বর্ষায় বাজারে বাহারি ফল, পুষ্টিগুণে ভরা

হাতিরপুল বাজারে লটকন বিক্রি হচ্ছে। ছবি: মোছাব্বের হোসেন
হাতিরপুল বাজারে লটকন বিক্রি হচ্ছে। ছবি: মোছাব্বের হোসেন

বাংলা মাস আষাঢ়ের শেষ সময় এখন, ভরা বর্ষা। বর্ষার মৌসুমে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের মৌসুমি ফল। পুষ্টিবিদেরা জানালেন, বর্ষার ফল পুষ্টিগুণে ভরা। বাজারে ফলের বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য ফলের চেয়ে মৌসুমি ফলের সরবরাহ ও চাহিদা দু-ই বেড়েছে

রাজধানীর অন্যতম ফলের বাজার হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে লটকন, আমড়া, জাম্বুরা, জামরুল, পেয়ারা, ডেউয়া পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে আছে এ সময়ের নানা জাতের আম। আছে কাঁঠালও।
হাতিরপুলে পরপর তিন দোকানে একই লটকন বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন দামে। মো. সাগর নামের এক বিক্রেতা লটকন বিক্রি করছেন ১৬০ টাকায়, তাঁর পাশের দোকানে রাজা মিয়া ১৪০ টাকায় আর তাঁর ঠিক পাশের দোকান মো. ফারুক বিক্রি করছেন প্রতি কেজি লটকন ১৫০ টাকায়। তিন দোকানে তিন রকম দাম দেখে হাতিরপুলের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘এক লটকন তিন দোকানে তিন দাম। সবাই বলে তার ফলটাই ভালো। অথচ কোনো পরিবর্তন দেখি না। কম দামে যেখানে পাব, সেখান থেকেই কিনব।’

আমড়া পাওয়া যাচ্ছে সব বাজারে। ছবি: মোছাব্বের হোসেন
আমড়া পাওয়া যাচ্ছে সব বাজারে। ছবি: মোছাব্বের হোসেন

ফল বিক্রেতা আমিনুর রহমান বলেন, এখন মৌসুমি ফলের চাহিদা ও সরবরাহ বেড়েছে। মানুষও কিনছে।
এই বাজারে আমড়া ১০০ টাকা, পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, জাম্বুরা প্রতিটি ৮০ টাকা, আনারস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, জামরুল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ডেউয়া ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
হাতিরপুলের আল্লাহর দান স্টোরে দেখা গেল কয়েক ধরনের আমের পসরা বসিয়েছেন বিক্রেতা মো. মিনার। তিনি জানালেন, এখন আমের চাহিদাই বেশি। তাই আমই বিক্রি করছেন তিনি। তিনি আম্রপালি কেজি ১০০ টাকা, ফজলি ৮০ টাকা, ল্যাংড়া ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

জামরুল। ছবি: মোছাব্বের হোসেন
জামরুল। ছবি: মোছাব্বের হোসেন

বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সাবেক প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান আখতারুন্নাহার আলো বলেন, লটকনে ভিটামিন ‘সি’ আর ‘এ’ আছে। এই ভিটামিন চুল, দাঁত ও ত্বকের জন্য ভালো। এ ছাড়া আমড়া ও জাম্বুরাতে ভিটামিন সি আছে। এই ফলও শরীরের জন্য উপকারী।
কারওয়ান বাজারেও মৌসুমি ফল বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম হাতিরপুল থেকে কিছুটা কম। মো. রফিক নামের বিক্রেতা লটকন ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। এ ছাড়া জাম্বুরা ও পেয়ারা ৬০ টাকা, আমড়া ৮০ টাকা, আম্রপালি আম ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তাঁর দোকানে ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা। এক বিক্রেতাকে রফিক বলছেন, ‘এটাই শেষ লিচু। কালকে থেকে আর লিচু পাইবেন না। আর গুলশানে এই লিচু কিনতে চাইলে তিন হাজার টাকা দেওন লাগবে।’ ক্রেতা দাম শুনে আর কিনলেন না। তিনি জাম্বুরা আর লটকন কিনলেন। ধানমন্ডির বাসিন্দা এই ক্রেতা মো. বদরুদ্দোজা বলেন, আম, কাঁঠাল তো আগেই কিনেছি। এখন মৌসুমি ফল কিনছি। এই ফল তো সব সময় পাওয়া যায় না। তাই শেষ হওয়ার আগেই নিয়মিত কিনছি।

১০০ লিচুর দাম ৯০০ টাকা। ছবি: মোছাব্বের হোসেন
১০০ লিচুর দাম ৯০০ টাকা। ছবি: মোছাব্বের হোসেন

মৌসুমি ফলের পুষ্টি নিয়ে কথা বলেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান (খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগ) শামসুন্নাহার নাহিদ। তিনি বলেন, বর্ষার সব মৌসুমি ফলেরই পুষ্টিগুণ ভালো। তিনি জানান, এই ফলগুলো কম ক্যালরি-সম্পন্ন। যাঁরা খেতে ভালো বাসেন, তারা খাবারের পর এই ফলগুলো খেতে পারেন। এ ছাড়া যাঁরা খাবার কম খেয়ে ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্যও এই ফলগুলো ভালো। এই ফলগুলোতে পানির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে এতে উচ্চ মিনারেল, আয়রন, যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তাই তিনি সময় শেষ হওয়ার আগে এসব মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন।