বগুড়ায় ছাত্রলীগ নেতার রগ কেটে দিয়েছে শিবির!

আহত ছাত্রলীগ নেতা বেনজীর আহমেদকে ঢাকায় চিকিত্সার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবিটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটক থেকে তোলা।  ছবি: সোয়েল রানা, বগুড়া।
আহত ছাত্রলীগ নেতা বেনজীর আহমেদকে ঢাকায় চিকিত্সার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবিটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটক থেকে তোলা। ছবি: সোয়েল রানা, বগুড়া।

পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের নেতা বেনজীর আহমেদকে (২২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা বেনজীরের হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। এ হামলার জন্য ছাত্রলীগ শিবিরকে দায়ী করেছে। পুলিশও এ হামলার জন্য শিবিরকেই সন্দেহ করছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের সাতমাথা-শেরপুর সড়কের কানুচগাড়ি এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। বেনজীর আহমেদ কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল আলম প্রথম আলো ডটকমকে জানান, বেনজীরের বাঁ হাত ও পায়ের রগ কেটে গেছে। তাঁর শরীরের অন্যান্য আঘাত গুরুতর। তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাশরাফী হিরো জানান, তিনি হাসপাতালে বেনজীরের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে ওই  হামলা চালিয়েছে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে প্রথমে কুপিয়েছে ও পরে রগ কেটে দিয়েছে। পরে তাঁকে ফেলে রেখে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সরকারি শাহ সুলতান কলেজকেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেন বেনজীর। সেখান থেকে তিনি রিকশায় শহরের সাতমাথায় ফিরছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের কানুচগাড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা বেনজীরের রিকশা থামায়। এ সময় তারা সবার সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে আহত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বেনজীরকে প্রথমে শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এবং পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বেনজীর আহমেদ সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রামে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলম বলেন, ছাত্রলীগ নেতার ওপর এই হামলার সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িত থাকতে পারে। হামলার ধরন দেখে সন্দেহের তির শিবিরের দিকেই। অতীতেও তারা হাত-পায়ের রগ কাটার মতো হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

ছাত্রশিবিরের বগুড়া শহর কমিটির প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, শিবির এ ধরনের জঘন্য হামলায় বিশ্বাসী নয়। এ হামলার সঙ্গে শিবিরের কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই। শিবিরও হামলাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।