করে থাকেন দর্শনার্থীদের সঙ্গে। এর আগে গত বছরও জলাবদ্ধতায় একাধিকবার তলিয়ে গিয়েছিল মেয়রের বাড়ির উঠান ও সামনের রাস্তা। আশপাশের এলাকাগুলোতেও একই অবস্থা। একেকবার পানি উঠলে নামতে ১০ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

মেয়রের বাড়িতে বারবার পানি ওঠার জন্য চাক্তাই খালসহ আশপাশে খালে বাঁধ দেওয়ার বিষয়কে দায়ী করে আসছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে রেখেছে।

এ জন্য পানি নামতে পারছে না। তাই বারবার জলাবদ্ধতা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন ঠিকমতো নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার করলে অন্তত পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু তা না করার কারণে বারবার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মেয়র যেমন কষ্ট পাচ্ছেন, তেমনি তাঁরাও দুর্ভোগে আছেন।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসও দাবি করেছেন, খাল থেকে বাঁধ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন নালা-নর্দমাগুলো ঠিক সময়ে পরিষ্কার করলে পানিনিষ্কাশনে বাধা থাকত না।

সিটি করপোরেশন অন্য সংস্থার ওপর দায় চাপালেও বহদ্দারহাটসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খননে একটি প্রকল্প গত আট বছরেও বাস্তবায়িত করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। মেয়রের পাশের এলাকা বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খালটি খননের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০১৪ সালের জুনে। কিন্তু তা এখনো খনন করা হয়নি। পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এসব এলাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

সোমবার বেলা ১১টায় নগরের টাইগারপাসে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সাততলা ভবনের দোতলায় মেয়রের কার্যালয়। এর সামনের অংশ ছিল ফাঁকা। কর্মকর্তা, দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল না। অলস সময় পার করছিলেন মেয়র কার্যালয়ের কর্মীরা।

মেয়রের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোস্তফা জামাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, রোববার রাত থেকে মেয়রের বাড়িতে পানি উঠে যায়। নিচতলার ঘরেও পানি ছিল। ঘরে ও রাস্তায় পানি থাকার কারণে আজ নগর ভবনে যেতে পারেননি মেয়র। দুপুরের পর বের হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আদৌ বের হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন