মেহেরপুর জেলা পরিষদের সামনে নির্মিত শহীদ স্মৃতিফলকে জেলার একমাত্র বীর প্রতীক শহীদ ওয়ালিল হোসেনের নাম নেই। অথচ স্বাধীনতার ২৩ বছর পর মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলীর নাম রয়েছে তালিকায়।
২০০৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মেহেরপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ফলকটি তৈরি করা হয়। এতে ৪২ জন শহীদের নাম রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা আতাউল হাকিম বলেন, ওই স্মৃতিফলকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস তরুণ সমাজের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, শহীদ ওয়ালিল হোসেন আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমায় কর্মরত ছিলেন। তিনি শিকারপুর সাবসেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। কুষ্টিয়া যুদ্ধেও (৩০ মার্চ-১ এপ্রিল) তিনি অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধে সাহস, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের জন্য ওয়ালিল হোসেনকে মরণোত্তর বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী, তাঁর বীরত্বভূষণ সনদ নম্বর ১৬৩। গেজেটে তাঁর নাম ওয়ালিল হোসেন। কিন্তু প্রকৃত নাম ওয়ালিউল হোসেন।
ওয়ালিল হোসেনের বাড়ি সদর উপজেলার মোনাখালী গ্রামে। তাঁর বাবার নাম কানাই শেখ, মা আলফাতুন নেছা। স্ত্রী জোবেদা খাতুন। তাঁর দুই মেয়ে। আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষ তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য গাজীপুরের সফিপুর আনসার একাডেমির তৃতীয় গেটের নামকরণ করেছে ‘বীর প্রতীক ওয়ালি গেট’।
ওয়ালিল হোসেনের ছোট মেয়ে হাদিসা খাতুন বলেন, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েও তাঁর বাবার নাম স্মৃতিফলকের তালিকায় নেই। তিনি এ ফলক সংশোধন করে তাঁর বাবার নাম যুক্ত করার দাবি জানান।
অপরদিকে দেশ স্বাধীনের ২৩ বছর পর মারা যান মেহেরপুর সদরের গোভিপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলী। তবে জেলা পরিষদের সামনের ফলকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
গোভিপুর গ্রামের লিয়াকত মণ্ডলসহ কয়েকজন বলেন, আক্কাস আলী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি বুড়িমারী সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেন। তবে তিনি শহীদ হননি। তিনি মারা গেছেন ১৯৯৪ সালে।
আক্কাস আলীর স্ত্রী ফেলুজান খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামী আক্কাস আলী মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি ফিরে আসেন গ্রামে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালো ছিলেন। বেশ কয়েক বছর পর তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হননি।
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বশির আহমেদ বলেন, জেলা পরিষদের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের যে স্মৃতিফলক তৈরি করা হয়েছে, সে তালিকার অনেকে শহীদ হননি। আবার জেলার একমাত্র বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া শহীদ ওয়ালিল হোসেনের নাম নেই। এ তালিকা নিয়ে অনেকবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ফলকটি ভেঙে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা দিয়ে ফলক তৈরির দাবি করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, তালিকাটি কারা তৈরি করেছেন, তিনি জানেন না। তবে তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।