বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে প্রথম ধাপে ৪৩টি, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬টি, তৃতীয় ধাপে ১০০টি এবং চতুর্থ ধাপে ৪৮টি ইউনিয়নে ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতেই চেয়ারম্যান পদে ভোটের দরকার হচ্ছে না। বাকি ১৮টি ইউনিয়ন ফেনী সদর উপজেলা, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চাঁদপুরের কচুয়া, ঢাকার সাভার এবং মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আওতাধীন।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাজীপুরের ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে মোট ৫৩০টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছিল। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৭টি, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩২টি এবং সাধারণ সদস্যপদে ৩৮১টি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর দেখা যাচ্ছে চেয়ারম্যান পদে ১১ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন সোনামুখী ইউনিয়নে শাহজাহান আলী খান, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নে আতিকুর রহমান, গান্ধাইল ইউনিয়নে গোলাম হোসেন, শুভগাছা ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দিন, কাজীপুর ইউনিয়নে কামরুজ্জামান, মাইজবাড়ী ইউনিয়নে শওকত হোসেন, খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নে জহুরুল ইসলাম, চরগিরিশ ইউনিয়নে এস এম জিয়াউল হক, নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নে আবদুল মান্নান, তেকানী ইউনিয়নে হারুনার রশিদ এবং নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নে খাইরুল ইসলাম। এখন কেবল মনসুরনগর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে ভোটের মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী খলিল মুন্সি।

ফেনী সদর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নেও বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ নিয়ে জেলায় ২১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোটের প্রয়োজন হলো না।

ফেনী সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পঞ্চম ধাপে ফেনী সদর উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন কাজিরবাগ ইউনিয়নে কাজী বুলবুল আহমেদ, শর্শদী ইউনিয়নে মো. জানে আলম ভূঁঞা, ধর্মপুর ইউনিয়নে শাখাওয়াত হোসেন, মোটবী ইউনিয়নে মো. হারুন উর রশিদ, ফাজিলপুর ইউনিয়নে মো. মজিবুল হক রিপন, কালীদহ ইউনিয়নে মো. দেলোয়ার হোসেন, ফরহাদ নগর ইউনিয়নে মোশারফ হোসেন ও বালীগাঁও ইউনিয়নে মোজাম্মেল হক।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে হিরণ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাজাহারুল আলম, কলাবাড়ী ইউনিয়নে বিজন বিশ্বাস এবং কুশলা ইউনিয়নে সুলতান মাহমুদ চৌধুরী।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খায়রুল হাসান বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে এই তিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আর লাগছে না। নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, বৈরাগ ইউনিয়নে নোয়াব আলী, বটতলী ইউনিয়নে এম এ মান্নান চৌধুরী, বারখাইন ইউনিয়নে হাসনাইন জলিল চৌধুরী, চাতরী ইউনিয়নে আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আবদুস সালাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।

ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফখরুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে একজনই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

এ ছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জাহিদ খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

প্রতিটি ধাপে ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতার বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, পুরো নির্বাচনব্যবস্থাটিই এখন কলুষিত হয়ে গেছে। যারা প্রভাব খাটিয়ে বা মনোনয়ন–বাণিজ্যের মাধ্যমে মনোনয়ন পান, তাঁরা আবার তাঁদের বিনিয়োগটি যাতে বিফলে না যায়, সে জন্য বিভিন্ন কৌশলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে চান। এখন সেটাই ঘটে চলেছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার; প্রতিনিধি, ফেনী; চাঁদপুর, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রামের আনোয়ারা প্রতিনিধি]

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন