বড়দের টিকিটে শিশুরা!

পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশন কাউন্টারে শিশুদের জন্য কোনো টিকিট নেই। এর ফলে কোনো যাত্রীর সঙ্গে শিশু থাকলে শিশুটির জন্যও বেশি দামের বড়দের টিকিট কিনতে তিনি বাধ্য হচ্ছেন। অথচ রেলের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি স্টেশনে বড়দের চেয়ে ৩৪ শতাংশ কম দামে শিশু যাত্রীদের জন্য টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা।
ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে গত শনিবার ঢাকায় যাওয়ার জন্য এসেছিলেন উপজেলার মুলাডুলির পূর্ব শেখপাড়া গ্রামের কৃষি খামারি ওমর ফারুক। তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে ছিল সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে ও অন্য দুই সদস্য। বাইপাস স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দুটি প্রাপ্তবয়স্ক (বড়) ও একটি শিশু টিকিট চাইলে শিশুদের টিকিট হবে না বলে বুকিং কাউন্টার জানিয়ে দেন। পরে তিনটিই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের টিকিট কিনতে বাধ্য হন তিনি।
ঈশ্বরদী নাগরিক মঞ্চের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, বাইপাস স্টেশনে শিশু টিকিট না পেয়ে সম্প্রতি তাঁর সাত বছরের ছেলের জন্য ৮০ টাকা বেশি দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত টিকিট কাটতে বাধ্য হয়েছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঢাকামুখী তিনটি আন্তনগর যাত্রীবাহী ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়। এ স্টেশনে যাত্রীদের প্রচুর চাপ। তবে আসনসংখ্যা সীমিত। এই তিন ট্রেনে এ স্টেশন থেকে যাত্রীদের জন্য আসন বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৬৯টি। এর মধ্যে সিল্কসিটিতে ৩৪, পদ্মা এক্সপ্রেসে ২৫ ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে ১০টি আসন। এই বরাদ্দ আসনের প্রতিটিতে ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুদেরও টিকিট বিক্রির বিধান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ স্টেশন কাউন্টারে শিশুদের টিকিট বিক্রি করা হয় না। উপায় না থাকায় শিশুদের জন্য বেশি টাকায় প্রাপ্তবয়স্ক লোকজনের নির্ধারিত টিকিটই কিনতে হয়।
ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের মাস্টার আলাউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, টিকিট কাউন্টারের বুকিং সহকারী এ সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন।
বুকিং সহকারী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাইপাস স্টেশন থেকে শুধু দ্রুতযান ট্রেনে শিশুদের টিকিট নেই। অন্য ট্রেনের রয়েছে। তবে শিশু টিকিট খুব একটা বিক্রি হয় না। বিক্রি না হওয়ায় পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হয়। টিকিট নষ্ট হওয়ায় ওপর থেকে (অডিট বিভাগ) আপত্তি তোলা হয়। তাই শিশুদের টিকিট রাখা হয় না।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের কেন্দ্রীয় গার্ড (ট্রেন পরিচালক) কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুরা ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম টাকায় টিকিট কিনবে, যা অপ্রাপ্ত বা শিশু টিকিট হিসেবে বিবেচিত। অনিবার্য কারণে কাউন্টারে টিকিট না পাওয়া গেলে স্টেশনের বুকিং সহকারী নিজ দায়িত্বে হাতে (রেলের নির্ধারিত ফরমে) লিখে যাত্রীকে টিকিট তৈরি করে দেবেন। এটি রেলওয়ের প্রচলিত নিয়ম।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের এসিও আবদুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পাকশীর দপ্তর থেকে তাঁদের ১১৪টি স্টেশনে টিকিট বিক্রিসহ বাণিজ্যিক বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। টিকিট ছাপা হয়ে আসে চট্টগ্রাম থেকে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো বিভিন্ন স্টেশনে পাঠানো হয়। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে অপ্রাপ্তবয়স্ক টিকিট বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।