default-image

বিবিসি নির্বাচিত ২০২০ সালে বিশ্বের অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় স্থান করে নেন রিমা সুলতানা রিমু। তিনি কক্সবাজারে ইয়ং উইমেন লিডার্স ফর পিসের সদস্য। এটা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নারী অধিকার সংগঠন গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব উইমেন পিস বিল্ডার্সের কর্মসূচির অংশ। সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নারীদের উন্নয়নে কাজ করছে সংস্থাটি। আর তাদেরই একজন হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক উন্নয়নে কাজ করছেন রিমু। বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েশিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। রিমা সুলতানা তাঁর কাজ, প্রত্যাশা আর স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে আপনার দেখা আপনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো কী কী?

রিমা সুলতানা রিমু: স্বাধীনতার ৫০ বছরে তুলনামূলকভাবে বেড়েছে নারীশিক্ষার হার। আমি নিজেও এই পরিবর্তনকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন হিসেবে মানি। স্বাধীনতার ৫০ বছরে শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার হার আগে অনেক কম ছিল, এখন অনেক বেড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া এখন অনেকটাই সহজ।

‘নারী’ বলে কোনো বাধা এসেছে কি?

রিমা সুলতানা রিমু: আমাদের ধ্যানধারণায় খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে কি? উত্তরটা সম্ভবত সবাই জানি, না। আমাকেও শুরুতে অনেক বাধাবিপত্তি সইতে হয়েছে। প্রথম বাধা ছিল পরিবার থেকে। পরিবারের অনেকে প্রশ্ন করেছেন, এই কাজ কেন করবে? ক্যাম্পে কেন যাবে? ক্যাম্পে যাওয়া তো ভালো নয়। আশপাশের মানুষ বলেছেন, এই সব কাজ করলে মেয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এসবের মধ্যেই পাঠদানের লক্ষ্যে অটল থেকে এগিয়ে গেছি।

বিজ্ঞাপন

আপনার ক্যারিয়ারের সন্ধিক্ষণ কোনটি ছিল?

রিমা সুলতানা রিমু: আমি তখন স্কুলের গণ্ডি মাত্র পেরিয়েছি, তখন থেকে। ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর আমি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব উইমেন স্কিল বিল্ডার্সের একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি। এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল এনজিও এবং এদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে একটি স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন, জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা। সেখানেই পাঁচ দিনের ট্রেনিংয়ে সমাজে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া অনেক বিষয় নতুন আঙ্গিকে জানার সুযোগ পাই। ওই ট্রেনিং সেশনটাই আমার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
আমার কাজের স্বীকৃতি এসেছে করোনা মহামারির মধ্যেই। এই দুঃসময়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে এসেছে। কারণ, কোভিড ১৯-এর কারণে ২০২০ সালে আমি বিভিন্ন অনলাইন সামিটে অংশগ্রহণ করি। এর মধ্যেই ইউনিসেফ আমার কাজ নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে ইউএন উইমেন থেকেও আমার কাজগুলো নিয়ে একটি ব্লগে প্রকাশ করে। করোনার দুঃসময়টাই আমার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে।

এ সময়ে তরুণদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা ও পরামর্শ কী?

রিমা সুলতানা রিমু: নারীদের অধিকার ও সমাজবদলের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে চাওয়া সব তরুণের জন্য আমার বার্তা খুব সহজ ও স্পষ্ট। অনেক সময় দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবক বা সমাজকর্মী হিসেবে অনেকেই কাজ শুরু করে মাঝপথে নানান প্রতিবন্ধকতায় ঝরে পড়ে। ইচ্ছা থাকলেও কাজগুলো করতে পারে না। তাই আমি তরুণদের বলব, যত বাধাই আসুক না কেন, সেগুলোকে চ্যালেঞ্জে হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। সমাজের যেসব নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে, সেগুলোকে পরিবর্তনের জন্য তরুণেরা এগিয়ে আসুক। কারণ, তরুণেরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। সারা পৃথিবীই বদলাবে তরুণদের হাত ধরে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন