রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এফ আর টাওয়ারের জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুককে (৬৫) আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। শনিবার দিবাগত রাতে তাঁকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। 

গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি গোলাম সাকলাইন সিথিল প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, শনিবার রাত দেড়টার দিকে ফারুককে আটক করা হয়। তাঁকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে।    

এর আগে একই অভিযোগে এফ আর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলামকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বারিধারার বাসা থেকে তাসভিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানায় ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সাজাহান সাজু। তিনি বলেন, এফ আর টাওয়ারে আগুনের হতাহত হওয়ার ঘটনায় বনানী থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাসভির উল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত বনানীর আগুনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন। আরও বহু লোক গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোশতাক আহমেদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বনানীর আগুনের হতাহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তিন আসামি হলেন প্রকৌশলী ফারুক হোসেন, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এবং বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম।

ভবনটি অনিরাপদ ছিল কেন—এমন প্রশ্নে ঘুরেফিরে অভিযোগ উঠেছে ভবনমালিক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও রাজউকের বিরুদ্ধে। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজউক জানায়, ভবনটির অনুমোদন ছিল ১৮ তলার, সেটি ২৩ তলা পর্যন্ত উঠে গেছে। তবে কীভাবে তা ২৩ তলা হয়ে গেল, তার সমর্থনে নথিপত্র রাজউকের নথিতে নেই। পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীও প্রশ্ন তুলেছেন, গত ১৪ বছর বিষয়টি জেনেও কেন রাজউক চুপ করে ছিল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামও বলছেন, বহুতল ভবনে অনিয়মের ব্যাপারে তাঁরা এখন জিরো টলারেন্স। এখন আর কথা বলার সময় নেই। এখন অ্যাকশনের সময়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন