ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জন্যও ফারাক্কা ব্যারাজ বড় রকমের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পার্শ্ববর্তী বিহারও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
default-image

দেশভাগের পর বাপ-দাদার ভিটে কামড়ে পড়ে থাকা জনগোষ্ঠীর দ্বিতীয় প্রজন্মের মানুষ মালদহর স্কুলশিক্ষক ও সাংবাদিক মিজান পরামানিক। ফোনে জানালেন, মালদহ আবার ভাঙছে। ১৯৭১ সালে শরণার্থীদের নানা স্মৃতি জড়ানো চিনাবাজার আর নেই।
মালদহের বৈষ্ণবনগরের বীরনগর ১ পঞ্চায়েতের অধীন চিনাবাজার গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের ভাঙনে হারিয়ে গেছে গঙ্গায়। চার বছর আগে ২০১৬ সালে চিনাবাজারের ঠিক পাশেই সরকারটোলা গ্রামে এমনই নদীভাঙন হয়েছিল। সেই ভাঙনে গৃহহীন হন মিজানদের নেতা স্বাধীন সরকার। একাত্তরে শরণার্থীদের ঠিকানা হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীন সরকার। গঙ্গার পানি তারপর অনেক গড়িয়েছে। স্বাধীন সরকার এখন বৈষ্ণবনগরের বিজেপি বিধায়ক। কিন্তু ভাঙন তাঁর পিছু ছাড়ছে না। গঙ্গা তাঁর নতুন বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে হন হন করে।
এবার প্রথমে গঙ্গা আঘাত হানে এলাকার ভাঙন রক্ষা বাঁধে। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে কার্যত সবকিছুই শেষ হয়ে যায় চোখের নিমেষে। জিনিসপত্র সরানোর কোনো প্রস্তুতিই ছিল না নদী পারের মানুষের। আচমকা এমন বিধ্বংসী ভাঙনের জন্য ফারাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা। ব্যারেজের গেটগুলো একসঙ্গে খুলে দেওয়ায় নাকি আচমকা ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।
শুধু বৈষ্ণবনগরের বীরনগর নয়, ভাঙছে সামসেরগঞ্জের নিমতিতা পঞ্চায়েত। ধানঘরা, কামালপুর আর এর লাগোয়া গ্রামগুলো। ভাঙন শুরু হয়েছে সামসেরগঞ্জের শিবপুরেও। ২ সেপ্টেম্বর মাঝরাতে পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছিলেন সামসেরগঞ্জের শিবপুরের অনেকে। রাতে ভাঙন দেখে গ্রামে এসে সবাইকে ডাকেন বিএসএফের জওয়ানেরা। সেই রাতেই নদীতে হারিয়ে যায় বিএসএফ ক্যাম্পসহ প্রায় সাতটি বাড়ি। গ্রামের সবাই এখন সরে গেছেন নিরাপদ দূরত্বে।

বিজ্ঞাপন

ভাঙনের জন্য সবাই দুষছে ফারাক্কা ব্যারাজকে

কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। আসলে এই সিদ্ধান্ত ছিল ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের। দেশভাগের অনেক আগেই তারা ভেবে রেখেছিল ফারাক্কার কথা। তারা মনে করত, কলকাতা বন্দরের জৌলুশ ধরে রাখার একমাত্র সহজ উপায় হচ্ছে পদ্মার মুখ বন্ধ করে দেওয়া। হুগলী-ভাগীরথী নদীর নাব্যতা ধরে রাখার পথ খুঁজতে ১৮৫১ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে পাঁচটি সমীক্ষা করা হয়েছে। এসব সমীক্ষার লক্ষ্য ছিল একটিই, কীভাবে গঙ্গার পানির এক অংশ ঘুরিয়ে হুগলী-ভাগীরথীর যৌবন অক্ষুণ্ন রাখা যায়। তার পেটে জমতে থাকা মেদ বা পলি সরিয়ে ফেলা যায়। জেদাজেদির দেশভাগে অনেক কিছু তালগোল পাকিয়ে গেলেও ফারাক্কা পরিকল্পনা জিন্দা থেকে যায়। জিন্দাবাদ দিতে দিতে পূর্ব বাংলার তৎকালীন রাজনীতিবিদেরা মনের ভুলে নাকি অন্য কোনো কড়ির খেলায় পদ্মার কপালে আগুন দিয়ে বসেন।
যে নীতির ওপর ভিত্তি করে জেলা ভাগ, দেশভাগ হলো, সেই নীতির ব্যত্যয় ঘটল মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রে। কয়েক দিন পূর্ব বাংলার সঙ্গে থাকার পর পতাকা নামিয়ে মুর্শিদাবাদ চলে গেল ভারতের হিস্যায়। হিন্দু, মুসলমান নয়, নদী আর নদীর পানি দেশভাগের ‘জুয়াখেলার’ প্রধান বিবেচ্য হয়ে ওঠে। মুর্শিদাবাদ না থাকলে গঙ্গা শাসন করা যাবে না, কলকাতা বন্দর থাকবে না। এই বুঝটা যাঁদের ছিল, তাঁরা মুর্শিদাবাদ ছাড়লেন না। আমরা বুঝলাম না, পানি না থাকলে না থাকবে পদ্মা, না থাকবে সুন্দরবন।

দেশভাগের প্রায় পাঁচ বছর পর আমাদের একটু হুঁশ আসে। ১৯৫১ সালের শেষ ভাগে এসে পূর্ব বাংলার মুরব্বি পাকিস্তান সরকার ২৯ অক্টোবর (১৯৫১) পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী নদী পুনরুজ্জীবিত করার জন্য শুকনা মৌসুমে গঙ্গা থেকে বিপুল পরিমাণ পানি অপসারণের ফন্দিফিকির নিয়ে কথা বলা শুরু করে। তখন ভারতের জবাব ছিল, পরিকল্পনা প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং এর ফলাফল সম্পর্কে পাকিস্তানি পেরেশানি উদ্বেগ শুধু তাত্ত্বিক, কোনো প্রমাণভিত্তিক নয়। পাকিস্তান সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সিন্ধুর পানি ভাগাভাগি। বরং গঙ্গা তখন সিন্ধুর পানি বণ্টন আলোচনায় নিতান্তই দর-কষাকষির ঘুটিতে পরিণত হয়। সেই থেকে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক লম্বা আলাপ-আলোচনায় রূপ নেয়। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক আলোচনা করে। টেবিলে টেবিলে আলোচনা আর বিবৃতি চললেও ভারত ফারাক্কার নির্মাণকাজ এক দিনের জন্য বন্ধ রাখেনি।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে ভারতের মাত্র ১৮ কিলোমিটার ভেতরে ফারাক্কার মূল নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে। প্রায় ২,২৪০ মিটার (৭,৩৫০ ফুট) লম্বা এই ব্যারাজ বানাতে তখনকার হিসাবে খরচ পড়েছিল প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। সহায়তা করেছিল সোভিয়েত রাশিয়া। ফারাক্কা থেকে ভাগীরথী-হুগলী নদী পর্যন্ত ফিডার খালটির দৈর্ঘ্য ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার)। ব্যারাজটিতে জলকপাট আছে মোট ১০৯টি। ভাগীরথী আর হুগলী নদীতে পানি ঢালার পাশাপাশি ব্যারাজের পানি দিয়ে ফারাক্কা সুপার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির প্রয়োজনও মেটানো হয়। বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ‘পরীক্ষামূলক’-এর বাহানায় ব্যারাজ চালু করে দেয় দিল্লি।

বিজ্ঞাপন

ফারাক্কা ব্যারাজ চালুর পর থেকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদীভাঙনের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। আশির দশকের ছোটখাটো ভাঙন নব্বইয়ের দশকে এসে মারাত্মক রূপ নিতে থাকে। ১৯৯০-০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কিছু ব্লক (ইউনিয়ন) নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। ২০০৪-০৫ সালেও নতুন করে ভাঙতে থাকে বিভিন্ন গ্রাম, পঞ্চায়েত।

২০০৪ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক হিসাবে বলা হয়েছিল, শুধু মালদহ জেলায় ২০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি উর্বর জমি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। আর মুর্শিদাবাদ ২০০৪ পর্যন্ত হারিয়েছে ৩৫৬ কিলোমিটার উর্বর জমি। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার পরিবার।

গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ অ্যাকশন নাগরিক কমিটির জরিপে কালিয়াচাক ও মানিকচকের ৭৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি উচ্চবিদ্যালয়। রুটি-রুজি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪০ হাজার পরিবার চলে গেছে। কাজের সন্ধানে কেউ গেছেন দিল্লি, কেউ গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। মুম্বাইয়ের বাইকুলায় মালদহ অঞ্চলে নদীভাঙাদের পুরো কলোনি রয়েছে, এদের বেশির ভাগ মানুষ ঐতিহাসিক কারণে মুসলিম হওয়ায় প্রায়ই তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে হেনস্তার শিকার হন। কারণ, নদী ভাঙনে কেবল তাদের জিনিসপত্রই নয়, তাদের নথিও হারিয়েছিল। তাদের তাই নিজের দেশে নব্য শরণার্থীতে পরিণত হতে হয়।

উজানের সমস্যা আরও বেশি

৪৫ বছর আগে গঙ্গার ওপর যখন ফারাক্কা চালু করা হয়, তার একটা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জলপ্রবাহের একটা অংশকে হুগলী নদীতে পাঠিয়ে কলকাতা বন্দরকে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া। সে উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল না হলেও ফারাক্কার জেরে গঙ্গার উজানে যে পলি পড়া শুরু হয়েছে, তাতে প্রতিবছরই বর্ষার সময় বন্যার ফাঁদে হাবুডুবু খাচ্ছে বিহার ও উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। বহুদিন ধরেই মালদহ-মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা তীরবর্তী দুর্ভোগ ও বিপর্যয়কবলিত মানুষ ফারাক্কা ব্যারাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ক্ষতিপূরণ, ভূমি ও পুনর্বাসন দাবি করে আসছে। অব্যাহত বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের জন্যও ফারাক্কা ব্যারাজ বড় রকমের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিহারও ফারাক্কার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেখানে চলমান বন্যায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ও ২ লাখ মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিহার রাজ্য সরকারের দাবি, ফারাক্কার কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় প্রতিবছরই রাজ্য বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার ২০১৬ সালে তাঁর রাজ্যের বন্যাদুর্গতির জন্য দায়ী করেছিলেন ফারাক্কা ব্যারাজকে। দিল্লির বন্ধু নিতীশ কুমার দিল্লির কাছে এই ব্যারাজ পরিত্যক্ত ঘোষণার দাবি করছিলেন। ২০১৯ সালে বন্যার সময় আবার ফারাক্কা ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন নিতীশ কুমারের পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা। তাঁর কথা, হয় ফারাক্কা ভেঙে দাও, নইলে বন্যার পানিনিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা করো।

আজ অনেক দাম দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার আর উত্তর প্রদেশ যেটা বুঝতে পারছে সেটা অনেক আগেই অনুধাবন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন চিফ ইঞ্জিনিয়ার কপিল ভট্টাচার্য। তিনি ফারাক্কা পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন। তখন তাঁকে বলা হয়েছিল পাকিস্তানের দালাল। পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়ার এমন মোক্ষম মওকার বিরুদ্ধে যে আওয়াজ তোলা হয়, তাকে আর কিইবা আখ্যা দেওয়া যায়। কল্লোল এবং কালি-কলম গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থেকে সাহিত্য সেবা করলেও তিনি তাঁর বিজ্ঞানভিত্তিক নদীমনস্ক মন দিয়েই ফারাক্কাকে বিশ্লেষণ করেছিলেন। তিরস্কৃত হয়েছেন, চাকরি ছেড়েছেন কিন্তু বিজ্ঞান ছাড়েননি। নদীকে নদীর মতো চলতে দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসেননি একচুলও। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত (১৭ ডিসেম্বর ১৯৮৯) তিনি বিশ্বাস করতেন, ফারাক্কা সবার জন্যই মরণফাঁদ। কারণ:

• গঙ্গা থেকে তুলে নেওয়া ৪০ হাজার কিউসেক পানি ফিডার খাল কিংবা হুগলী-ভাগীরথী ধারণ করতে পারবে না।

• গঙ্গা এবং ভাগীরথীর প্রবাহ রেখার উচ্চতার তারতম্যের কারণে পানি সঞ্চালন কষ্টকর হবে। ফলে গঙ্গা নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য অন্য পথ খুঁজবে।

• প্রথমোক্ত কারণের জন্য মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলাজুড়ে দেখা দেবে জলাবদ্ধতা।

• ব্রহ্মপুত্রের তুলনায় গঙ্গা কম গতি শক্তিসম্পন্ন নদী। এ ধরনের নদীর গতিপথ হয় আঁকাবাঁকা (meandering)। এক বাঁক থেকে আরেক বাঁকের দূরত্বকে বলে মিয়ান্ডার দৈর্ঘ্য এবং একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কয়টা বাঁক রয়েছে, তাকে বলে মিয়ান্ডার ফ্রিকোয়েন্সি। কৃত্রিমভাবে বিপুল পরিমাণে পানি প্রবাহিত করলে হুগলী-ভাগীরথী ও উজানে বিহার পর্যন্ত সব নদীর মিয়ান্ডার ফ্রিকোয়েন্সির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ফলে ওই সব নদীতে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং চর সৃষ্টি ত্বরান্বিত হবে।

• ভাটি অঞ্চলের সব নদীর নাব্যতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।

• শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কম হওয়ার কারণে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেবে।

বিজ্ঞাপন

কপিল ভট্টাচার্যের প্রতিটি আশঙ্কা এখন বেদবাক্যে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে তার দ্বিতীয় বিশ্লেষণটি ‘গঙ্গা নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য অন্য পথ খুঁজবে’। গঙ্গার ক্রমশ পূর্বমুখী ভাঙনের প্রবণতা ও গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যে একদল বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন যে গঙ্গার বাঁ তীরের প্রবাহের চাপটি ক্ষয়কারী চ্যানেল থেকে সরিয়ে দিয়ে চাপ কমিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিতে হবে। সময় থাকতে সেটা করতে না পারলে ’৮৮-এর মতো একটা বিধ্বংসী বন্যায় গঙ্গা পূর্ব দিকের কালিন্দী নদীর সঙ্গে মিশে যাবে এবং সম্মিলিত প্রবাহটি মালদহর নিমসারাই ঘাটে মহানন্দা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাদের সম্মিলিত প্রবাহ বাংলাদেশের গোদাগাড়ী ঘাটে গঙ্গা/পদ্মার সঙ্গে একীভূত হবে। সৃষ্টি হবে নতুন পদ্মা।

সমাধানের উপায় কি আছে?

পৃথিবীর সব সমস্যারই সমাধান আছে। শুধু প্রয়োজন নিজ নিজ খোপ থেকে বেরিয়ে এসে দৃষ্টি প্রসারিত করে চিন্তা করা। গাছটার সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলটাকেও দেখা। দেশ ভাগ না করে যদি আমরা দেশটা স্বাধীন করতে পারতাম, তাহলে কী বিধান হতো? ভূমিবন্দী পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের (সেভেন সিস্টারস) পাশে কে থাকত বন্দরের সুবিধা নিয়ে? বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সে পথ দেখিয়েছে ভারতকে। বাংলাদেশের বন্দরে এখন প্রতিবেশীর জাহাজের অগ্রাধিকার। তারপরও কি কলকাতা বন্দর চালু রাখার জন্য বিহার, উত্তর প্রদেশকে ডুবতে হবে বন্যায়। মালদহ, মুর্শিদাবাদের মানুষ জমিজিরাত হারিয়ে ঠাঁই নেবে মুম্বাই-দিল্লির বস্তিতে অবৈধ বাংলাদেশির তকমা নিয়ে। মনে রাখতে হবে, ফারাক্কা চালু রাখলেও আজ হোক কাল হোক কলকাতা বন্দর ক্রমেই অচল হবে। মোংলা, চট্টগ্রাম, পায়রাকে তার বিকল্প ভাবতে হবে। তবে সবার আগে ফারাক্কাকে দিতে হবে ছুটি।

লেখক: গবেষক। nayeem5508@gmail.com

মন্তব্য করুন