বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠকর্মীদের পাশাপাশি গণমাধ্যম জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর সঙ্গে সারা দেশে যুক্ত ছিল ছোট-বড় বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা এনজিও। ছোট পরিবার, সুখী পরিবার—এই প্রচারণা ব্যাপকভাবে চলেছিল। ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তাই যথেষ্ট—এই স্লোগানও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। স্বাধীনতার সময় সক্ষম দম্পতিদের ৮ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করত, এখন সেই হার বেড়ে ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন কম সন্তান নেওয়ার পক্ষে কাজ করেছে। মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা ভেবে পরিবার ছোট করেছে। ’

পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্বব্যাংক বলছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের টিএফআর ছিল ৬ দশমিক ৬। অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানের টিএফআর কম ছিল। বর্তমানে পাকিস্তানের টিএফআর ৩ দশমিক ৫। অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।

শুধু অর্থনীতি নয়, টিএফআর নারীর স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রওশান আরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্তান কম হওয়ায় নারী কাজের সুযোগ বেশি পাচ্ছে, শিক্ষার সুযোগ বেশি পাচ্ছে। বারবার সন্তান ধারণ, সন্তান জন্মদান ও সন্তান প্রতিপালনের যে স্বাস্থ্যঝুঁকি, তা আগের চেয়ে কমেছে। টিএফআর কমে যাওয়ার কল্যাণমূলক সুবিধা বাংলাদেশের নারীরা ভোগ করতে পারছে।’

তবে বাংলাদেশের সব এলাকায় টিএফআর সমান নয় বা সমানভাবে কমেনি। সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে টিএফআর বেশি।

সরকারি হিসাব বলছে, দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। টিএফআর আরও কমানো সম্ভব হলে দেশের ওপর জনসংখ্যার চাপ বাড়বে না। বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছিল মূলত টিএফআর কমানোর মাধ্যমে। কিন্তু গত এক দশকে সেই অগ্রগতি কিছুটা থেমে আছে। ২০১১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত টিএফআর কমছে না বা খুব সামান্য কমছে। অধ্যাপক রওশান আরা বেগম বলেন, ‘দেশে বাল্যবিবাহ অনেক বেশি। আবার কম বয়সী নারীদের মধ্যে টিএফআর বেশি।’ অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বর্তমান সমস্যাগুলো সকলের জানা। পিছিয়ে পড়া এলাকা বা বিশেষ জনগোষ্ঠীভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি নিতে হবে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অপূর্ণ চাহিদা দূর করতে হবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন