বাবুই বাটান

পাবনা জেলার পদ্মার এক চরে বাবুই বাটান পাখি l ছবি: লেখক
পাবনা জেলার পদ্মার এক চরে বাবুই বাটান পাখি l ছবি: লেখক

গত এপ্রিলে বিরল ও দুর্লভ পাখির সন্ধানে আলোকচিত্রী কিরণ খানকে নিয়ে কুষ্টিয়ার তালবাড়ী দিয়ে পদ্মা নদীতে যাই। প্রথমেই কুষ্টিয়ার যে চরে নামলাম, সেখানেই টানা টানা চোখের আদুরে ও মায়াবী এই পাখির দেখা পেলাম। মনভরে ওদের দেখলাম আর প্রাণভরে ছবি তুললাম। যদিও প্রজনন মৌসুম, কিন্তু মাত্র ছয়টি পাখির দেখা পেলাম এখানে। এরা ঝাঁকে থাকলেও কুষ্টিয়ার চরে কোনো ঝাঁকের সন্ধান পেলাম না। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে পাবনার চরে পৌঁছালাম। এ চরে একটি ঝাঁকের দেখা পেলাম, মাত্র ১২-১৪টি পাখি ছিল সেই ঝাঁকে। সারাটা দিন ওদের নিয়ে ভালোই কাটল।
গত সেপ্টেম্বরে মেঘের দেশ রাঙামাটির সাজেক গিয়েছিলাম। সাজেক থেকে যাই রাঙামাটি। মারিশ্যা থেকে কাসালং নদী যেখানে কাপ্তাই লেকের সঙ্গে মিশেছে, ঠিক তার খানিকটা আগে খাটো পা, খাটো লেজ ও লম্বা ডানার আদুরে ও দুষ্ট পাখিটির সঙ্গে ফের দেখা হলো। নদীতীরে ভরদুপুরে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। ওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বেশ মায়া লাগছিল। চলন্ত ট্রলার থেকে ছবি তোলা কিছুটা কঠিন। মাত্র দুটি ছবি তুলতে পেরেছিলাম।
আদুরে এই পাখিটি এ দেশের আবাসিক পাখি বাবুই বাটান (Small Pranticole, Little Pranticole or Small Indian Pranticole)। ছোট বাবুই বাটান বা পুটুলে চ্যাগা নামেও পরিচিত। Glareolidae গোত্রের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Glareola lactea.
বাবুই বাটান আকারে চড়ুই পাখির চেয়ে কিছুটা বড়। ঠোঁটের আগা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত লম্বায় ১৭ সেন্টিমিটার এবং ওজনে ৪২ গ্রাম। দেহের ওপরের অংশ বালু-ধূসর ও নিচের অংশ সাদাটে। গলায় আবছা ডোরা থাকে। ডানার আগা কালো। লেজ সাদা ও অগ্রভাগ কালো। চোখ কালচে-বাদামি এবং চোখের চারদিকে সাদা বলয় থাকে। ঠোঁট কালো। পা খাটো ও কালো। প্রজননকালে স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেেষ উভয়ের ঠোঁটের গোড়া লাল হয়ে যায়।
সচরাচর দৃশ্যমান বাবুই বাটান সারা দেশের নদীতীরবর্তী এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল ও বড় হ্রদ ইত্যাদি এলাকায় বাস করে। এরা সাধারণত ঝাঁকে বিচরণ করে। দাঁড়ানো বা উড়ন্ত যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন সামনে দিয়ে কোনো কীটপতঙ্গ, পাখাওয়ালা উঁই, গুবরেপোকা ইত্যাদি উড়ে যেতে দেখলে মোহনীয় ভঙ্গিতে ধরে খায়। সচরাচর ‘টাক-টাক-টাক...’ স্বরে ডাকে।
ফেব্রুয়ারি-জুন মাসে প্রজননকালে বাবুই বাটান নদীতীরে বা খোলা মাঠে বালুতে বাসা বানায়। স্ত্রী তাতে দু-চারটি হালকা ধূসর-বাদামি বা ধূসর ডিম পাড়ে। এই রঙের ওপর লালচে-বাদামি ফোঁটা থাকে। ফোটার ২২-২৩ দিন পর বাচ্চারা উড়তে শেখে। তবে স্বাবলম্বী হতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লেগে যায়।