default-image

ব্রাউন্স ও লফলারের এই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিসর্গ আর তার জাতিবৈচিত্র্যের ঐশ্বর্যের কথা। এই পাহাড়ি জনপদ কিছুদিন আগে পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উৎসবে মেতেছিল। এ উৎসব বৈসাবি নামে পরিচিতি পেয়েছে। পাহাড়ের তিনটি প্রধান ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের উৎসবের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে নাম হয়েছে বৈসাবি। এর মধ্যে ত্রিপুরাদের বৈসুক, মারমাদের সাংগ্রাই আর চাকমাদের বিজুর আদ্যক্ষর মিলে হয়েছে বৈসাবি। পাহাড়ের আরও কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীও এ সময় নিজ নিজ উৎসব উদ্‌যাপন করে।

দুই বছর ধরে করোনার প্রকোপে উৎসব সেভাবে উদ্‌যাপিত হয়নি পাহাড়ে। প্রকোপ কমে আসায় এবার এপ্রিলের শুরু থেকেই ছিল বৈসাবি ঘিরে নানা আয়োজন। এসব আয়োজনে নতুন সংযোজন পাহাড়ের সাতটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার শব্দকোষ প্রকাশ। শব্দকোষগুলোর মধ্যে রয়েছে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, লুসাই ও খিয়াং। এগুলো প্রকাশ করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে সমতল ও পাহাড়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার নানা ধরনের বই প্রকাশিত হয়েছে।

default-image

সাতটি ভাষায় প্রকাশিত এসব শব্দকোষের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে সম্প্রতি। উদ্যোক্তারা বলছেন, ভাষা বিকাশের তৎপরতায় এটি শুরু মাত্র। গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কাজটি উদাহরণ সৃষ্টিকারী। একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষাগুলোর সুরক্ষায় এমন উদ্যোগ জাতীয়ভাবে হওয়া উচিত। সেটি করেছে একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। অন্য ভাষার এই চর্চা বাংলা ভাষার চর্চাকেও গতিশীল করবে।

‘আমরা শুরু করলাম মাত্র। এ কাজ আমরা এগিয়ে নিতে চাই।’
অংসুই প্রু চৌধুরী, প্রধান উদ্যোক্তা রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
default-image

কেন এই উদ্যোগ

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বাস। তাদের ভাষা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক বিকাশ হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। নতুন প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে মায়ের ভাষা। এ অবস্থায় ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় পাহাড়ের সাত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার শব্দকোষ ও অভিধান তৈরি করেছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী মারমা জাতিগোষ্ঠীর। তিনি বলছিলেন, ‘আমি আমার ভাষায় শব্দ শতকরা ৯০ ভাগ বুঝি। আমার সন্তানেরা এর ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বোঝে। আর তাদের ছেলেমেয়েরা আরও কম বোঝে। একসময় দেখা যাবে আমাদের জাতির কেউ আর নিজ ভাষা বুঝতে পারছে না, কথা বলতে পারছে না।’

শব্দকোষগুলো প্রকাশের উদ্দেশ্য ভাষা সুরক্ষা। এর পাশাপাশি মাতৃভাষায় শিক্ষাসহায়ক উপাদানের জোগান দেওয়াও অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান এ কাজের সঙ্গে যুক্ত রাঙামাটি জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা।

চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি—এই পাঁচ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রাক্-প্রাথমিকের শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদানের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। কিন্তু এসব ভাষায় পাঠ্য উপকরণের অভাব আছে। সেই অভাব কিছুটা হলেও পূরণ হবে এই শব্দকোষের মাধ্যমে।

‘আমাদের গবেষণায় দেখেছি, এসব ভাষায় বাংলা বা ইংরেজি ভাষার মিশ্রণ ঘটেছে। একটি নির্দিষ্ট শব্দ নির্দিষ্ট ভাষায় কী বলা হয়, তা নতুন প্রজন্ম শব্দকোষ খুললেই বুঝতে পারবে। ভাষায় মিশ্রণ এতে কমতে পারে।’
কর্নেলিয়াস টুডু, সিলের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর
default-image

সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষাই বিপন্ন

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষাই এখন বিপন্ন। এসব ভাষার ওপর সামাজিক-ভাষাতাত্ত্বিক জরিপ করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকের (সিল) বাংলাদেশ শাখা। সংগঠনটি ২০০২ সাল থেকে এযাবৎ মোট ৩০টি ভাষার ওপর জরিপ চালিয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা ছাড়া শিক্ষা বা কোনো কাজেই নিজ ভাষা ব্যবহার করতে পারে না ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা। এসব ভাষায় বাংলা ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটছে হরদম। বয়সে প্রবীণেরা নিজ ভাষায় কথা বলতে পারলেও নতুন প্রজন্ম ভাষাটির কোনো ব্যবহারই জানে না।

সিলের গবেষকেরা বলছেন, পৃথিবীতে ভাষার অবস্থা বিবেচনার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য নিরিখ হলো ‘ফিশম্যান মানদণ্ড’। সেই মানদণ্ডের বিচারে বাংলাদেশের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষাই বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

default-image

ফিশম্যান মানদণ্ডের পুরো নাম গ্রেডেড ইন্টারজেনারেশনাল ডিসরাপশেন স্কেল (জিআইডিএস)। একটি ভাষার অবস্থা কী, সেটি বোঝাতে এই মানদণ্ডের আটটি স্তর রয়েছে। চতুর্থ স্তরে থাকলেও ভাষাটি বিপন্ন হিসেবে গণ্য হয় না। কিন্তু চারের পরের স্তরে, অর্থাৎ পঞ্চম স্তরে চলে গেলে ওই ভাষা বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হবে। ওই মানদণ্ডের প্রথম স্তরের বিবেচনার বিষয় হলো, ভাষাটি ঊর্ধ্বতন সরকারি পর্যায়ে ব্যবহৃত হয় কি হয় না। বাংলাদেশের কোনো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষাই সরকারি পর্যায়ে ব্যবহৃত হয় না।

বিপন্নতার শুরু যে পঞ্চম স্তরে, সেই স্তরের বিচার্য বিষয় হলো, ভাষাটির মাধ্যমে শিক্ষার ব্যাপক বিস্তৃতি এবং ওই ভাষায় সাহিত্য রয়েছে কি না।

default-image

সিলের জরিপে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যার দিক থেকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বড় চাকমাদের ভাষায় সাহিত্য রয়েছে। কিন্তু জরিপের উত্তর দানকারীদের বেশির ভাগ বলছেন, এই সাহিত্য সামান্য কিছু লোক চর্চা করেন।

সিলের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কর্নেলিয়াস টুডু মনে করেন, এই সাত ভাষার শব্দকোষ এসব ভাষার সুরক্ষায় বড় একটা হাতিয়ার হবে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখেছি, এসব ভাষায় বাংলা বা ইংরেজি ভাষার মিশ্রণ ঘটেছে। একটি নির্দিষ্ট শব্দ নির্দিষ্ট ভাষায় কী বলা হয়, তা নতুন প্রজন্ম শব্দকোষ খুললেই বুঝতে পারবে। ভাষায় মিশ্রণ এতে কমতে পারে।’

যেভাবে সাত ভাষা নিয়ে কাজ হলো

পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলায় তিন জেলা পরিষদ আছে। বাংলাদেশের অন্য জেলা পরিষদগুলোর তুলনায় এসব পরিষদের কার্যক্রম অনেক বিস্তৃত। তিন জেলা পরিষদের তিনটি পৃথক আইন আছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে পরিষদ কার্যাবলির প্রথম তফসিলের ৩(ঠ) তে ‘মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা’ কার্যক্রম পরিচালনা করার আইনগত বিধান রাখা আছে। পার্বত্য অঞ্চলের ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সবার বাস সব জেলায় নেই। রাঙামাটিতে মোট সাতটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বাস। জেলা পরিষদগুলো এসব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নের নানা দিক দেখাভালের জন্য দায়বদ্ধ। ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থাকার পরও সাত ভাষার শব্দকোষ করার কারণ এটিই। বাকি চার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ম্রো, চাক, খুমী ও বমদের বাস বান্দরবানে। খাগড়াছড়িসহ তিন জেলাতেই চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের বাস রয়েছে।

ভাষার শব্দকোষ তৈরি করতে এসব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে দায়িত্ব দেয় রাঙামাটি জেলা পরিষদ। আর প্রতিটি সংগঠনকে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হয়।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলার সাত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার অভিধান বা শব্দভান্ডার প্রকাশনাবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক রেমলিয়ানা পাংখোয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব দেওয়ায় কাজটি সহজ হয়েছে।’

চাকমাদের ভাষার জন্য জুম ইসথেটিক কাউন্সিল (জ্যাক), মারমাদের মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসাস), ত্রিপুরাদের ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশন, তঞ্চঙ্গ্যাদের বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা, পাংখো সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, খিয়াংদের বাংলাদেশ খিয়াং কল্যাণ সংস্থা কাজ করে। আর লুসাইদের কয়েকজন নেতৃস্থানীয়র মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন হয়।

সাত ভাষার মধ্যে তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার শব্দকোষের কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি জানান, ২০০৮ সালেই তাঁদের সংগঠনের মাধ্যমে তঞ্চঙ্গ্যা ভাষা কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের তঞ্চঙ্গ্যা বৈদ্যদের ব্যবহৃত বর্ণমালা সংগ্রহ করে। কিন্তু আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় অভিধান তৈরির কাজটি বন্ধ ছিল। এ বছর রাঙামাটি জেলা পরিষদের আহ্বানে তারা অভিধান প্রণয়ন কমিটি করে। তারাই এই অভিধান তৈরির কাজ করে।

রাঙামাটির একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী খিয়াং। তাদের জনসংখ্যা চার হাজারের মতো। এ ভাষার অভিধানের কাজে ছিলেন অনিক খিয়াং। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতির বয়স্ক মানুষদের সহযোগিতা নিয়েছি। এরপর ঠিক করেছি হারিয়ে যাওয়া শব্দগুলো। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় শব্দগুলোর একটি তালিকাও আমরা দিয়েছি।’

এই শব্দকোষগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে এসব ভাষার অর্থ বাংলা ও ইংরেজি ভাষাতেও দেওয়া আছে। শুধু শব্দের অর্থ নয়, বর্ণমালা, ধ্বনি, লিখন পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক শব্দার্থ দেওয়া আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ত্রিপুরা। রাঙামাটি ছাড়াও খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে তাদের বসবাস আছে। তাদের ভাষা ককবরক। ত্রিপুরা শব্দকোষে রোমান হরফে ত্রিপুরাদের শব্দগুলো লেখা হয়েছে। পড়ার সুবিধার্থে বাংলা হরফেও এর উচ্চারণ লেখা হয়েছে।

ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এই ভাষা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন সাগরিকা রোয়াজা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অভিধান তৈরি করতে প্রয়াত লেখক সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিনয় দেববর্মার লেখা একাধিক বই এবং অভিধানের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের মাধ্যমেও শব্দ সংযোজন করা হয়েছে।

একটি উদ্যোগ, অন্যদের শিক্ষা

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সরকারি হিসাবে ৫০। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি এ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংগঠনগুলোর। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর সিলেট জেলা, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল এবং উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বাস। তাদের রয়েছে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ভাষার উৎকর্ষ। কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ খুব বেশি নেই। এর মাঝে রাঙামাটি জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ অন্যদের জন্য শিক্ষণীয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদের সভাপতি এ কে শেরাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে সাংস্কৃতিক একাডেমি আছে। তারা এসব কাজ করতে পারে। চাইলে জেলা পরিষদগুলোও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। কিন্তু তেমন উদ্যোগ দেখি না। রাঙামাটি জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ তাদের উদ্দীপ্ত করুক—এ প্রত্যাশা করি।’

যে শব্দগুলো হারিয়ে গেছে, তা সংরক্ষণ বা উদ্ধার করা দুরূহ কাজ। সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে শব্দকোষ তৈরি হওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু শুধু শব্দের অভিধানই ভাষা টিকিয়ে রাখার মূল প্রক্রিয়া হতে পারে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ শাহরিয়ার রহমান। তাঁর মতে, ‘এর জন্য চাই শব্দের প্রয়োগ করে বাক্য গঠন।’

এই অভিধানে সাত ভাষায় উচ্চারণের পাশাপাশি বাংলায় উচ্চারণ তুলে ধরা হয়েছে। শাহরিয়ার রহমান বলেন, শব্দকোষে আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (আইপিএ) তুলে ধরলে এটি সবার জন্য ব্যবহার্য হতে পারত। তবে শুরু হিসেবে যতটুকু করা হয়েছে, তা সত্যিই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

সাত ভাষার শব্দকোষের উদ্যোক্তারাও তাঁদের এ কাজকে প্রাথমিক কাজ বলেই দাবি করছেন। এ কাজের প্রধান উদ্যোক্তা রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুরু করলাম মাত্র। এ কাজ আমরা এগিয়ে নিতে চাই।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন