লি জিমিং বলেন, বেশ ধুমধাম করেই যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত ‘তথাকথিত’ গণতন্ত্র সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অর্ধেক মানুষ যখন এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তখন চীন অন্য একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। প্রকৃত গণতন্ত্র কী? যুক্তরাষ্ট্র কি গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করার যোগ্যতা রাখে? আর কীভাবে একটি গণতন্ত্রকে বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়ন করতে হবে? তিনি বলেন, প্রায়ই ক্ষমতার পালাবদলের সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে গণতন্ত্রকে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। তবে চীন বিশ্বাস করে, একটি দেশে গণতন্ত্র আছে কি না, সেটা নির্ভর করে তার জনগণ সত্যিকার অর্থে সে দেশের মালিক কি না, তার ওপর। জনগণকে শুধু ভোট দেওয়ার জন্য সক্রিয় করে তোলা হলো এবং প্রচারণার সময় নাচগান করার সুযোগ পেল কিন্তু ভোটের পর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ল; নির্বাচনের পর তাদের কোনো মতামত থাকলেও তারা উপেক্ষিত হলো, তবে এমন গণতন্ত্র অবশ্যই প্রকৃত গণতন্ত্র নয়।

লি জিমিং বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্র শব্দটির প্রাচীন গ্রিক মূল শব্দে ফিরে তাকাই, এর অর্থ পাই জনগণের শাসন। অতএব একটি দেশ গণতান্ত্রিক কি না, সেটির বিচার করবে সে দেশের জনগণ। বাইরের কোনো বৈশিষ্ট্য দিয়ে তাকে বিচারের সুযোগ নেই।

একইভাবে বিশ্ব যেহেতু বৈচিত্র্যময়, একপেশে দৃষ্টিকোণ থেকে সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবজাতির বিভিন্ন সভ্যতাকে বিচারের জন্য একই মানদণ্ড ব্যবহারের প্রক্রিয়াটিই অগণতান্ত্রিক। সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণের সমন্বিত প্রক্রিয়ায় জনগণের গণতন্ত্রের সামগ্রিক বিকাশে চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের গল্পটিও এক। দেশটি আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। যে দেশে একটি সরকারের যখন ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তখন তা যদি গণতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত না হয়, তাহলে হয়তো গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটি পুনর্মূল্যায়ন করার অথবা এই সংজ্ঞার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন