default-image

একই সঙ্গে জাতীয় দলের অধিনায়ক ও জাতীয় দলের কোচ হওয়ার গৌরব যে হাতে গোনা কয়জন ফুটবলারের আছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম শহীদ উদ্দিন (সেলিম)। ইতিহাসে একবারই এশিয়ান কাপ ফুটবলে খেলেছে বাংলাদেশ। ১৯৮০ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত সে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ১৯৮৪ সালে খেলা থেকে অবসর নিয়ে কোচ হিসেবেও নিজেকে বসিয়েছিলেন সেরাদের আসনে। ১৯৯১

সাফ গেমস ফুটবলে ছিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ।

ফুটবল মাঠের সেই লড়াকু ডিফেন্ডার এখন লড়াই করছেন ক্যানসারের সঙ্গে। দাঁতের মাড়িতে ক্যানসার ধরা পড়েছে তাঁর। গত শনিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছে ৬৭ বছর বয়সী সাবেক ফুটবলারের। অস্ত্রোপচারের খরচসহ পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে নিতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। এত টাকার সংস্থান করা কঠিন বলে সেলিমের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তাঁর পরিবার। সেলিমের জ্যেষ্ঠ পুত্র সাকিব আহমেদ বলেন, ‘বাবার প্রথম অপারেশনে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মতো ব্যয় হবে। বাবা যেহেতু জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন, তাঁর চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি।’

বিজ্ঞাপন

১৯৭৫ সালে মারদেকা কাপ দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক সেলিমের। সেবার মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে গণভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। ১৯৭৭ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত যুব এশিয়া ফুটবলেও তিনি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন। তবে তিনি ‘ব্রাদার্সের সেলিম’ বলেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পুনর্জন্মের নায়কও বলা হয় তাঁকে।

স্বাধীনতার আগে ব্রাদার্সের ফুটবল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেলিমের হাত ধরে গোপীবাগে তাঁদের নিজস্ব বাড়িতেই শুরু হয় ব্রাদার্স ফুটবলের দলের ক্যাম্প। তিনি ছিলেন তৃতীয় বিভাগ দলটির অধিনায়ক ও সংগঠক। তৃতীয় বিভাগ থেকে শুরু করে সেলিম ব্রাদার্সের অধিনায়ক ছিলেন প্রথম বিভাগ পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেন দলটির কোচের। তাঁর অধীনে ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল ব্রাদার্স।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন