প্রধান আসামি জামিনে, আতঙ্কে পরিবার

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামে দোররার আঘাতে কিশোরী হেনা আক্তার নিহত হওয়ার চার বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি)। তবে হেনা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা পলাতক ও জামিনে থাকায় আতঙ্কে দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের।
শরীয়তপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় ও নড়িয়া থানা সূত্র জানায়, কিশোরী হেনা হত্যা ও ধর্ষণের মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে নাম না থাকার পরও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নতুন করে আরও আটজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১২ সালের ৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। নতুন আসামিরা হেনার পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন হওয়ায় পরিবারটি সামাজিকভাবে চাপে পড়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে এ মামলার দুই আসামি কারাগারে রয়েছেন। প্রধান আসামি মাহাবুব খান ও তাঁর স্ত্রী শিল্পী বেগমসহ কয়েকজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। সিআইডির অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরাসহ ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। চার বছরেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি বর্তমানে বিচার কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সাক্ষীদের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।
হেনার মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘হেনার নির্যাতনের কথা মনে হলে এখনো শিউরে উঠি। রহস্যজনক কারণে পুলিশ অভিযোগপত্রে আমার কয়েকজন স্বজনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ নিয়ে সামাজিকভাবে চাপ রয়েছে। এ ছাড়া আসামিরা পলাতক ও জামিনে থাকায় আতঙ্কে আছি।’
নড়িয়া থানার ওসি শেখ কবিরুল ইসলাম বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি নড়িয়া উপজেলায় কিশোরী হেনা আক্তার ধর্ষণের শিকার হয়। ২৪ জানুয়ারি রাতে চামটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইদ্রিস শেখের নেতৃত্বে সালিসকারীরা হেনাকে দোররা মারার নির্দেশ দেন। দোররার আঘাতে আহত হেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জানুয়ারি রাতে মারা যায়।