ফেলানী হত্যা মামলা পুনর্বিচারের নির্দেশ

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলা পুনর্বিচারের (রিভিশনাল ট্রায়াল) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার বিএসএফের মহাপরিচালক (বিশেষ-পূর্ব) বিডি শর্মা এ আদেশ দেন।

সম্প্রতি ফেলানীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফের কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে হত্যার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা থেকে এই রায় প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে মামলা পুনর্বিচারের দাবি ওঠে। কলকাতার একটি মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়।

এদিকে ফেলানী হত্যার রায়ের বিচারের কপি অনুমোদনের জন্য বিএসএফের মহাপরিচালকের বরাবরে পাঠানো হয়। এরপর তিনি তা গ্রহণ না করে মামলা পুনর্বিচারের আদেশ দেন। এ ব্যাপারে আজ বিকেলে যোগাযোগ করা হলে বিডি শর্মা প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘ফেলানী হত্যা মামলার রায় অনুমোদনের জন্য আমার কাছে পাঠানো হয়। আমি তা গ্রহণ না করে তা পুনর্বিচারের (রিভিশনাল ট্রায়াল) আদেশ দিয়েছি।’

গত ১৩ আগস্ট থেকে ভারতের কোচবিহারে ফেলানি হত্যার বিচার শুরু হয়। কোচবিহার শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সোনারীতে বিএসএফের ১৮১ ব্যাটেলিয়নের হেড কোয়ার্টারে বিশেষ আদালতে এই বিচারকাজ চলে। এ সময় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আবদুল হানিফ আদালতে সাক্ষ্য দেন।

এই বিচারকাজ পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের বিচারকমণ্ডলী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএসএফের কনস্টেবল অমিয় ঘোষ তাঁর রাইফেল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে ফেলানীকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ১৪ বছরের বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে দিল্লি­ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় তাঁরা দালাল মারফত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় বাঁশের মই দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। বাবা কাঁটাতারের বেড়া পার হতে পারলেও আটকে পড়ে ফেলানী। ওই সময় টহলরত বিএসএফের কনস্টেবল অমিয় ঘোষ ফেলানীকে দেখে গুলি চালান। ফেলানী গুলি খেয়ে কাটতারে ঝুলে ছিল। চার ঘণ্টা ঝুলে থাকার পর নামানো হয় ফেলানীর মরদেহ। দেশে-বিদেশে তীব্র প্রতিবাদ ওঠায় বিএসএফ ফেলানী হত্যায় একটি মামলা দায়ের করে। গঠন করে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট। সেখানেই বিচার হয় ফেলানী হত্যা মামলার। আর বিচারের রায়ে বিএসএফের কনস্টেবল নির্দোষ প্রমাণিত হন।