বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রকল্পটি এসেছে। প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির পরিবীক্ষণ হয়ে গেছে। একে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখব।
এম এ মান্নান, পরিকল্পনামন্ত্রী

নেত্রকোনায় গত ২০ মাসে (গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত) পানিতে ডুবে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই শিশু। তাদের বয়স ২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

এ তথ্য বেসরকারি সংগঠন সোসাইটি ফর মিডিয়া অ্যান্ড সুইটেবল হিউম্যান কমিউনিকেশন টেকনিকসের (সমষ্টি)। প্রতিষ্ঠানটি পত্রিকায় প্রকাশিত ডুবে মৃত্যুর খবরের ওপর ভিত্তি করে উপাত্ত সংগ্রহ করে।

নেত্রকোনার সিভিল সার্জন মো. সেলিম মিয়া বলেন, নবজাতকের নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বাদ দিলে আর অন্য কোনো রোগে এত শিশুর মৃত্যু হয় না। তাই শিশুদের দেখভাল করার ব্যবস্থা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি থাকলে পানিতে ডুবে মৃত্যু এড়ানো যেত।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২০’-এ দেশে বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরা হয়। তাতে দেখা যায়, ৫ বছরের কম বয়সী ৪৪ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া। এরপরই পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্থান। এটি প্রায় ৯ শতাংশ। এরপর আছে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, অপুষ্টি, নানা ধরনের জ্বর, জন্ডিস ও জটিল ডায়রিয়া। তবে বিবিএসের ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসে পানিতে ডুবে ঠিক কত শিশু মারা যায়, তার সংখ্যা বলা হয়নি।

ডুবে মৃত্যু নিয়ে সর্বশেষ ২০১৬ সালে করা বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভের প্রতিবেদন আছে। ওই জরিপ অনুযায়ী, দেশে ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর (আঘাতজনিত) ৩৭ শতাংশই হয় পানিতে ডুবে। সেই হিসাবে, বছরে সাড়ে ১৪ হাজার শিশু ডুবে মারা যায়।

* ৫ বছরের কম বয়সী ৪৪ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া। এরপরই পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্থান। * দেশে ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর (আঘাতজনিত) ৩৭ শতাংশই হয় পানিতে ডুবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই মৃত্যু প্রতিরোধে ১০টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। এর তিনটিই বাংলাদেশের সাফল্যের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া। এগুলো হলো পুকুরপাড়ে বেড়া দেওয়া, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও সাঁতার শেখানো।

পানিতে ডুবে মৃত্যু নিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় কাজ করছে বেসরকারি সংগঠন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ (সিআইপিআরবি)। এই মৃত্যু রোধে প্রতিষ্ঠানটির সমাজভিত্তিক কর্মসূচি সফল বলেও প্রমাণিত হয়েছে।

সিআইপিআরবির জরিপে দেখা গেছে, দেশে পানিতে ডুবে সবচেয়ে বেশি মারা যায় ২ থেকে ৯ বছরের শিশু। বেশির ভাগ মৃত্যু হয় সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটার মধ্যে। এ সময়ে শিশুদের দেখভালের ব্যবস্থা রাখা হলে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। আবার পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের সাঁতারের প্রশিক্ষণ দিলে তাদেরও মৃত্যু রোধ হয়।

প্রতিষ্ঠানটির উপনির্বাহী পরিচালক আমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে করণীয় নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বলছি। এখন এ নিয়ে তাদের তৎপরতা আশাব্যঞ্জক।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্প হলো, ‘সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং শিশুর সাঁতার–সুবিধা প্রদান প্রকল্প’। প্রকল্পের ৮০ ভাগ অর্থই দেবে সরকার। বাকিটা আসবে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিজ এবং রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউট (আরএনএলআই) নামের দুই আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে। এ বছর শুরু হয়ে চলবে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর সুরক্ষায় দিবাযত্ন কেন্দ্র, ওই বয়সী ২ লাখ শিশুর জন্য সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা রাখা আছে। এসবের পাশাপাশি দুই লাখ অভিভাবককে শিশুপালন বিষয়ে সক্ষমতা ও সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ও আছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় গত জুলাই মাসে। সেখানে প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) কিছু পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা ফেরত দিয়েছে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী সংশোধনের পর তা শিগগির পাঠানো হবে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান অধিশাখা) নার্গিস খানম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে এই মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন