বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: কী করছেন?

আসপিয়া: আজই (গত বৃহস্পতিবার) সারদায় প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পৌঁছে প্রশিক্ষণ শুরু করলাম। মাত্র মেসে ফিরেছি।

প্রথম আলো: চাকরি পেয়ে কেমন লাগছে?

আসপিয়া: খুব ভালো লাগছে। এটা আমার ও আমাদের পরিবারের জন্য সেরা আনন্দের অনুভূতি। নিজেকে বিজয়ী মনে হচ্ছে।

প্রথম আলো: প্রথম বেতন পেয়ে কী করবেন?

আসপিয়া: মা আমাদের নিয়ে অনেক কষ্ট করেছেন। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, ভালো খাবারটুকু আমাদের জন্য তুলে রাখতেন। প্রথম বেতনের টাকাটা আমি তাঁর হাতে তুলে দিতে চাই। একটু হলেও মায়ের কষ্টটা মুছে দিতে চাই।

প্রথম আলো: চাকরির খবরটি কীভাবে প্রথম জেনেছেন?

আসপিয়া: আমি নিয়মিত পত্রিকা পড়ি। সেখান থেকেই পুলিশে নিয়োগের বিষয়টি জেনে অনলাইনে আবেদন করে ফেলি। আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি পারব। এরপর তো সবই জানেন—সব পরীক্ষায়ই আমি উত্তীর্ণ হয়েছি। আমিই খবর নিয়ে চাকরি হওয়ার বিষয়টি জেনেছি।

প্রথম আলো: সবার আগে কাকে জানিয়েছেন?

আসপিয়া: মাকে। শুনে মা মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন।

প্রথম আলো: ভাইবোনেরা কী বলেছে?

আসপিয়া: সবাই আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সেদিন আমাদের ঘরে ঈদের মতো আনন্দ ছিল।

প্রথম আলো: বাবা মারা যাওয়ার পর আপনাদের জীবন কীভাবে কেটেছে, সংসার কীভাবে চলেছে?

আসপিয়া: বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পরিবারে দুর্দিন নেমে আসে। তিনি ছিলেন পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ভাই (জাহিদ হাসান) পড়াশোনা বাদ দিয়ে ঢাকায় গিয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। তারপর সংসার কোনোরকমে চলেছে। পড়াশোনা চালিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

প্রথম আলো: যখন শুনেছেন আপনি চাকরি পাবেন না, তখনকার কথা কিছু বলবেন?

আসপিয়া: মনে হয়েছিল আমার মাথার ওপর পাহাড় ভেঙে পড়েছে। নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মনে হচ্ছিল। বরিশালে ডিআইজি স্যার ও এসপি স্যার আমার প্রতি সমব্যথী ছিলেন। তাঁদের চেষ্টায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

প্রথম আলো: আপনাকে নিয়ে যখন একের পর এক খবর প্রকাশিত হচ্ছিল, তখন পরিচিতরা কী বলেছিলেন?

আসপিয়া: চাকরি হচ্ছে না, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বেশির ভাগ মানুষ আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন। কেউ কেউ তির্যক মন্তব্যও করেছেন। সেটা আমাকে ব্যথিত করেনি। কারণ, তাঁদের সংখ্যা খুব কম। অনেক বেশি মানুষ আমার ভালো চেয়েছেন।

প্রথম আলো: জীবন কি বদলে গেল? ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?

আসপিয়া: হ্যাঁ, জীবনটা তো অবশ্যই বদলে গেল। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, এখন হচ্ছে। চাকরি হয়েছে। আসলেই মুহূর্তের মধ্যে জীবন বদলে গেছে। ভবিষ্যতে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের একটা ভালো জীবন দিতে চাই। পেশাগত জীবনে আমার সীমিত সামর্থ্য নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, এখন দেশকে দেওয়ার সময়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন