বিজ্ঞাপন

এর শাস্তি হিসেবে আইনে বলা আছে, আইনভঙ্গকারী অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

যে দোকানে ওই লিফলেট ধরনের নোটিশটি ঝুলিয়ে রাখা, তার দোকানিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিগারেট কোম্পানি ঝুলাইয়া দিয়া গেছে।’ আইনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

যে সিগারেট ব্র্যান্ডের বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স শেখ শাবাব আহমেদ এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেটা দেওয়া হয়েছে, তা কেবলমাত্র বিক্রেতার জন্য। এটা আমাদের ব্যবসায়িক যোগাযোগের অংশ।

কোনো বিজ্ঞাপন বা ধূমপায়ীকে কেন্দ্র করে করা হয়নি। আইনে বলা আছে, বিজ্ঞাপন করা যাবে না। এটা বিজ্ঞাপন নয়। বিক্রেতাকে জানানোর জন্য যে নতুন প্যাকেটের নকশার পরিবর্তন হয়েছে।’

দোকানে ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে বলেন, ‘ওটা রিটেইলার করে থাকতে পারেন। আমরা ঝুলাইনি। আমরা চিঠি দিয়েছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন ভাঙিনি।’
তবে আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে জানান তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে, ব্যবসায়িক প্রবর্ধনের জন্য যেকোনো উপায়ে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, এটাও তাদের প্রচারের একধরনের কৌশল। তারা যে আকারে এবং যেভাবে নকশা করে সাজিয়েছে, সেটাই নিষেধ। এটা তারা করতে পারে না। এটা সম্পূর্ণভাবে আইনের লঙ্ঘন। ওটা চিঠির ফরম্যাট নয়। ওটা করাই হয়েছে ঝুলিয়ে রাখার জন্য। এটা একটা পরোক্ষ বিজ্ঞাপন।

আইনের বিষয়ে এ বি এম জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের আইনটি শক্তিশালী কিন্তু প্রয়োগে ঘাটতি আছে।’

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এগুলোও বিজ্ঞাপনের একধরনের কৌশল। তারা যা লিখেছে, তা চোখের নাগালে রাখার কথা নয়। কিন্তু ওই নোটিশ দোকানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। এটা আইনের লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, আইনের প্রয়োগের বিষয়ে তাঁরা পদক্ষেপ নেবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন