বিজ্ঞাপন

হাবীবুল্লাহ সিরাজী তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে ২০১৮ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। চলতি বছর করোনা সংক্রমণের কারণে অমর একুশের গ্রন্থমেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ছিল। নির্ধারিত সময় ফেব্রুয়ারিতে মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাঁর বিশেষ উদ্যোগে গত ১৮ মার্চ থেকে মেলা শুরু হয়েছিল।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী অনেক দিন থেকে কোলন ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে রিং পরানো হয়েছিল। প্রবল পেটব্যথা হলে গত ২৫ এপ্রিল তাঁকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো উন্নতি হয়নি।

আজ সকাল পৌনে ১০টায় কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মরদেহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমিতে আনা হয়। বটতলার নজরুল মঞ্চে পুষ্পস্তবক নিবেদন করে অন্তিম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও সচিব মো. বদরুল আরেফীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) কবি মুহাম্মদ সামদ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলা একাডেমির সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এ এইচ এম লোকমানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রয়াত মহাপরিচালককে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অসীম কুমার উকিল, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, গোলাম কুদ্দুছের নেতৃত্বে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, তারিক সুজাতের নেতৃত্বে জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর সিকদার, রাইটার্স ক্লাবের পক্ষে মুহম্মদ নূরুল হুদা শ্রদ্ধা জানান। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদ, ছোটকাগজ শালুকের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, চলচ্চিত্রজন জাঁ নেসার ওসমান, আইনজীবী সাহিদা বেগম, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, রেজানুর রহমান, শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন, রহীম শাহসহ অনেকই হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাংলা একাডেমিতে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রথম জানাজা পরিচালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক হাসান কবীর। এ সময় প্রয়াত হাবীবুল্লাহ সিরাজীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একাডেমিতে তাঁর প্রথম জানাজা শেষে বেলা ১১টার দিকে দাফনের জন্য আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী পেশায় ছিলেন প্রকৌশলী। তবে কবি হিসেবেই তিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। ফরিদপুরের রসুলপুরে তাঁর জন্ম ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর। বাবা আবুল হোসেন সিরাজী, মা জাহানারা বেগম। ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক ও রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক ডিগ্রি নেন।
ছাত্রজীবন থেকেই হাবীবুল্লাহ সিরাজী সাহিত্য চর্চা করতেন। কবিতাই তাঁর প্রধান ক্ষেত্র। তবে অনুবাদ, প্রবন্ধ, শিশুতোষ রচনা আর উপন্যাসও রচনা করেছে তিনি। গত শতকের আশির দশকে জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৩০টির বেশি। এ ছাড়া ছড়া, উপন্যাস, প্রবন্ধ, অনুবাদ মিলিয়ে গ্রন্থসংখ্যা অর্ধশতাধিক। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘দাও বৃক্ষ দাও দিন’, ‘নোনা জলে বুনো সংসার’, ‘সিংহদরজা’, ‘সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না’, ‘স্বপ্নহীনতার পক্ষে’, ‘একা ও করুণা’, ‘কবিরাজ বিল্ডিংয়ের ছাদ’ ইত্যাদি।

সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য হাবীবুল্লাহ সিরাজী একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, বিষ্ণু দে পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন