পুলিশ কর্মকর্তা খুনের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি

রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় বাড়িতে ঢুকে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সুপার ফজলুল করিম খানকে (৬৪) গুলি করে হত্যার ঘটনায় আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
মতিঝিল অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) আশরাফুজ্জামান প্রথম আলো ডটকমকে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা হয়নি।
আজ ফজলুল করিম খানের শ্যালক তৌহিদ কাশেম খান (৪০) জানান, জুমার নামাজের পর ওই বাড়িতে পুলিশ আসার কথা। তাদের সঙ্গে কথা বলে মামলা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারছি না, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হতে পারে।’ চাচাতো ভাইদের সঙ্গে ফজলুল করিম খানের বিরোধ প্রসঙ্গে তৌহিদ কাশেম খান বলেন, ‘বিরোধ থাকলেও তাঁরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, এ কথা তদন্ত ছাড়া জোর দিয়ে বলা যায় না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিম রামপুরার বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ফজলুল করিম সর্বশেষ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কর্মরত ছিলেন। ছয় বছর আগে তিনি অবসরে যান। তিনি পশ্চিম রামপুরার ৭৫/২ ওয়াপদা রোডের পাঁচতলা বাড়ির মালিক। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় তিনি সপরিবারে থাকতেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে অস্ত্রধারী তিনজন দুর্বৃত্ত ফজলুল করিমের বাসায় ঢোকে। এ সময় দরজা খোলা ছিল। ঘরে ঢুকেই দুর্বৃত্তরা প্রথমে ফজলুল করিমের স্ত্রীকে পায়। তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে ও ওই বাসার দুই গৃহকর্মীকে আরেকটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় ফজলুল পড়ার ঘরে পত্রিকা পড়ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে সেখান থেকে কলার ধরে বারান্দায় নিয়ে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে চলে যায়। যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা ফজলুল করিমের মুঠোফোন ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে গেছে। এরপর স্বজনেরা ফজলুলকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফজলুল করিমের মেয়ে ফারজানা করিম অভিযোগ করেন, গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রামকৃষ্ণাদিতে বসতবাড়ির জমি নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাইদের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়াঝাঁটিও চলছিল। তিনি বলেন, ‘ওদের ধরুন। তাহলেই হত্যার কারণ জানা যাবে।’ এ সময় ফারজানার স্বামী হাইকোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মকিম উদ্দিন বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকলেও, সেটাই হত্যার কারণ বলে তিনি মনে করছেন না।