প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাডেমির গ্রহণযোগ্যতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, কর্মসংস্থানে সুযোগ হয়েছে এবং সমুদ্র-বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী আমরা এ বছর অর্থাৎ ২০২২-এর জানুয়ারি থেকে পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটে আরও চারটি মেরিন একাডেমির কার্যক্রম চালু করেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি আশা করি, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি আগামী দিনে উচ্চ প্রযুক্তির সামুদ্রিক জাহাজ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট দক্ষ মেরিন ক্যাডেট তৈরি করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রায় ৫ হাজার প্রশিক্ষিত ক্যাডেট সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবছর আমাদের অর্থনীতিতে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্ত করে থাকেন। তা ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক পরিসরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে তাঁরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।’

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কৃতী ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। সিনিয়র ক্যাডেট ক্যাপ্টেন নাদিম আহমেদ সব বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক লাভ করেন। একাডেমি কমান্ড্যান্ট সাজিদ হুসেইন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৫৬তম ব্যাচের ক্যাডেটদের গ্র্যাজুয়েট ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন। তাঁকে ক্যাডেটরা রাষ্ট্রীয় সালাম জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৩ সালে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছি। পূর্বের তিন বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সায়েন্স পাস কোর্সকে ২০১৫ সালে চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্সে উন্নীত করেছি। ২০১৮ সালে মাস্টার অব মেরিটাইম সায়েন্স চালু করেছি। প্রশিক্ষণকে যুগোপযোগী করতে ক্যাপ্টেন জাকারিয়া মেরিন সিমুলেশন সেন্টারে ২০১৯ সালে নেভিগেশন সিমুলেটর স্থাপন করেছি। এ বছর ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিমুলেটর স্থাপন করব। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিকে বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নীত করেছি।’

পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটাই বলব, কর্মক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে সব সময় কাজ করবে। এর ফলে নিজেরও যেমন ভালো লাগবে, দেশের মান বজায় থাকবে এবং দেশ আরও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘দুই বছর আগে তোমরা একাডেমিতে যোগদান করেছিলে। কঠোর প্রশিক্ষণ আর রুটিনমাফিক দৈনন্দিন চালচলন—তোমাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন তোমরা অনেক প্রতিকূলতার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। সমুদ্রচারণ কোনো সাধারণ পেশা নয়, এ পেশায় আত্মনিয়োগ করলে সমুদ্রের প্রতি একটা তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য পরিবহন সমুদ্র পথেই হয়ে থাকে। আর বে অব বেঙ্গল এ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। তাই বিশ্ব অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে মেরিন ক্যাডেটদের ভূমিকা অপরিসীম। জীবনধারণের জন্য খাদ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধসহ শিল্পায়নের যন্ত্রপাতির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর পরিবহন বিঘ্নিত হলে গোটা বিশ্বই স্থবির হবে।

বৈশ্বিক মহামারির কারণে বহুসংখ্যক মেরিন অফিসার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সমুদ্রে আটকা পড়লেও মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করায় তাঁদের সাধুবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার মহাসচিবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে, আমরাও করোনাকালে অবিরাম দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মেরিন অফিসার-ইঞ্জিনিয়ারদের ‘কী-ওয়ার্কার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছি।’

পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবে, তোমরা শুধু নির্ভীক সমুদ্রচারী নও, তোমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তোমরা দেশপ্রেম, সততা, আত্মবিশ্বাস ও পেশাদারির সঙ্গে কাজ করবে। যখন এক দেশের পণ্য আরেক দেশে জাহাজে বয়ে নিয়ে যাবে, তোমরা বাংলাদেশের হাজার বছরের সভ্যতা ও সংস্কৃতি তুলে ধরবে। তোমাদের সততা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা ভবিষ্যৎ ক্যাডেটদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের মেরিন ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণে উৎকর্ষ অর্জন, কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং সাইন-অন ও সাইন-অফ সুবিধা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা আমাদের পাশে থাকবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন