বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে ইদানিং অনেক আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সাম্প্রতিক ঢাকা সফর সুসম্পর্ক রক্ষার আরও এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। এই অবস্থায় আচমকা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই প্রচেষ্টার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে কোনো কোনো মহলের আশঙ্কা। গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় হুট করে রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে আগাম জানানো দরকার যাতে বাংলাদেশ বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু এবারও তা করা হয়নি।

বাংলাদেশের পেঁয়াজের ঘাটতির প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে ভারত। এবার রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার দুদিনের মধ্যে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম তিন গুণ বেড়ে গেছে। মানুষজন ভীত হয়ে পেঁয়াজ মজুত শুরু করে দিয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের পেঁয়াজ চাষিদেরও ক্ষিপ্ত করে তুলেছে। দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি পেঁয়াজ বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁওয়ে আজও অসন্তোষ দেখা গেছে।

বিভিন্ন রাজ্যে পেঁয়াজ চাষিরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিক্ষোভে শামিল বিভিন্ন কৃষক সংগঠনও। সিপিএমের সংগঠন সারা ভারত কিষান সভা বলেছে, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি রাজনৈতিক। বাজারে পেঁয়াজের দাম এমন কিছু বাড়েনি যাতে রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংগঠনের অভিযোগ, বিহার দখলে রাখতে বিজেপি ও তার শরিক সংযুক্ত জনতা দল পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। তাদের আশঙ্কা, অক্টোবরে ভোটের আগে পেঁয়াজের দাম মারাত্মক বেড়ে গেলে ভোটে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সংগঠনের নেতারা বলেন, গত বছর রপ্তানি বন্ধের সময় দেশে পেঁয়াজের দাম ১০০ রুপিতে উঠে গিয়েছিল। অথচ এবার রপ্তানি বন্ধ করা হলো পাইকারি বাজারে দাম ৩৫-৪০ রুপিতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে। তাঁরা বলেন, এটা করা হলো সেই সময়ে যখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষিরা লোকসানের বহর কিছুটা কম হবে ভাবছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন