default-image

গত সোমবার প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘২৫ জানুয়ারির মধ্যে আসতে পারে টিকা, নিবন্ধন অ্যাপে’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের একটি অংশের প্রতিবাদ জানিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। সংবাদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, করোনা টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিবন্ধন অ্যাপ তৈরিতে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। আইসিটি বিভাগের প্রতিবাদে বলা হয়, অ্যাপ তৈরিতে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি পুরোটাই মনগড়া।

অন্যদিকে একই তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগ। গতকাল এমআইএস বিভাগের পরিচালক মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবাদে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে সংবাদটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কোভিড-১৯ টিকা নিবন্ধন অ্যাপটি তৈরিতে নয়, তা পরিচালনার জন্য এক বছরে ৯০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আইসিটি বিভাগের প্রতিবাদ

আইসিটি বিভাগের প্রতিবাদটি পাঠান বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা শহিদুল আলম মজুমদার। এতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক টিকার সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘সুরক্ষা’ সফটওয়্যার ও অ্যাপটি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের নিজ জনবল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। তাই এই সফটওয়্যার ও অ্যাপ তৈরিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো অর্থ খরচ হবে না। আইসিটি বিভাগ সফটওয়্যারটি তৈরি করে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করবে।

আইসিটি বিভাগের প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, এই সফটওয়্যার ও অ্যাপ তৈরিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো অর্থ খরচ হবে না।

প্রতিবাদপত্রে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, টিকাবিষয়ক অ্যাপ তৈরিতে এক টাকাও খরচ হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, একটি শুভ উদ্যোগকে (ভ্যাকসিনেশন) বাধাগ্রস্ত করতে এমন সংবাদ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইসিটি বিভাগে একটি ডেটাবেইস (তথ্যভান্ডার) সফটওয়্যার আগে থেকেই তৈরি আছে। সেই ডেটাবেইসের ওপর ‘সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হবে। ওটাই হবে সেই অ্যাপ। নিজেদের জনবল, অফিস, রিসোর্স ব্যবহার করে কাজটি করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অ্যাপটি তৈরির জন্য আইসিটি বিভাগ থেকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবাদ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো প্রতিবাদে বলা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমআইএস বিভাগের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অ্যাপ তৈরি করতে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্যটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

ব্যাখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, কোভিড-১৯ টিকা নিবন্ধন অ্যাপটি সরকারের আইসিটি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব উদ্যোগে নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে, যেখানে অর্থের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অ্যাপ তৈরিতে ৯০ কোটি টাকা খরচের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

অধিদপ্তরের প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, অ্যাপটি পরিচালনার জন্য হোস্টিং খরচ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি ভেরিফিকেশন, মাস্কিংসহ এসএমএস পাঠাতে বছরে আনুমানিক ৯০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তবে এনআইডি ভেরিফিকেশন এবং এসএমএস সরকারেরই অন্য বিভাগ পরিচালনা করবে। এ কারণে ব্যয় সংকোচনের সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলমান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন