সিআইডি বলছে, বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফেসবুক কিংবা টিকটকে লাইভে এসে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করলে, আত্মহত্যা করতে পারে এমন কোনো শব্দ লিখলে এবং এসব সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ এমন ভাবভঙ্গি ও আচরণ প্রকাশ করলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারকে তাৎক্ষণিকভাবে জানায়। ফেসবুক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করে এই কাজগুলো করে থাকে।

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, পারিবারিক কলহের জেরে, ব্যবসায় লোকসানসহ নানা কারণে দেশে বছরে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। আগে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করতেন, এখন অনেকে আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলেন বা হতাশা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে যান। বিষয়টি জানতে পারলে এবং সাড়া দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পেলে এসব আত্মহত্যা সহজেই ঠেকানো যায় বলে মনে করছে সিআইডি।

ফেসবুক লাইভে এসে পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মহত্যা করেন ব্যবসায়ী আবু মহসিন খান। তিনি চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর। দীর্ঘক্ষণ ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলার পর আত্মহত্যা করলেও সেটা ঠেকানো যায়নি। পরে বিষয়টি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানায় সিআইডি। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক কামরুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেসবুক আত্মহত্যাসংক্রান্ত তথ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সিআইডিকে জানাচ্ছে। আমরা তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। পরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আত্মঘাতী হওয়া থেকে তাঁদের সরিয়ে আনা হচ্ছে।’

কামরুল আহসান জানান, ফেসবুক যে প্রক্রিয়ায় তথ্য সরবরাহ করে, তাতে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে তাঁরা যেন এ ঘটনার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে জন্য এটা করা হয়।

ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সেখানে প্রেমিকার ব্যক্তিগত ছবি ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে আসছিলেন প্রেমিক। বিষয়টি জানাজানির পর বরিশালের ওই তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ফেসবুকের তথ্য পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় অপরাধীকে। সিআইডি বলছে, ফেসবুকের প্রতিটি তথ্যই আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেয় তারা। আত্মহত্যা থেকে বাঁচানোর পর ওই ব্যক্তি যাতে স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারেন, সে জন্য মানসিক সহায়তা এবং আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করছে, এমন এনজিওগুলোকে যুক্ত করা হয়। এনজিওগুলো পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে নিয়মিত খোঁজখবর রাখে, যাতে তাঁরা আর পরবর্তী সময়ে আত্মঘাতী না হন।

সিআইডির একটি সূত্র বলছে, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক একটি সেমিনার হয়। সেখানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যা প্রতিরোধে নানা মতামত তুলে ধরেন। সেখানে অনেকগুলো আইডিয়া বা ধারণা তুলে ধরেন আলোচকেরা। আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি ‘সুইসাইড প্রিভেনশন কল সেন্টার’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ধরনের একটি কল সেন্টার থাকলে আত্মহত্যা থেকে অনেককেই রক্ষা করা যাবে বলে মনে করেন তাঁরা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন