ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমালে বিনিয়োগ বাড়বে

>
আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী
আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী

আজ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে রিহ্যাবের চার দিনব্যাপী আবাসন মেলা। এই আয়োজন সামনে রেখে আবাসন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে কথা বলতে প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুদ মিলাদ

*চট্টগ্রামে আবাসন খাতের অবস্থা এখন কেমন?

আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী: ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আবাসন খাত ছিল নিম্নমুখী। ব্যাংকঋণের সুদের উচ্চহার, শেয়ারবাজার ধসসহ নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ায় সে সময় এ খাতে স্থবিরতা ছিল। তবে মূল্য সংশোধন হওয়ার কারণে ২০১৬ সাল ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। এবার আশা করছি, এ খাতে গতি ফিরবে। কারণ গৃহঋণের সুদের হার কমেছে। আগে প্রচুর প্রস্তুত ফ্ল্যাট পড়ে ছিল। কিন্তু এখন বিক্রি বাড়ায় এসব ফ্ল্যাটের সংখ্যাও কমেছে।

*আবাসন খাতে এখন প্রধান সমস্যাগুলো কী?

আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী: ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি এখনো প্রায় ১৪ শতাংশ। এতে ফ্ল্যাট কেনায় খরচ পড়ে বেশি। এই ফি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা দরকার। এটি করা গেলে বিনিয়োগের জন্যও অনেকে ফ্ল্যাট কিনবে। বেচাকেনা বাড়লে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে না। আবাসনে নতুন করে গ্যাস–সংযোগ না দিলে সমস্যা নেই। তবে চলমান যেসব প্রকল্পে গ্যাস–সংযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেগুলোতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়া উচিত। তৃতীয়ত, এ খাতের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল দরকার। গত বছরও ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছিলাম আমরা। গ্রাহক এবং আবাসন ব্যবসায়ীরাও যাতে এই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পায় সে জন্য এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আশার কথা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী এ তহবিল গঠনে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

*প্লট-ফ্ল্যাট কেনার সময় অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা হয়রানি হন বলে অভিযোগ করেন। এ ধরনের অভিযোগ বাড়ছে, না কমছে?

আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী: রিহ্যাব শুধু এর সদস্যদের প্রকল্প নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তি করে থাকে। গত ছয়-সাত মাসে ৩২টি অভিযোগ এসেছিল। এর মধ্যে ২৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলোও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এখানে একটি বিষয় বলা দরকার, এ খাতে কেউ রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত না হয়েও ব্যবসা চালাতে পারে। এটি গ্রাহকদের জন্যও সুখকর নয়। কারণ রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত না হলে প্রতিকার পাওয়ারও সুযোগ কম। এ জন্য এ খাতে ব্যবসা করতে হলে রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। সেটি করতে গেলে আইন করা দরকার। তাহলে এ খাতে নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এখন গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগের বেশির ভাগই হয় রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের থেকে। এতে ক্ষতি হচ্ছে এ খাতের।

*সম্প্রতি মালয়েশিয়ার একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও চট্টগ্রামে আবাসন মেলা আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। আবাসন খাত চাঙা না হওয়ার পরও বিদেশি প্রতিষ্ঠান কেন মেলা আয়োজনের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন?

আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী: আবাসন খাতে আমাদের এখানে বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করা যায় না। কিন্তু মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ নেই। এই অপ্রদর্শিত অর্থ ধরতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে মেলা আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। অথচ এখানে দীর্ঘ মেয়াদে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে আবাসনে বিনিয়োগের সুযোগ দিলে দেশ থেকে অর্থ পাচারও কমে যাবে। আবাসন খাতও চাঙা হবে।

* এবারের মেলায় ক্রেতাদের জন্য কী কী আকর্ষণ থাকছে?

আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী: গতবারের মেলায় সাড়ে ৯ থেকে ১০ শতাংশ হারে গৃহঋণের সুদ নিয়ে এসেছিল কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এবার ৮ শতাংশ হারে গৃহঋণের সুদ পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্রেতাদের জন্য ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ প্যাকেজও থাকছে। মেলায় এসে সেটি দেখতে পাবেন ক্রেতারা। আবার এক ছাদে আবাসনের সব সুযোগ-সুবিধা যাচাই করতে পারবেন গ্রাহকেরা।