default-image

বছরের ছয়-সাত মাসই জলাবদ্ধ থাকে নওগাঁ জেলা ক্রীড়া সংস্থা স্টেডিয়াম। এ অবস্থায় বছরের বেশির ভাগ সময়ই খেলা বন্ধ থাকে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা-অযত্নে থাকা এই মাঠ বছরব্যাপী খেলার উপযোগী করার দাবি তুলেছেন নওগাঁর ক্রীড়ামোদী মানুষ।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মাঠ আশপাশের এলাকার চেয়ে নিচু হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আয়ের কোনো উৎস না থাকায় মাঠ সংস্কার করা হয় না। তবে এবার মাঠটি ভরাট করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে এক কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। মাঠের পানি নামলে এর কাজ শুরু হবে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রীড়া সংস্থার মাঠে পানি জমা। মাঠের ঘাসগুলো প্রায় এক হাত লম্বা হয়ে গেছে। দুজন লোক হাঁটুপানিতে নেমে ঘাস কাটছিলেন। জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেন, গরু ও ছাগলকে খাওয়ানোর জন্য ঘাস কাটছেন।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে দেখা যায়, একজন অফিস সহকারী ছাড়া আর কেউ নেই। অফিস সহকারী শামসুর রহমান জানালেন, ১৯৬৫ সালে এই স্টেডিয়াম নির্মিত হয়। প্রথম দিকে মাঠটিতে প্রায় সারা বছরই খেলা হতো। ১৬-১৭ বছর ধরে মাঠটিতে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। তিনি আরও বলেন, এক দিন ভারী বৃষ্টি হলেই এক মাস খেলা বন্ধ থাকে। পানিনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই অবস্থা হয়েছে। আশপাশের বাড়িঘর স্টেডিয়ামের চেয়ে উঁচু হওয়ায় চারপাশের সব পানি স্টেডিয়ামে এসে ঢুকে পড়ে। বছরের অধিকাংশ সময় এই অবস্থা হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ফেডারেশন, বিভাগীয় এবং স্থানীয় লীগের সব কটি খেলা মাত্র চার-পাঁচ মাসের মধ্যে শেষ করতে হয়।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত মাঠে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালোই ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে মাঠের চারপাশে বাড়িঘর নির্মাণ শুরু হলে মাঠটির পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, চারপাশের এলাকার চেয়ে মাঠটি অনেক নিচু জায়গায়।
মাঠের এই করুণ অবস্থায় হতাশ স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। নওগাঁর বাসিন্দা সন্দ্বীপ সাহা বলেন, ‘আগে স্কুলে পড়ার সময় আমরা এই মাঠেই খেলাধুলা করতাম। কিন্তু এখন আমার ছেলে-মেয়েরা আর এই মাঠে যেতে পারে না। যে চার মাস মাঠ ভালো থাকে, সে সময়ে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের জেলা ও বিভাগীয় লীগের খেলা হয়। এ ছাড়া নওগাঁর বিভিন্ন মেলাও এই মাঠেই হয়।’
স্থানীয় ফুটবলার আলমগীর হোসেন বলেন, নওগাঁয় একটি মাত্র স্টেডিয়াম। তাও সেটি বছরের অধিকাংশ সময় খেলার অনুপযোগী থাকে। শহরের কয়েকটি বিদ্যালয়ে মাঠ রয়েছে। ছোট হলেও এখন সে মাঠগুলোতেই অনুশীলন করতে হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন